মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। — ফাইল চিত্র।
‘‘জগন্নাথ দেবের রথ পরিষ্কার করার মতো রাস্তা পরিষ্কার করতে করতে চলে যাবেন ভোটকেন্দ্রে।’’
‘‘আসানসোলে অনেক সংস্থা আসছে। আসানসোল-রানিগঞ্জ লজিস্টিক্যাল হাব হবে। এখানকার ছেলে-মেয়েরা যাতে কাজের সুযোগ পায়। অনেক শিল্পপতি কাজ করছেন। রানিগঞ্জের মানুষের জন্য বাড়ি বানিয়ে রেখেছি, যাতে ধসে কারও প্রাণ না যায়। আপনাদের ক্ষতিপূরণ দেওয়া হবে। শিফটিংয়ের খরচ দেওয়া হবে। ডেউচা পাঁচামি তৈরি করছি। এক লক্ষ লোকের চাকরি হবে।’’
‘‘কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মীদের বলছে, ভোট দিতেই হবে। সন্ত্রাস করছে।’’
‘‘জেলা থেকে জেলা ঘুরছি। চেষ্টার ঘাটতি নেই। যাদের ভোটাধিকার বাদ গেছে, তাদের জন্যও চেষ্টা থাকবে।’’
‘‘আমরা সব ধর্মের সমন্বয়ে বিশ্বাস করি। আপনাদের ধর্ম মানে হিংসা। ভোটের সময় সব নাম কেটে দেন। অনেক সহ্য করেছি। করে যাব সহ্য। কারণ ভোটটা জিততে হবে। আবার জিতবে বাংলা।’’
‘‘দেশের গণতন্ত্র, সংবিধান বাঁচাতে হবে। ইডি-সিবিআই দেখালে ভয় পাবেন না। টাটা-বাই বাই করবেন। বিজেপি নেতাদের এত চুরি-ডাকাতি, কেউ গ্রেফতার হয়েছে? সব ধোওয়া তুলসীপাতা। ভাজা মাছ উল্টে খেতে জানে না। অত্যাচার করছো কেন?’’
‘‘বলে আয়ুষ্মান ভারত করতে দেয়নি। কেন দেব? কারও পাকা বাড়ি, স্কুটার, ফোন থাকলে পাবেন না।’’
‘‘বলে বিহারে অনেক মাছ উৎপাদন হয়। ওখানে কাউকে মাছ খেতে দেয় না। তাই রফতানি করে। এখানে সবাই সব খেয়ে নেয়।’’
‘‘ভোট আসলেই ভয় দেখাতে হবে। বাংলার অফিসারদের বাইরে পাঠাবে। বিজেপির লোকদের বেছে বেছে আনছে। ভোটের দিন মা-বোনদের ব্যাগ চেক করবে। আপনারা লড়াই করতে পারবেন তো?’’
‘‘লড়তে হলে আমার সামনে বোসো। সব এজেন্সিকে নিয়ে এসো। সব দিল্লি কা লাড্ডু। বাংলায় নাড়ু হয়। ৪ তারিখ ফল। তার পরে চার হাঁড়ি নাড়ু পাঠাব।’’
‘‘অনুপ্রবেশকারী কারা? এখানে আশ্রয় দিয়ে কাকে কাকে রাখা হয়েছে বলব? বিএসএফ ওদের অধীনে। সরকারে থেকেও অত্যাচারিত হতে হয় আমাকে। সিপিএমের আমলেও হয়েছে। সকাল থেকে সন্ধ্যা অত্যাচারিত হই। রাস্তা, আবাস, ১০০ দিনের কাজের টাকা বন্ধ। চা বাগানের পাট্টা আমি দিয়েছি। এক জন প্রধানমন্ত্রী এত কী ভাবে মিথ্যা বলেন? আমরা যা বলি, তা করি।’’
‘‘রানিগঞ্জে ধস নেমে ধুলিস্যাৎ হচ্ছে। কয়লার পাহারাদার তোমরা। তোমার সিআইএসএফ পাহারা দেয়। তৃণমূল কী করে চোর হল? তোমাদের নেতা, মন্ত্রীরা মাসে মাসে কোটি কোটি টাকা তুলে নিয়ে যায়।’’
‘‘প্রধানমন্ত্রী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর চেয়ারের দাম রয়েছে। এ সব কথা বলেন কী করে? বিজেপির নেতারা কানে কানে কথা বলে। সত্যি বলে না। ধোঁকা দেয়। সব শিল্প বন্ধ হয়ে গেছে। বড় কথা! ২০২১ সালের আগে চায়ের বাগান বলেছিলে অধিগ্রহণ করবে, একটাও করেছো? ডানলপ অধিগ্রহণ করব বলে প্রস্তাব পাঠিয়েছিলাম ২০১৬ সালে। এখনও কিছু করোনি। এখনও কর্মীদের মাসে ১০ হাজার টাকা দিতে হয়।’’
‘‘তোমার দিল্লি সরকার বদলাব। বলেছিলেন, ব্যাঙ্কে ১৫ লক্ষ টাকা দেবে। কেউ পেয়েছেন? বলেন, বছরে ২ কোটি চাকরি দেবেন। এখন বাংলায় এসে বলছেন, সব শূন্যপদ পূরণ করবে। রেলে গ্যাংমান নিয়োগ করেছেন? প্রতিরক্ষা মন্ত্রকে শূন্যপদ পূরণ করেছেন? রেল বাজেট তুলে দিয়েছেন। চিত্তরঞ্জন লোকোমোটিভ শেষ হয়ে যাচ্ছিল। আমরা করেছি। অন্ডাল বিমানবন্দর আমরা করেছি। আসানসোল-দুর্গাপুর নতুন জেলা, পুলিশ কমিশনার করে দিয়েছি। কোনও দুর্যোগে কি আসেন? হিংসা করাতে আসেন। ভোটের সময় বসন্তের কোকিলের মতো আসে। তার পরে জিনিসের দাম বাড়ায়।’’
‘‘হিন্দু ধর্ম মানে মানবিকতা। হিংসা নয়।’’
‘‘ব্যাঙ্কের অ্যাকাউন্ট নম্বর চাইলে কেউ দেবেন না। যা আছে, নিয়ে নেবে। কালো টাকা ঢুকিয়ে ইডি, সিবিআই দেখাবে। ওরা কোনও কেসের ফয়সালা করতে পেরেছে? সুপ্রিম কোর্ট বলেছে ওদের তোতাপাখি।’’
‘‘আগামী দিনে গ্যাস বন্ধ করে দেবে। রেস্তরাঁ, হোটেল বন্ধ হয়ে যাবে। পেট্রলের দাম বাড়াবে। এনআরসি করবে। বাংলাকে টুকরো টুকরো করবে। আমি থাকতে এনআরসি হবে না। কাউকে বাংলা ছড়া হতে দেব না।’’
‘‘যারা গদ্দার হয়, তাদের মানুষ চিরকাল গদ্দার বলে। চরিত্র হারালে ফিরে পাওয়া যায় না। আমাকে তো দমাতে পারেনি! বিজেপ এজেন্সি নিয়ে এসেছে। দিল্লির লাড্ডু। বাংলায় জিতে দিল্লি যাব।’’
‘‘আমি ওদের মতো দোষ করলে গঙ্গায় ডুবতাম। লজ্জা নেই। মিথ্যা বলে, লুট করে। সঙ্গে এসেছেন মোটাভাই। তাঁর সঙ্গে এল ইডি, সিবিআই। সব প্রার্থী, মিনিস্টারদের ভয় দেখাচ্ছে, সিট কম থাকলে তুমি সমর্থন কোরো। আমি সব খবর রাখি। কাকে ফোন করছেন জানি।’’
‘‘ওদের কাজ এনআরসি করা! ওরা নাকি চার্জশিট দিয়েছে আমাদের বিরুদ্ধে। আমি চার্জশিট দিচ্ছি ওদের বিরুদ্ধে। এই ভোটারদের ভোটে জিতে প্রধানমন্ত্রী হয়েছেন, আগে ইস্তফা দিন। ২০২৪ সালে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী হয়েছেন, পদত্যাগ করুন। লজ্জা! ধিক্কার!’’
‘‘এখানে মুসলিমরা অনুপ্রবেশকারী! দুবাই গিয়ে কোলাকুলি কী করে করেন? সৌদি আরবে গিয়ে এক সঙ্গে কী ভাবে খান? বাংলায় এসে বুজরুকি! ওদের কোনও ধর্ম নেই। ভোট কাটা, হিংসা করা।’’
‘‘আসানসোল, রানিগঞ্জ, কুলটিকে কিছু দিয়েছে?’’
‘‘সুনার বাংলা করলে উত্তরপ্রদেশ, মধ্যপ্রদেশ, দিল্লিতে কেন বাঙালিদের অত্যাচার করছেন কে? এখানে দেড় কোটি পরিযায়ী শ্রমিক রয়েছেন। কখনও শুনেছেন কাউকে অত্যাচার করেছি?’’
‘‘ইচ্ছা করে হিন্দিতে বলছি, যাতে ওদের কাছে পৌঁছে দিতে পারে।’’
‘‘আমি ছট পুজোয় ২ দিন ছুটি দিই। ঘাটে যাই সূর্য পুজো করি। তিনি কী করেন? মোদীজি আপনি করেছেন কখনও? মিথ্য়া বলেন। ধর্মের কথা বলেন। পঞ্জাবিদের খলিস্তানি বলেন আপনার দলের লোকেরা।’’
‘‘হিন্দু-মুসলিমদের ভোট কেটে এসে বলেন সুনার বাংলা করবেন। টেলিপ্রম্পটার দেখে বলেন।’’
‘‘ভাঁওতা দেয়। দিল্লিতে ভোটের আগে (বিজেপি) বলেছিল মহিলাদের ৩০০০ টাকা করে মাসে দেবে। এখনও এক টাকা দেয়নি। বিহারে ভাঁওতা দিয়েছে। মহিলাদের মিথ্যা বলে প্রতারণা করছে। ৮০০০ টাকা করে অ্যাকাউন্টে দেবে বলেছিল। ভোটের আগে দিয়েছিল। পরের দিন বুলডোজ়ার চালায়। দেশকে শেষ করেছে। এখন বুঝছেন মহিলারা, বলছেন, টাকা দিন।’’
‘‘আজও বড় বড় কথা বলে গেছেন। আমার তিনটি প্রশ্ন, গান্ধীজিকে মারতে গিয়ে যারা গুলি চালিয়েছিল, তাদের জিজ্ঞেস করব, এসআইআর করলেন কেন? সোনার বাংলা করতে হলে সেখানকার লোকের নাম কাটলেন কেন?’’
‘‘কেন এত ভয় পাচ্ছেন? এত ভিতু কেন বিজেপি?’’
‘‘আমি মিথ্যা বলি না। আমি পায়ে হেঁটে মিছিল করি। ওরা গাড়িতে চেপে মিছিল করে। ওরা টাকা দিয়ে লোক আনে জনসভায়। এরা ভোটার নয়।’’
সভার শুরুতে মমতা বলেন, ‘‘সকাল সকাল ভোট দিন। তৃণমূলকে ভোট দিন। প্রার্থীদেরও বলুন, যাতে ভাল করে কাজ করে। কারও কথায় বা ইডি-সিবিআইয়ের ভয়ে যেন কেউ মাথা নত না করে!’’
‘‘ব্যভিচারীদের ভাঙো। সংখ্যালঘু ভাই-বোনদের বলব, অনেক নাম কেটেছে চিন্তা করবেন না। ৯০ লক্ষ ভোট কেটেছে। ৬০ লক্ষ হিন্দু নাম কেটেছে। কোর্টে লড়েছি। আমরা করে যাবে, যাতে আপনাদের ভোটাধিকার থাকে।’’