(বাঁ দিক থেকে) সিয়া গয়াল, কেতন অগ্রবাল, চেতন চৌধরী। গ্রাফিক: আনন্দবাজার ডট কম।
পুণেতে ব্যবসায়ীপুত্র কেতন অগ্রবালকে খুনের ষড়যন্ত্র কী ভাবে ছকা হয়েছিল, তা নিয়েই এখন ভাবাচ্ছে তদন্তকারীদের। সেই রহস্য উন্মোচন করতে পুলিশের অন্যতম ভরসা সিয়া গয়াল এবং তাঁর প্রেমিক চেতন চৌধরীর ফোন চ্যাট। পুলিশের মতে, কেতনের মৃত্যুর আগে এবং পরে, সিয়া ও চেতনের মধ্যে মোবাইলের চ্যাটে কী কী কথা হয়েছে, তা মুছে ফেলা হয়েছে। এমনকি ফোনের ‘রিসাইকেল বিন’ও খালি করে দেওয়া হয়েছে। দু’জনের ফোনই ফরেনসিক ল্যাবরেটরিতে পাঠানো হয়েছে। তদন্তকারীদের মতে, ওই চ্যাট উদ্ধার করা সম্ভব হলে খুনের ষড়যন্ত্র বা পরিকল্পনা সম্পর্কে আভাস মিলতে পারে।
তদন্তকারী দলে থাকা পুলিশ কর্তার বরাত দিয়ে সংবাদসংস্থা পিটিআই জানিয়েছে, দুই অভিযুক্তই ১৮ জুন ঘটনার আগে এবং পরে নিজেদের মধ্যে কী কথা বলেছেন, সেই সংক্রান্ত চ্যাট সব মুছে ফেলেছেন, যা হত্যাকাণ্ডে দু’জনের ভূমিকা আরও সন্দেহ জাগাচ্ছে। তদন্তকারীদের বিশ্বাস, ওই কথোপকথোনগুলি হত্যাকাণ্ড সম্পর্কিত গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ দিতে পারে।
কেতনের বাগ্দত্তা সিয়ার সঙ্গে তাঁর প্রেমিক চেতন চৌধরির তিন বছর ধরে সম্পর্ক। দু’জনের সম্পর্কের বিষয়টি ঘুণাক্ষরেও টের পাননি কেতন বা তাঁর পরিবারের সদস্যেরা। কেতনের সঙ্গে গত ফেব্রুয়ারিতে বাগ্দানপর্ব সেরে ফেলেছিলেন সিয়া। তার পর থেকে কেতনের বাড়িতে যাতায়াত ছিল তাঁর। তদন্তকারী সূত্রের খবর, সিয়ার ফোন কলের রেকর্ডের সূত্র ধরেই এই খুনের কিনারা করা হয়েছে। সিয়ার ফোন থেকেই তাঁর প্রেমিক চেতন সম্পর্কে জানতে পারেন তদন্তকারীরা। পুলিশ জানিয়েছে, সিয়ার ফোনে একই নম্বরে গত ছ’মাসে কয়েক হাজার বার ফোন করা হয়েছিল। এ বার দু’জনের ফোনের চ্যাট নিয়ে ভাবছেন তদন্তকারীরা।
তদন্তকারীদের দাবি, ঘটনার দিন সিয়া এবং চেতন একটি ক্যাফেতে দেখা করেছিলেন। সেখানেই খুনের পরিকল্পনার চূড়ান্ত রূপ পায়। এক পুলিশ আধিকারিকের কথায়, ‘‘পরিকল্পনা অনুযায়ী, কেতনকে নিয়ে সিয়া পুণের লোহাগড়ের দূর্গে ঘুরতে গিয়েছিলেন। তাঁদের অনুসরণ করেছিলেন চেতন। পাহাড়ের একেবারে কিনারা থেকে আচমকাই কেতনকে ঠেলে খাদে ফেলে দেওয়া হয়।’’ সেই পরিকল্পনা অনুযায়ী, গোটা ঘটনাটি ঘটনা দু’জনে। তবে কে কেতনকে ধাক্কা মেরেছিলেন, প্রথম পরিকল্পনাটি কার— সেই সব সম্পর্কে দু’জনের জবানবন্দিতে পার্থক্য রয়েছে।
তদন্তকারীদের কাছে চেতন দাবি করেছেন, সিয়াকে নিয়ে পালিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা ছিল তাঁর। কিন্তু কেন সেই পরিকল্পনা থেকে সরে এসে কেতনকে সরিয়ে দেওয়ার ছক করা হল? সিয়ার মাধ্যমে কি পরবর্তী কালে অগ্রবাল পরিবারের কাছ থেকে টাকা আদায়ের পরিকল্পনা ছিল চেতনের? সিয়ার ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টও খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা। এই খুনের নেপথ্যে টাকার কোনও সূত্র আছে কি না, তা জানার চেষ্টা চলছে।
প্রসঙ্গত, গত ১৮ জুন লোণাবলায় লোহাগড় দুর্গ থেকে ঠেলে ফেলে কেতনকে খুনের অভিযোগ উঠেছে সিয়া এবং তাঁর প্রেমিক চেতনের বিরুদ্ধে। তাঁদের দু’জনকেই গ্রেফতার করেছে পুলিশ।