WB Elections 2026

সভায় দেরির জন্য মমতার তোপের মুখে বিজেপি, প্রশাসন

সোমবার দুপুরে খড়দহের তৃণমূল প্রার্থী দেবদীপ পুরোহিতের সমর্থনে সূর্য সেন খেলার মাঠে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের জনসভা ছিল। বীরভূম থেকে হেলিকপ্টারে এসে টিটাগড়ের মাঠে নেমে সেখান থেকে গাড়িতে সভাস্থলে যাওয়ার কথা ছিল তাঁর।

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ২১ এপ্রিল ২০২৬ ০৯:৪৫
Share:

মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। —ফাইল চিত্র।

নির্ধারিত সময়ের চেয়ে এক ঘণ্টারও একটু বেশি দেরিতে তিনি পৌঁছলেন সভাস্থলে। ইচ্ছাকৃত ভাবে তাঁর হেলিকপ্টার নামতে না দেওয়াতেই এই দেরি বলে অভিযোগ করলেন মুখ্যমন্ত্রী। পাশাপাশি, নাম না করেই তোপ দাগলেন জেলার পুলিশ-প্রশাসনের বিরুদ্ধেও।

সোমবার দুপুরে খড়দহের তৃণমূল প্রার্থী দেবদীপ পুরোহিতের সমর্থনে সূর্য সেন খেলার মাঠে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের জনসভা ছিল। বীরভূম থেকে হেলিকপ্টারে এসে টিটাগড়ের মাঠে নেমে সেখান থেকে গাড়িতে সভাস্থলে যাওয়ার কথা ছিল তাঁর। তবে, সাড়ে ৩টের বদলে তিনি প্রায় ৫টা নাগাদ পৌঁছন। অন্যান্য উড়ানকে নামানো হলেও তাঁর হেলিকপ্টার চক্কর কাটিয়ে দেরি করানো হয়েছে, অভিযোগ তোলেন মুখ্যমন্ত্রী।

মঞ্চে উঠেই তিনি বলেন, ‘‘দুঃখিত, আসতে দেরি হল। অনেক ক্ষণ বেরিয়েছি। ঘুরিয়ে ঘুরিয়ে তার পরে রানওয়েতে আধ ঘণ্টা আটকে রাখল।’’ রবিবার ঝাড়খণ্ডের মুখ্যমন্ত্রী হেমন্ত সোরেনের হেলিকপ্টারও ৪০ মিনিট আটকে রাখা হয়েছিল বলে অভিযোগ করেন মমতা। তাঁর অভিযোগ, ‘‘বিমানবন্দরে বিজেপির লোকেরা বসে আছে। দুর্ঘটনা হলে দেখে না। শুধু আমাদের ইচ্ছে করে দেরি করাচ্ছে।’’ তিনি জানান, এ দিন ৪টের সময়ে বেলেঘাটায় জনসভা এবং ৫টায় ভবানীপুরে ঘরোয়া বৈঠক করার কথা। দেরি হওয়ায় খড়দহের সভা কিছুটা দ্রুত শেষ করেন মুখ্যমন্ত্রী।

এর পরেই কারও নাম না করে ব্যারাকপুরের পুলিশ-প্রশাসনের বিরুদ্ধেও অভিযোগ তোলেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর দাবি, বিজেপি পরিবার দেখে দেখে লোকজনকে দায়িত্বে বসিয়েছে। ইচ্ছাকৃত ভাবে মাঠে সভার অনুমতি দিতে দেরি করা হচ্ছে। অনেক কষ্ট করে খড়দহের সভার অনুমতি নিতে হয়েছে বলেও দাবি করেন মমতা। তিনি বলেন, ‘‘এখানে যিনি এসেছেন, তিনি বিজেপির বড় নেতা। ভোটের সময়ে বিজেপি এদের ডিউটি দেয়। এই জেলাকে জ্বালিয়ে খেয়ে নিল।’’ ভোটবাক্সে গণতান্ত্রিক বদলা নিয়ে ওই আধিকারিকদের ক্ষীরের নাড়ু পাঠানোর কথাও বলেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘‘অনুমতি দিতেও বিজেপিকে জিজ্ঞেস করছে। এত ঔদ্ধত্য! ৪ তারিখের পরে মানুষ ভোটবাক্সে এই অহঙ্কারের বিষদাঁত ভেঙে দেবে।’’

জানা যাচ্ছে, ব্যারাকপুরের ১১টি বিধানসভা কেন্দ্রের দলীয় প্রার্থীদের নিয়ে নগরপালের সঙ্গে দেখা করতে সময় চেয়েছিলেন দমদম-ব্যারাকপুর সাংগঠনিক জেলার সভাপতি তথা সাংসদ পার্থ ভৌমিক। যাঁদের নামে কখনও কোনও অভিযোগ ছিল না, তেমন কর্মীদেরও ইচ্ছাকৃত ভাবে নোটিস দেওয়া হচ্ছে, ভয় দেখানো হচ্ছে বলে অভিযোগ পার্থের। তিনি বলেন, ‘‘আমাদের কথা শোনার সময় ওঁর হচ্ছে না। তিন দিন হয়ে গেলেও চিঠির উত্তর দেননি।’’ পুলিশ-প্রশাসনের উদ্দেশ্যে এ দিন মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘‘প্রত্যেকে নিরপেক্ষ ভাবে কাজ করুন। তৃণমূলকে সাপোর্ট করতে হবে না, কিন্তু একতরফা বিজেপিকে সাপোর্ট করবেন না। কাল ব্যারাকপুরে আসব, অনুমতি নিয়েই আসব।’’

ব্যারাকপুরের নগরপাল অমিতকুমার সিংহ এ দিন বলেন, ‘‘ইচ্ছে করে সময় দিচ্ছি না, এমন ভাবার কারণ নেই। ভোট প্রচারে প্রতিদিনই ভিআইপি-রা আসছেন। তাঁদের নিরাপত্তা ও সভাস্থল পরিদর্শন নিয়ে ব্যস্ত আছি। দু’-এক দিনের মধ্যে সাংসদকে ডেকে কথা বলে নেব।’’ তিনি আরও বলেন, ‘‘নির্বাচন কমিশনের নির্দেশ মেনে কোনও রাজনৈতিক রং না দেখে অপরাধীদের বিরুদ্ধে যা ব্যবস্থা নেওয়ার, তা নিচ্ছি।”

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন

এটি একটি প্রিমিয়াম খবর…

  • প্রতিদিন ২০০’রও বেশি এমন প্রিমিয়াম খবর

  • সঙ্গে আনন্দবাজার পত্রিকার ই -পেপার পড়ার সুযোগ

  • সময়মতো পড়ুন, ‘সেভ আর্টিকল-এ ক্লিক করে

সাবস্ক্রাইব করুন