SIR in West Bengal

৬০ লক্ষ বিবেচনাধীন ভোটারের মধ্যে ৩৬ লক্ষ নিষ্পত্তি হয়েছে, শুক্রবার প্রকাশিত হবে দ্বিতীয় অতিরিক্ত তালিকা: কমিশন

রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের (সিইও) দফতর জানিয়েছে, শুক্রবার বিকেল পর্যন্ত বিচারকরা যা তথ্য দেবেন তা প্রকাশ করা হবে। তার পরে প্রসেসিং করতে ৪-৬ ঘণ্টা সময় লাগবে। প্রতি দিন তালিকা বার নিয়ে আলোচনা চলছে। প্রয়োজন হলে তা করা হবে।

Advertisement

আনন্দবাজার ডট কম সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ২৬ মার্চ ২০২৬ ২৩:১৩
Share:

—প্রতিনিধিত্বমূলক ছবি।

পশ্চিমবঙ্গে ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন বা এসআইআর প্রক্রিয়ায় ‘অ্যাডজুডিকেশন’ (বিবেচনাধীন) তালিকায় থাকা প্রায় ৬০ লক্ষ ভোটারের মধ্যে এ পর্যন্ত ৩৬ লক্ষের তথ্য নিষ্পত্তি সম্ভব হয়েছে। বৃহস্পতিবার এমনই তথ্য দিল নির্বাচন কমিশন। রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের (সিইও) দফতর জানিয়েছে, শুক্রবার দ্বিতীয় অতিরিক্ত তালিকা প্রকাশ করা হবে।

Advertisement

সিইও-র দফতর জানিয়েছে, শুক্রবার বিকেল পর্যন্ত বিচারকেরা যা তথ্য দেবেন, তা প্রকাশ করা হবে। তার পরে প্রসেস করতে ৪-৬ ঘণ্টা সময় লাগবে। প্রতি দিন তালিকা বার নিয়ে আলোচনা চলছে। প্রয়োজন হলে শুক্রবার (২৭ মার্চ) থেকে ‘প্রায় প্রতি দিন’ তালিকা বার করা হতে পারে। প্রসঙ্গত, ‘বিবেচনাধীন’ ভোটার নিয়ে পশ্চিমবঙ্গে রাজনৈতিক তরজা অব্যাহত। বুধবারও মুখ্যমন্ত্রী তথা তৃণমূলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এ নিয়ে কমিশনকে নিশানা করেছিলেন। সেই সঙ্গে, মধ্যরাতে কমিশনের ওয়েবসাইটে সমস্ত ভোটারের নাম ‘বিবেচনাধীন’ দেখানো নিয়ে খোঁচা দেন। তিনি বলেন, ‘‘এরা পারে না, এমন কাজ নেই।’’ ওই বিতর্কের মাঝে বুধবার বিবেচনাধীন ভোটারদের নিয়ে তথ্য দিয়েছে কমিশন। তারা জানিয়েছে, নিষ্পত্তি হওয়া ভোটারদের নাম কমিশনের ওয়েবসাইটে দেখা যাবে। এসআইআরের চূড়ান্ত এবং খসড়া তালিকা মিলিয়ে ইতিমধ্যে ৬৩ লক্ষ ৬৬ হাজার ৯৫২ জনের নাম বাদ গিয়েছে। প্রথম অতিরিক্ত তালিকা থেকে বাদ পড়েছে প্রায় ১২ লক্ষ নাম।

প্রসঙ্গত, ২৮ ফেব্রুয়ারি চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশ করেছিল কমিশন। তখন বিবেচনাধীন ভোটার ছিলেন ৬০ লক্ষ ৬ হাজার ৬৭৫। এই তালিকা ৭০৫ জন বিচারক নিষ্পত্তি করছেন। সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ মেনে নিষ্পত্তি হওয়া তালিকা ধাপে ধাপে বার করার কথা জানিয়েছে কমিশন। সেই অনুযায়ী সোমবার রাতে প্রথম অতিরিক্ত তালিকা বার হয়। তবে প্রথম অতিরিক্ত তালিকায় কত নিষ্পত্তি হয়েছে এবং সেখান থেকে কত জন ভোটার যোগ হয়েছেন, তা জানায়নি কমিশন। এসআইআর শুরু হওয়ার আগে ভোটারের সংখ্যা ছিল ৭ কোটি ৬৬ লক্ষ ৩৭ হাজার ৫২৯। খসড়া তালিকায় বাদ পড়েছিল ৫৮ লক্ষ ২০ হাজার ৮৯৯ নাম। সেই তালিকায় নাম ছিল ৭ কোটি ৮ লক্ষ ১৬ হাজার ৬৩০ জনের। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি রাজ্যে প্রথম দফার চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশিত হয়। সেই তালিকায় বাদ পড়ে আরও ৫ লক্ষ ৪৬ হাজার ৫৩ জনের নাম। সব মিলিয়ে ২৮ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত রাজ্যে বাদের হিসাব দাঁড়ায় ৬৩ লক্ষ ৬৬ হাজার ৯৫২।

Advertisement

খসড়া তালিকায় যে ৭ কোটি ৮ লক্ষ ১৬ হাজার ৬৩০ জনের নাম ছিল, তাঁদের মধ্যে শুনানির জন্য চিহ্নিত হন প্রায় ১ কোটি ৫২ লক্ষ ভোটার। এর মধ্যে ‘নো-ম্যাপিং’ ভোটারের সংখ্যা ছিল ৩১ লক্ষ ৬৮ হাজার ৪২৬। এই ভোটারেরা ২০০২ সালের শেষ এসআইআরের সঙ্গে লিঙ্ক দেখাতে পারেননি। বাকি ১ কোটি ২০ লক্ষ ভোটারকে তথ্যগত অসঙ্গতি (লজিক্যাল ডিসক্রিপ্যান্সি)-র তালিকাভুক্ত করে শুনানিতে ডেকে পাঠায় কমিশন। সব মিলিয়ে প্রায় ১ কোটি ৪২ লক্ষ ভোটারের শুনানি হয়। তাঁদের মধ্যে ৮২ লক্ষ ভোটারের নথি নিয়ে ইআরও এবং এইআরও-দের সঙ্গে সহমত হয় কমিশন। তারা জানায়, শুনানিতে বাছাই করে মোট ৫ লক্ষের বেশি নাম বাদ দেওয়া হয়। তার পরে প্রথম দফার চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশিত হয়। প্রথম দফার চূড়ান্ত ভোটার তালিকা অনুযায়ী, রাজ্যের মোট ভোটার সংখ্যা ৭ কোটি ৪ লক্ষ ৫৯ হাজার ২৮৪। তার মধ্যে ৬০ লক্ষ ৬ হাজার ৬৭৫ জনের নাম ‘বিবেচনাধীন’।

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement