পশ্চিমবঙ্গে বিধানসভা ভোটের প্রচারে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। রবিবার শিলিগুড়িতে। ছবি: ভিডিয়ো থেকে।
মোদী বলেন, ‘‘বামেদের সুযোগ দিয়েছেন। তৃণমূলকে সুযোগ দিয়েছেন। মোদীকে একটা সুযোগ দিন। নারীদের সুরক্ষার জন্য, কর্মসংস্থানের জন্য, আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার জন্য, গরিবকে বিনামূল্যে চিকিৎসা দেওয়ার জন্য, বাংলার সংস্কৃতিকে তুষ্টিকরণ থেকে বাঁচানোর জন্য একটা সুযোগ মোদীকে দিন।’’
মোদী বলেন, ‘‘অনুপ্রবেশকারীদের জন্য উত্তরবঙ্গে সামাজিক ভারসাম্য বিঘ্নিত হচ্ছে। স্থানীয়েরা কাজ হারাচ্ছেন। এখনই এটাকে আটকাতে হবে। পদ্ম ফোটান। অবৈধ অনুপ্রবেশকারীদের তাড়ান। দিন বদলে যাবে।’’
মোদী বলেন, ‘‘আদিবাসীদের জন্য অনেক কাজ করছে বিজেপি। কিন্তু তৃণমূলের সরকার তাতেও বাধা দিচ্ছে। আদিবাসী গ্রামে জল পৌঁছে দেওয়ার কাজ করছে কেন্দ্র। বিহারে কাজ শেষ হয়ে গিয়েছে। কিন্তু এই রাজ্যে ২৫ শতাংশ কাজও শেষ করা যায়নি। গরিব আর আদিবাসী পরিবারের উপর এমন অত্যাচার করে চলেছে তৃণমূল। ভয়ের সাম্রাজ্য তৈরি করে রেখেছে ওরা। এটা সরাতে হবে। একমাত্র বিজেপিই এই কাজ করতে পারে। সব গুন্ডা মাফিয়াদের জেলে পাঠাবে বিজেপি সরকার।’’
মোদী বলেন, ‘‘মেয়েদের তিন হাজার টাকা দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে বিজেপি। এই টাকা আপনাদের থেকে কেউ ছিনিয়ে নিতে পারবে না।’’
মোদী বলেন, ‘‘উত্তরবঙ্গের মেয়ে রিচা ঘোষ এত লম্বা লম্বা ছক্কা মেরেছিল। আমি ওর আত্মবিশ্বাসে অনুপ্রাণিত। বিজেপি এই রাজ্যের প্রত্যেক মেয়ের মধ্যে এমন আত্মবিশ্বাস দেখতে চায়।’’ বিজেপি মেয়েদের খেলাধূলার উন্নতি চায় বলে জানিয়েছেন মোদী। তাই ইস্তাহারেও ক্রীড়া বিশ্ববিদ্যালয় তৈরির কথা বলেছে।
মোদী বলেন, ‘‘চা-বাগানের উন্নতিতে নজর দেয়নি তৃণমূল। প্রতিবেশী অসমকে দেখুন চা বাগানে বিজেপি কত সাহায্য করেছে। ভূমির পাট্টাও দিয়েছে। আপনাদের এখানকার চায়ের স্বাদ আমার চেয়ে ভাল আর কে জানবে!’’
মোদী বলেন, ‘‘আপনাদের প্রধান সেবক বাংলার উন্নয়নের জন্য সবরকম চেষ্টা করছে। কিন্তু তৃণমূল কেন্দ্রের সব কাজে বাধা দিচ্ছে। পোরবন্দর থেকে পশ্চিমবঙ্গ পর্যন্ত পূর্ব-পশ্চিম করিডরের কাজও এই কারণেই এখনও পূর্ণ হয়নি। বিজেপি সরকার এলে দ্বিগুণ গতিতে পশ্চিমবঙ্গের বিকাশ হবে। আমরা উত্তরবঙ্গের জন্য অনেক ঘোষণা করেছি। ক্যানসার হাসপাতাল, ফ্যাশন ইনস্টিটিউট, আইআইটি-র মতো প্রতিষ্ঠান এখানে তৈরি করা হবে।’’
মোদী বলেন, ‘‘দেশে একটা টুকরে টুকরে গ্যাং আছে। সেই গ্যাং শিলিগুড়ি করিডরকে কাটার হুমকি দিয়েছিল। উত্তর-পূর্বকে দেশ থেকে আলাদা করতে চেয়েছিল। তেমন লোকজনকে তৃণমূল রাস্তা থেকে সংসদ পর্যন্ত সমর্থন করে। এটাই ওদের আসল চেহারা। বিজেপির জন্য শিলিগুড়ি করিডর দেশের সুরক্ষা আর সমৃদ্ধির করিডর। আমরা তার উন্নয়নের জন্য নিরন্তর চেষ্টা চালাচ্ছি।’’
মোদী বলেন, ‘‘উত্তরবঙ্গে তৃণমূলের নীতি শুধু উপেক্ষা করা আর ভয় দেখানো। ৪ মে-র পর নতুন সরকার আসবে। সব বদলে যাবে। অনেক হয়েছে। পশ্চিমবঙ্গ আর সহ্য করবে না। আর নয়, ভয় নয়। ভরসা চাই। এটাই বিজেপির মন্ত্র।’’ এ রাজ্যে বিজেপির মন্ত্রের সঙ্গে জুড়বে তৃণমূলের লুটেরাদের হিসাব।
মোদী বলেন, ‘‘উত্তরবঙ্গকে ইচ্ছা করে পিছিয়ে রেখেছে তৃণমূল। কাজ করেনি। কাজ হতে দেয়নি। কেন্দ্রের টাকা ব্যবহার করেনি। নির্মম এই সরকার মাদ্রাসার জন্য ৬ হাজার কোটির বাজেট বরাদ্দ করেছে। কিন্তু এত বড় উত্তরবঙ্গের উন্নয়নের জন্য রাজ্য সরকার পর্যাপ্ত বাজেট বরাদ্দ করেনি। নিজেদের বিশেষ ভোটব্যাঙ্ককে তুষ্ট করতেই ওরা ব্যস্ত। যখন এখানে এত বৃষ্টি হল, চারদিকে হাহাকার, তখন তৃণমূলের সরকার কলকাতায় উৎসব পালন করছিল। তৃণমূল উত্তরবঙ্গ বিরোধী, আদিবাসীবিরোধী, চা-বাগানবিরোধী, মহিলা আর যুববিরোধী দল। তাই পশ্চিমবঙ্গে এ বার পরিবর্তন দরকার।’’
মোদী বলেন, ‘‘তৃণমূলের ১৫ বছরের কাজকর্ম আপনারা দেখেছেন। এত তরুণ-তরুণীকে দেখছি। ১৫ বছর আগে আপনারা হয়তো প্রথম শ্রেণীতে প়ড়তেন। এখন আপনারা রাজ্যের ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করতে যাবেন। তৃণমূল কোনও কাজ করেনি। শুধু দুর্নীতিই করেছে।’’
মোদী বলেন, ‘‘বাংলার মানুষ আমাকে এত আশীর্বাদ করছেন। আমিও কথা দিলেন, আপনাদের জন্য লড়াই চালিয়ে যাব। আপনাদের জন্যেই বাঁচব।’’
পশ্চিমবঙ্গে তৃণমূলের বিদায় নিশ্চিত। শিলিগুড়ির ভিড় দেখে বলে দিলেন মোদী। শনিবারের ১৫ কিলোমিটারের রোড শো-তে জনগণের উচ্ছ্বাসের কথাও তিনি উল্লেখ করেন।
সামনের জমায়েতে বসা নিয়ে গোলমালের জন্য ভাষণ শুরু করতে পারছিলেন না প্রধানমন্ত্রী। নিরাপত্তারক্ষীদের সরে যেতে বলেন তিনি। বেশ কিছু ক্ষণ অপেক্ষা করেন। তার পর হেসে বলেন, ‘‘আপনারা এত ভালবাসেন, আবার বিরক্তও করেন!’’
শিলিগুড়ির মঞ্চে উঠে মোদী বলেন, ‘‘বাংলার মাটি শিল্পের মাটি। এখানে কত শিল্পী! কত রকমের ছবি এঁকে এনেছেন! কেউ তো মোদীকে নেপালি বানিয়ে দিয়েছেন। ছবির পিছনে আপনাদের ঠিকানা লেখা থাকলে আমি ধন্যবাদপত্র পাঠাব।’’ নিরাপত্তারক্ষীদের এই সমস্ত ছবি ও উপহার জনতার মধ্যে থেকে সংগ্রহ করার নির্দেশ দেন প্রধানমন্ত্রী।
শিলিগুড়ির মঞ্চে পৌঁছে গেলেন মোদী। জেলা নেতৃত্ব তাঁকে দোতারা, বুদ্ধমূর্তি এবং তির-ধনুক উপহার দিয়েছেন। মোদীর সঙ্গে মঞ্চে রয়েছেন দার্জিলিঙের সাংসদ রাজু বিস্তা।
পশ্চিমবঙ্গের জনসভাগুলিতে জনসমাগম দেখে আপ্লুত মোদী। শনিবার বর্ধমান এবং মুর্শিদাবাদ থেকে আলাদা করে ভিড়ের ভিডিয়ো পোস্ট করেছিলেন তিনি। জানিয়েছেন, গুজরাতেও এমন সভা তিনি করতে পারবেন না। কাঠফাটা রোদে জনতার এই উচ্ছ্বাসই বিজেপির জয়ের ইঙ্গিত দিচ্ছে বলে দাবি করেন তিনি।
পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচনের আগে ফের প্রচার সফরে এসেছেন মোদী। শনিবার পূর্ব বর্ধমান, মুর্শিদাবাদ এবং দক্ষিণ দিনাজপুরে জনসভা করেছিলেন তিনি। রবিবার সভা রয়েছে শিলিগুড়িতে। রাজ্যে অতীতের নির্বাচনে উত্তরবঙ্গে তুলনামূলক ভাল ফল করেছে বিজেপি। তাই এই অংশের কেন্দ্রগুলিতে প্রচারে জোর দিচ্ছেন মোদী।