West Bengal Elections 2026

শাসক-কার্যালয়ে ক্লান্ত হয়েই, দাবি নিলম্বিত বিএলও-র

দাবি, চড়া রোদে ক্লান্ত ও অসুস্থ বোধ করায় তিনি তৃণমূলের কার্যালয়ে ঢুকেছিলেন। সেই সময়ে দুই-এক জন স্লিপ নিয়েছেন।

নিজস্ব প্রতিবেদন

শেষ আপডেট: ১৯ এপ্রিল ২০২৬ ০৫:৫৬
Share:

—প্রতীকী চিত্র।

রাজ্যে প্রথম দফা নির্বাচনের আগে, তৃণমূলের হয়ে প্রচারের অভিযোগে উত্তর ২৪ পরগনা ও বীরভূমের পাঁচ বুথ লেভেল অফিসারকে (বিএলও) নিলম্বিত বা সাসপেন্ড করা হয়েছে। এফআইআর করার নির্দেশও দেওয়া হয়েছে। হলদিয়ায় পোস্টাল ব্যালটে ভোটগ্রহণ চলাকালীন ভোটারদের প্রভাবিত করার অভিযোগে এক কনস্টেবলকেও নিলম্বিত করেছে ভবানী ভবন। অন্য দিকে, বীরভূমের কীর্ণাহারে শনিবার বাড়িতে ভোট নেওয়ার সময় এক মাইক্রো অবজ়ার্ভারের বিরুদ্ধে বিজেপি-যোগের অভিযোগ পেয়ে তাঁকে বদল করে দেওয়া হয়েছে।

বীরভূমের খয়রাশোলের কেন্দ্রগড়িয়া বেলেডাঙাল ১১২ নম্বর বুথের বিএলও মঞ্জুশ্রী চট্টোপাধ্যায় অঙ্গনওয়াড়ি কর্মী। তাঁর বিরুদ্ধে তৃণমূল কার্যালয়ে বসে ভোটার স্লিপ বিলি করার অভিযোগ তোলে বিজেপি। ময়ূরেশ্বরের ঝিকড্ডা পঞ্চায়েতে ৩৭ পার্টের বিএলও জয়নাল আবেদিন পার্শ্বশিক্ষক। তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ, শাসক দলের হয়ে প্রচারে ব্যস্ত থাকায় ভোটারদের স্লিপ নির্বাচনী আধিকারিকের কাছ থেকে সংগ্রহ করেননি। জেলা নির্বাচনী দফতর সূত্রের খবর, উভয়কেই বিএলও পদ এবং তাঁরা যে পদে কর্মরত, তা থেকে নিলম্বিত করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট দফতরকে তাঁদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে চিঠিও দেওয়া হয়েছে। জয়নাল ফোন ধরেননি। পরিবারের দাবি, ফোন রেখে কাজে বাইরে আছেন। তবে মঞ্জুশ্রীর দাবি, চড়া রোদে ক্লান্ত ও অসুস্থ বোধ করায় তিনি তৃণমূলের কার্যালয়ে ঢুকেছিলেন। সেই সময়ে দুই-এক জন স্লিপ নিয়েছেন। শাস্তিমূলক ব্যবস্থার চিঠি পাননি বলেও তাঁর দাবি।

উত্তর ২৪ পরগনার তিন নিলম্বিত বিএলও তপনকুমার সাহা (অশোকনগর বিধানসভার ২৮২ নম্বর বুথ), অভিজিৎ দে (২৮১ নম্বর বুথ) এবং কুমারজিৎ দত্ত (২০৫ নম্বর বুথ)। তিন জনই স্কুলশিক্ষক। অশোকনগরের বিজেপি প্রার্থী সুমন হীরা তাঁদের বিরুদ্ধে তৃণমূলের হয়ে ভোট-প্রচারের অভিযোগ জানান। তপন বলেন, ‘‘ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ গিয়েছে, এমন মানুষদের নিয়ে একটি বাড়িতে সভা হচ্ছিল। সেখানে পুর-প্রতিনিধি ছিলেন। আমি আর অভিজিৎ সেখানে গিয়েছিলাম তাঁদের আশ্বস্ত করতে।’’ তপনের সংযোজন, ‘‘একটি ছবিতে দেখা যাচ্ছে, দেওয়াল লিখন কর্মসূচিতে রয়েছি। দেওয়াল লিখছিলেন আমার বন্ধু। তাঁর সঙ্গে কথা বলছিলাম। মজা করে ছবিও তোলা হয়েছিল।’’ অভিজিৎ এবং তপন, দু’জনেই রাজনৈতিক প্রচারের সঙ্গে যুক্ত থাকার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। কুমারজিৎ অবশ্য বলেন, ‘‘যখন শিক্ষকতার চাকরিতে যুক্ত হয়েছিলাম, কোথাও নিয়ম ছিল না যে রাজনীতি করতে পারব না।কমিশন বিএলও করেছে। আবেদন জানাইনি।’’

মহকুমাশাসকের (হলদিয়া) দফতরে পোস্টাল ব্যালটে ভোটগ্রহণ চলাকালীন ভোটারদের প্রভাবিত করার অভিযোগে মাসুদ করিম নামে এক কনস্টেবলকে নিলম্বিত করেছে ভবানী ভবন। শনিবার দুপুরে সে বিজ্ঞপ্তি জারি হয়। কলকাতা পুলিশের রিজ়ার্ভ ফোর্সের কনস্টেবল মাসুদ নন্দীগ্রাম-১ ব্লকের আমগেছিয়ার বাসিন্দা। ভোটের দিন ঘোষণার পরে, তাঁকে হলদিয়ার ভবানীপুর থানায় বদলি করা হয়।

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন

এটি একটি প্রিমিয়াম খবর…

  • প্রতিদিন ২০০’রও বেশি এমন প্রিমিয়াম খবর

  • সঙ্গে আনন্দবাজার পত্রিকার ই -পেপার পড়ার সুযোগ

  • সময়মতো পড়ুন, ‘সেভ আর্টিকল-এ ক্লিক করে

সাবস্ক্রাইব করুন