মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। —ফাইল চিত্র।
হাবড়ায় সিপিএমকে নিশানা করেন মমতা। তিনি বলেন, ‘‘ওরা জিতবে তো না। বিজেপিকে জিতিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করবে। একটি ভোটও সিপিএমকে দেবেন না। ওদের শূন্য করেছিলাম। আজ বড় বড় কথা বলছে। ওদের শূন্যে নামিয়ে দিন।’’
মমতার প্রতিশ্রুতি, ‘‘যাঁদের এখনও কাঁচা বাড়ি আছে, তাঁদের প্রত্যেককে আমরা পাকা বাড়ি করে দেব। যাঁদের বাড়িতে এখনও পানীয় জলের নল পৌঁছোয়নি, সেটা করে দেব। দুয়ারে সরকার দেখেছেন। বুথ লেভেলে ১০ লক্ষ টাকা করে সাংশন হয়ে গিয়েছে। কাজ থেমে থাকলেও ওই কাজ হবে। যুবসাথীর টাকা যাঁরা পাননি, তাঁরাও পাবেন। লক্ষ্মীর ভান্ডারের জন্য যাঁরা নতুন করে আবেদন করেছেন, তাঁরাও পাবেন। এ ছাড়াও দুয়ারে সরকারের মতো দুয়ারে স্বাস্থ্য করব। বিনা পয়সায় এক্স-রে, ব্লাড টেস্ট— সব করবে। অর্থ মানুষের সম্পদ নয়। স্বাস্থ্যই সম্পদ।’’
‘‘আপনারা কি জানেন, মাদার টেরিজ়ার মিশনারিজ় অফ চ্যারিটির ৩০০ জনের নাম কেটেছে? ভারত সেবাশ্রম, বেলুড় মঠের সন্ন্যাসীর নাম বাদ। অনেক বিচারপতি হয়তো লজ্জায় বলতে পারেননি, বা এখন হয়তো নাম উঠেছে, তাঁদের নামও কাটা হয়েছিল। কত বড় সাহস, সাধারণ মানুষ থেকে বিচারপতি, সকলের নাম কেটেছে। নিজেরা ভুল করেছে। তার দায় চাপাচ্ছে মানুষের ঘাড়ে।’’
‘‘আজ তোমরা মতুয়া ঠাকুরবাড়ি নিয়ে রাজনীতি করো? ও ভাই, ঠাকুমাকে দেখতে না, চিকিৎসাও করোনি। বালু-ই আমাকে বলত। আমাকে নিয়ে যেত। ওই রাস্তাও আমি করেছি। সে সব ভুলে গিয়েছ?’’
‘‘ওরা কাকে ফাঁসায়নি। আমি কেন ছবি আঁকি, অভিষেক কেন ব্যবসা করে... আরে খাবে কী? ওর পরিবার নেই? চুরি করবে না ডাকাতি করবে? সৎ ভাবে ব্যবসা করলে আপনার আপত্তির কী আছে?’’
‘‘বালুর নামে বদনাম দিয়ে বেড়াচ্ছে শুনছি। হাবড়ার প্রার্থীর নামে... জেনে রাখুন, আমার গভর্নমেন্টে বালু যত ভাল কাজ করেছে, এ কেউ করতে পারেনি। ওকে হিংসে করে গ্রেফতার করেছিল। কোনও প্রমাণ পায়নি। কেন গ্রেফতার করেছিল? ওই পচা সিপিএম পার্টির দেড় লক্ষ নাম রেশন কার্ডে ঢুকিয়ে দিয়েছিল। সেগুলো ফল্স নামে রেশন দিত। এই চুরি ধরেছিল বালু। তাই ভুয়ো কেসে ফাঁসিয়েছে। ডিজিটাল রেশন কার্ডও জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক (ওর ভাল নাম) করেছিল। এই কাজটা এত সোজা ছিল না। পাচার হত আগে রেশনের মাল। প্রত্যেকটা গাড়ি দেখা, সব বালু করেছিল। সেই ছেলেটাকে ফাঁসানো হয়েছিল।’’
সভার শুরুতে মমতা বলেন, ‘‘কারও কথা শুনে, কুৎসা-অপপ্রচার শুনে ভোট দেবেন না। উত্তর ২৪ পরগনার মানুষকে জিজ্ঞাসা করি, এসআইআরের জন্য লাইনে দাঁড়িয়েছিলেন তো? এই অপমানের বদলা নেবেন কি নেবেন না? .যারা আজ সিপিএম করে তারা আজ বিজেপি করে। কংগ্রেস, বিজেপি, সিপিএম, তিনটেই সেম সেম।’’
হাবড়া থেকে আবার জ্যোতিপ্রিয় ওরফে বালু মল্লিককেই প্রার্থী করেছে তৃণমূল। ২০১১ থেকে ’২১, টানা ১০ বছর রাজ্যের খাদ্যমন্ত্রী ছিলেন তৃণমূলের ওই প্রবীণ নেতা। ২০২১ সালের পর কিছু দিন বনমন্ত্রীর ভার সামলান। ২০২৩ সালের অক্টোবরে রেশন দুর্নীতি মামলায় গ্রেফতার হন বালু। ২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারিতে তাঁকে মন্ত্রিসভা থেকে অপসারণ করা হয়। ২০২৬ সালের বিধানসভা ভোটে বালুকে পুরনো কেন্দ্র হাবড়া থেকেই প্রার্থী করেছে তৃণমূল। মঙ্গলবার হাবড়ার বাণীপুর বি আর অম্বেডকর মাঠে বালুর সমর্থনে সভা করছেন মমতা। একই সঙ্গে অশোকনগরের তৃণমূল প্রার্থী নারায়ণ গোস্বামীর সমর্থনেও নির্বাচনী প্রচার করবেন তৃণমূলনেত্রী।
মতুয়া অধ্যুষিত বনগাঁয় জনসভা করেন তৃণমূলনেত্রী মমতা। বনগাঁ উত্তরের প্রার্থী বিশ্বজিৎ দাস এবং বনগাঁ দক্ষিণ বিধানসভার কেন্দ্রের ঋতুপর্ণা আঢ্যের সমর্থনে বনগাঁ স্টেডিয়ামে সভা করেন। তিনি বলেন, ‘‘একজন মতুয়ার নাম বাদ গেলে আমার চেয়ে ভয়ঙ্কর কেউ হবে না।’’