West Bengal Elections 2026

মন্ত্রী মলয়ের লড়াই তৃণমূলের অন্দরেও

ভোট-বাজারে প্রচার, বাড়িতে কেন্দ্রীয় সংস্থার অভিযানের পরে, অসমের মুখ্যমন্ত্রী বিজেপির হিমন্তবিশ্ব শর্মার সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা বেড়ে গিয়েছে মলয়ের। সে ‘বোঝাপড়ার’ প্রভাব পড়তে পারে ভোটের ফলে।

অনিন্দ্য মুখোপাধ্যায়

শেষ আপডেট: ২২ এপ্রিল ২০২৬ ০৭:৪৪
Share:

মলয় ঘটক। — ফাইল চিত্র।

ঘরের দেওয়ালে চারটি ফ্রেমে তিনি তৃণমূলের শীর্ষ নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে। রয়েছে মমতার আলাদা বড়-ছোট ছবি। তার পরেও ভোটের আগের পশ্চিম বর্ধমানে বইছে হাওয়া, তাঁর সঙ্গে দলনেত্রীর ‘দূরত্ব বৃদ্ধির’ খবর নিয়ে। আপকার গার্ডেনের বাড়িতে বসে সে কথা উড়িয়ে দিলেন রাজ্যের মন্ত্রী তথা আসানসোল উত্তর বিধানসভার তৃণমূল প্রার্থী মলয় ঘটক। বললেন, ‘‘লোকে অনেক কিছু বলে। সব কিছুর ভিত্তি নেই।’’

ভোট-বাজারে প্রচার, বাড়িতে কেন্দ্রীয় সংস্থার অভিযানের পরে, অসমের মুখ্যমন্ত্রী বিজেপির হিমন্তবিশ্ব শর্মার সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা বেড়ে গিয়েছে মলয়ের। সে ‘বোঝাপড়ার’ প্রভাব পড়তে পারে ভোটের ফলে। মন্ত্রীর অনুগামীদের পাল্টা দাবি, ‘‘হিমন্তকে ভেট চড়াতে হত। আসানসোলের সবাই জানে, মলয় ঘটক অবৈধ ভাবে পাঁচ পয়সা তোলেন না।’’ মলয়-শিবির মনে করিয়ে দিচ্ছে, মন্ত্রীর পরিবার, ভাই, বোন, ভগ্নিপতিদের নোটিস করে এবং ব্যাঙ্ক আকাউন্টের নথি পরীক্ষা করে কেন্দ্রীয় সংস্থা ১৪ হাজার টাকার কাছাকাছি পেয়েছে মাত্র।

তা হলে আইন বিভাগ মন্ত্রীর হাত থেকে গেল কেন? তৃণমূল সূত্রের দাবি, বার কাউন্সিলের নির্বাচনে মলয়ের ভূমিকা নিয়ে ‘অসন্তুষ্ট’ ছিলেন দলনেত্রী। তাঁকে সে কথা জানানোও হয়। পাশাপাশি, শ্রম দফতরের সঙ্গে শাসক দলের শ্রমিক সংগঠনের বিরোধও বার বার চর্চায় এসেছে। যদিও মলয়ের অনুগামীরা বলছেন, যদি নেত্রী মলয়ের ভূমিকায় ক্ষুব্ধ হতেন, তা হলে আইন বিভাগের দায়িত্ব অন্য কাউকে দিতে পারতেন। তা করেননি। নিজের হাতে রেখেছেন। শ্রম দফতরের দায়িত্ব শেষ পর্যন্ত মলয়ের হাতেই ছিল।

তবে দলের সবাই মন্ত্রীর পক্ষে বলছেন এমন নয়। একাধিক জনের ক্ষোভ, জেলায় বিধানসভা আসনের টিকিট বণ্টনের সময়ে মন্ত্রীর ‘পছন্দের’ লোককে টিকিট পাইয়ে দিতে গিয়ে যোগ্যদের বঞ্চিত করা হয়েছে। ঠাঁইনাড়া করা হয়েছে। কুলটি বিধানসভায় মন্ত্রীর ভাই অভিজিৎ ঘটককে প্রার্থী করতে গিয়ে বাদ দেওয়া হয়েছে ঘটক পরিবারের আত্মীয় উজ্জ্বল চট্টোপাধ্যায়কে। সেখানে ইতিমধ্যে দলের একাংশ বলতে শুরু করছেন, ‘‘কুলটিতে কি আর লোক ছিল না, যে আসানসোলের লোককে প্রার্থী করা হল!’’ তবে উজ্জ্বলের দাবি, ‘‘আমরা চেষ্টা করব। দলের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করব না।’’ রানিগঞ্জের বিদায়ী বিধায়ক তাপস বন্দ্যোপাধ্যায়কে সরিয়ে এনে আসানসোল দক্ষিণে বিজেপির বিদায়ী বিধায়ক অগ্নিমিত্রা পালের বিরুদ্ধে প্রার্থী করা হয়েছে। তাপস বলেছেন, ‘‘লোকে জানে আমি কে, কোন দল করি, কেন করি।’’ তবে মন্ত্রী-ঘনিষ্ঠদের দাবি, প্রার্থী বাছাই হয়েছে মমতা, দলের সর্ব ভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিযেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের সম্মতিতে। উপরন্তু, জেলা রাজনীতিতে মলয়ের বিরোধী-শিবিরের বলে পরিচিত এক নেতাকে পাঠানো হয়েছে দুর্গাপুরে, সেখানকার দুই আসনে পর্যবেক্ষণের দায়িত্বে, যাতে মন্ত্রী-শিবিরের চলার পথে তেমন সমস্যা না থাকে।

দলনেত্রীর ছবির দিকে তাকিয়ে মলয় বলেন, ‘‘এসআইআরে বহু নাম বাদ গিয়েছে। অনেকে মনে করছেন, সে সুবাদে ভোটের আগেই না কি পিছিয়ে পড়েছি! আমি বলছি, এসআইআরের অত্যাচারের জবাব মানুষ দেবেন। যাঁরা আমার পরাজয়ের কথা ভাবছেন, তাঁরা দেখবেন, ফল উল্টো হবে।’’

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন

এটি একটি প্রিমিয়াম খবর…

  • প্রতিদিন ২০০’রও বেশি এমন প্রিমিয়াম খবর

  • সঙ্গে আনন্দবাজার পত্রিকার ই -পেপার পড়ার সুযোগ

  • সময়মতো পড়ুন, ‘সেভ আর্টিকল-এ ক্লিক করে

সাবস্ক্রাইব করুন