West Bengal Election 2026

‘কেন্দ্রীয় বাহিনীকে আরও বেশি দায়িত্ব, বুথে গন্ডগোলের দায় সিআরপিএফের’! কত বাহিনী প্রয়োজন, তা-ও জানাল কমিশন

রবিবার দিল্লি থেকে পশ্চিমবঙ্গ-সহ পাঁচ রাজ্যের ভোটের নির্ঘণ্ট প্রকাশ করেছে নির্বাচন কমিশন। তার পরে সোমবারই রাজ্যের নির্বাচনের পরিস্থিতি নিয়ে সাংবাদিক বৈঠক করেন রাজ্যের নির্বাচনী আধিকারিক মনোজ আগরওয়াল।

Advertisement

আনন্দবাজার ডট কম সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ১৬ মার্চ ২০২৬ ২২:৫৪
Share:

—প্রতিনিধিত্বমূলক চিত্র।

পশ্চিমবঙ্গে আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনে কেন্দ্রীয় বাহিনীকে আরও বেশি দায়িত্ব নিতে হবে। সোমবার সাংবাদিক বৈঠকে এমনটাই জানালেন রাজ্যের নির্বাচনী আধিকারিক (সিইও) মনোজ আগরওয়াল। পাশাপাশি, সতর্ক করা হয়েছে বাহিনীকে। সিইও জানান, যদি কোনও বুথের মধ্যে অশান্তি হয়, তবে তার দায় সিআরপিএফের। প্রতি দফায় ভোট করাতে কত করে কেন্দ্রীয় বাহিনী প্রয়োজন, তারও আভাস দিলেন মনোজ।

Advertisement

রবিবার দিল্লি থেকে পশ্চিমবঙ্গ-সহ পাঁচ রাজ্যের ভোটের নির্ঘণ্ট ঘোষণা করেছে নির্বাচন কমিশন। তার পরে সোমবারই রাজ্যের নির্বাচনের পরিস্থিতি নিয়ে সাংবাদিক বৈঠক করেন সিইও। তিনি স্পষ্ট জানান, অবাধ এবং শান্তিপূর্ণ ভোট করাতে বদ্ধপরিকর কমিশন। তার জন্য কী কী ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে, তা-ও তুলে ধরেন তিনি। সেই বিষয়ে জানাতে গিয়েই কেন্দ্রীয় বাহিনীর বাড়তি গুরুত্বের কথা বলেন মনোজ। তিনি বলেন, ‘‘সিআরপিএফ ঠিক ভাবে কাজ করবে। আমরা তাদের সঙ্গে কথা বলছি।’’ তার পরেই সিইও-র সতর্কবার্তা, ‘‘সিআরপিএফ কোনও সুবিধা নেবে না। জেলাশাসকদেরও তেমনই নির্দেশ দেওয়া হবে। সুবিধা নিলে তদন্ত হবে। অতীতে সুবিধা নেওয়ার জন্য সিআরপিএফ কর্মীর শাস্তি হয়েছে।’’ মনোজের কথায়, ‘‘তারা (সিআরপিএফ) কাজ করতে এসেছে। করবে।’’

কমিশন জানিয়েছে, বুথের ভিতরে কোনও রকম অনিয়ম হলে কেন্দ্রীয় বাহিনী সেক্টর অফিসে জানাবে। তারা প্রিসাইডিং অফিসারকে ফোন করবে। বুথের মধ্যে যে কোনও ধরনের গন্ডগোলের জন্য দায়ী করা হবে সিআরপিএফ-কেই। সিইও বলেন, ‘‘সুষ্ঠু এবং অবাধ ভোট করাতে হবে সকলকে। দায়িত্বে গাফিলতি হলে পদক্ষেপ করা হবে।’’ তাঁর কথায়, ‘‘এখানে (পশ্চিমবঙ্গে) কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন নিয়ে কোনও অসুবিধা হবে না। সেই সময় অন্য রাজ্যের ভোট শেষ হয়ে যাবে।’’ প্রতি দফায় কত করে বাহিনীর প্রয়োজন? সিইও জানান, প্রত্যেক দফার জন্য ২,২০০-২,৩০০ কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনী প্রয়োজন হতে পারে। মনোজের কথায়, ‘‘শান্তিতে ভোট করানোর জন্য যে কোনও ধরনের সাহায্য করবে কমিশন। আধিকারিকদের শুধু সাহায্য চাইতে হবে।’’

Advertisement

বুথে বুথে নজরদারিতে জোর দেওয়া হয়েছে বলে জানান সিইও। তাঁর কথায়, ‘‘প্রতি বুথে ৩৬০ ডিগ্রি ওয়েব কাস্টিং হবে। তিন জায়গা থেকে এই ওয়েব কাস্টিং পর্যবেক্ষণ করা হবে। প্রয়োজন অনুযায়ী ড্রোনের মাধ্যমেও নজর রাখা হবে।’’ কোনও বুথের ভোটগ্রহণ নিয়ে সন্দেহ থাকলেও পুনরায় ভোটগ্রহণ নিয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলে জানান সিইও। পাশাপাশি এ-ও জানান, রাজ্যে ২৯৪টি আসনের জন্য ২৯৪ জন জেনারেল অবজ়ার্ভার (সাধারণ পর্যবেক্ষক) নিয়োগ করা হবে। প্রতি পুলিশ জেলায় দু’জন করে অবজ়ার্ভার থাকবে। মনোজ বলেন, ‘‘ভোটার ইনফর্মেশন স্লিপে কিউআর কোড থাকবে। এর আগে রাজনৈতিকদল ওই স্লিপ দিত। এ বার বিএলও-রা বাড়ি বাড়ি গিয়ে দিয়ে আসবেন।’’ ৮৫ বা তার বেশি বয়সি ভোটারেরা বাড়ি থেকে ভোটদান করতে পারবেন। সিইও বলেন, ‘‘ওই ভোটারেরা বাড়িতে ১২ডি ফর্ম পূরণ করে ভোট দিতে পারবেন। বাড়িতে গিয়ে তাঁর ভোট নিয়ে আসা হবে।’’

পর্যবেক্ষক থেকে শুরু করে সব আধিকারিক— রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে যাবেন, জানালেন সিইও। তাঁর কথায়, ‘‘আমিও বিভিন্ন জায়গায় যাব। চেয়ারে বসেছি কাজ করার জন্য। শান্তিপূর্ণ ভোটের জন্য কাজ করব।’’ তিনি জানান, এখনও পর্যন্ত ৫৫টি স্পর্শকাতর বুথ রয়েছে।

পশ্চিমবঙ্গে বিবেচনাধীন ভোটারের সংখ্যা প্রায় ৬০ লক্ষ। সোমবার পর্যন্ত কত জনের তথ্য নিষ্পত্তি হয়ে যাচ্ছে, তা-ও জানিয়েছেন সিইও। তিনি জানান, এখনও পর্যন্ত প্রায় ২০ লক্ষ ভোটারের তথ্যের নিষ্পত্তি হয়েছে। নিষ্পত্তির কাজে নিযুক্ত রয়েছেন ৭০৫ জন বিচারপতি। কমিশন জানিয়েছে, ছয়-সাত দিনের মধ্যে বিবেচনাধীন প্রথম অতিরিক্ত তালিকা প্রকাশিত হবে।

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement