PM Modi’s Rally

আনুষ্ঠানিক আমন্ত্রণ যায়নি? ভোট ঘোষণার পর প্রধানমন্ত্রী মোদীর প্রথম নির্বাচনী সভায় গরহাজির শুভেন্দু! আঙুল অমিতাভের দিকে

বিজেপি-র সূত্র বলছে, সংগঠন সম্পাদক অমিতাভের ‘গাফিলতি’র জেরে এই ঘটনা ঘটেছে। এই ধরনের বৃহৎ কর্মসূচির ক্ষেত্রে সংগঠন সম্পাদক বা তাঁর দফতরের তরফেই শীর্ষনেতাদের কাছে আনুষ্ঠানিক আমন্ত্রণ যায়।

Advertisement

আনন্দবাজার ডট কম সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ০৫ এপ্রিল ২০২৬ ১৮:০৭
Share:

কোচবিহারে রবিবার প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর জনসভায় দেখা গেল না শুভেন্দু অধিকারীকে। গ্রাফিক: আনন্দবাজার ডট কম।

পশ্চিমবঙ্গে নির্বাচন ঘোষিত হওয়ার পরে প্রথম জনসভা প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর। কিন্তু রাজ্য বিজেপির অন্যতম ‘পোস্টারবয়’ শুভেন্দু অধিকারী সেখানে অনুপস্থিত! রবিবার কোচবিহারের রাসমেলা ময়দানে প্রধানমন্ত্রীর সভামঞ্চে শুভেন্দুর জন্য আসনও নির্দিষ্ট ছিল বলে বিজেপি সূত্রের দাবি। কিন্তু পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভার বিরোধী দলনেতা রবিবার ব্যস্ত রইলেন নিজের জেলায় তথা নিজের নির্বাচনী কেন্দ্র নন্দীগ্রামে। কেন শুভেন্দু নেই কোচবিহারে? বিজেপি সূত্রের দাবি, রাজ্য বিজেপি-র সংগঠন সম্পাদক অমিতাভ চক্রবর্তীর তরফ থেকে আনুষ্ঠানিক আমন্ত্রণ পৌঁছয়নি শুভেন্দুর কাছে।

Advertisement

দলের ঘোষিত প্রথা অনুযায়ী শুভেন্দু পশ্চিমবঙ্গে বিজেপি-র দুই প্রধান মুখের অন্যতম। যে সব রাজ্যে বিজেপির সরকার রয়েছে, সেখানে মুখ্যমন্ত্রী এবং রাজ্য সভাপতির ছবি বিজেপি-র যে কোনও পোস্টার-ব্যানারে রাখা আবশ্যিক। আর যে সব রাজ্যে দল ক্ষমতায় নেই, সেখানে রাজ্য সভাপতির পাশাপাশি আবশ্যিক বিরোধী দলনেতার ছবি। ঠিক যেমন সর্বভারতীয় স্তরে প্রধানমন্ত্রী মোদী এবং সর্বভারতীয় সভাপতির ছবি থাকাও আবশ্যিক। সুতরাং পশ্চিমবঙ্গে শমীক ভট্টাচার্য এবং শুভেন্দুই এখন দলের প্রধান দুই মুখ। শমীক কোচবিহারের সভায় রবিবার ছিলেন। বস্তুত, এক দিন আগেই কোচবিহারে পৌঁছে তিনি জনসভার প্রস্তুতির দেখভালও করেছেন। রাজ্য বিজেপি-র প্রাক্তন সভাপতি তথা কেন্দ্রীয় মন্ত্রী সুকান্ত মজুমদারও নির্বাচনী কাজে উত্তরবঙ্গেই ছিলেন। রাজ্য বিজেপি-র রাজনৈতিক বিভাগের প্রধান এবং মোদী মন্ত্রিসভার সদস্য হিসাবে তিনিও সভায় উপস্থিত ছিলেন। কিন্তু শুভেন্দুকে রবিবার মোদীর মঞ্চে দেখা যায়নি। যা নিয়ে দলের ভিতরে-বাইরে নানা জল্পনা তৈরি হয়েছে।

বিজেপি সূত্র বলছে, সংগঠন সম্পাদক অমিতাভের ‘গাফিলতি’র জেরে এই ঘটনা ঘটেছে। এই ধরনের বৃহৎ কর্মসূচির ক্ষেত্রে সংগঠন সম্পাদক বা তাঁর দফতরের তরফেই শীর্ষনেতাদের কাছে আনুষ্ঠানিক আমন্ত্রণ যায়। কোচবিহারে মোদীর সভায় হাজির থাকার জন্য শুভেন্দুর কাছেও তাঁর তরফেই আমন্ত্রণ যাওয়ার কথা ছিল। কিন্তু সে আমন্ত্রণ পৌঁছয়নি বলে বিজেপি-র একটি সূত্রের দাবি।

Advertisement

শুভেন্দু নিজে এ বিষয়ে কোথাও মুখ খোলেননি। রবিবার তিনি নন্দীগ্রামেই প্রচার ও জনসংযোগে ব্যস্ত ছিলেন। অমিতাভের তরফে আমন্ত্রণ না-পৌঁছনোর জেরেই তিনি কোচবিহারের জনসভায় গরহাজির কি না, তা নিয়ে শুভেন্দুর ‘ঘনিষ্ঠ’ বৃত্তও মুখ খুলতে চায়নি। তবে ভোটের পশ্চিমবঙ্গে দলের যে ‘মুখ’কে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন নেতৃত্ব, নির্বাচন ঘোষণার পরে মোদীর প্রথম জনসভায় সেই শুভেন্দুর গরহাজিরা অনেকের চোখে লেগেছে। ফলে বিষয়টি নিয়ে নানা মহলে আলোচনা শুরু হয়েছে।

গত মার্চ মাসের শেষ সপ্তাহে দু’দিনের জন্য পশ্চিমবঙ্গ সফরে এসেছিলেন বিজেপি-র সর্বভারতীয় সভাপতি নিতিন নবীন। দু’দিন ধরে রাজ্য বিজেপি-র শীর্ষ নেতৃত্বকে সঙ্গে নিয়ে দলের নানা স্তরের প্রতিনিধির সঙ্গে নিতিন দফায় দফায় বৈঠক করেন। কিন্তু সে বৈঠকগুলির জন্য সুকান্ত আনুষ্ঠানিক আমন্ত্রণ পাননি। এ রাজ্যের আর এক কেন্দ্রীয় মন্ত্রী শান্তনু ঠাকুরও আনুষ্ঠানিক আমন্ত্রণ পাননি। ফলে নিতিনের বৈঠকগুলিতে দুই কেন্দ্রীয় মন্ত্রী ছিলেন না। তখনও অভিযোগ উঠেছিল অমিতাভের বিরুদ্ধেই।

Advertisement

এমনই আর একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে অমিতাভের কাছ থেকে ‘সময় মতো’ আমন্ত্রণ না-পাওয়ার অভিযোগ তুলেছিলেন আলিপুরদুয়ারের বিজেপি সাংসদ মনোজ টিগ্গা। প্রার্থী তালিকা চূড়ান্ত করতে দিল্লিতে বিজেপি-র জাতীয় নির্বাচন কমিটির যে বৈঠকগুলি গত মাসে হয়েছে, সেগুলির সবক’টিতেই মনোজের হাজির থাকার কথা ছিল। কিন্তু একটি বৈঠকের খবর মনোজকে এতটাই দেরিতে জানানো হয় যে, ডুয়ার্সের মাদারিহাটে নিজের গ্রামের বাড়ি থেকে দিল্লি পৌঁছে বৈঠকে যোগ দেওয়ার কোনও উপায়ই তখন মনোজের ছিল না। এ বিষয়ে অমিতাভের কোনও প্রতিক্রিয়া মেলেনি। তিনি ফোন ধরেননি। হোয়াটস্‌অ্যাপ বার্তার জবাবও দেননি। অমিতাভের প্রতিক্রিয়া পাওয়া গেলে তা এই প্রতিবেদনে যোগ করা হবে।

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement