গুজরাতের ক্রিকেটারদের উচ্ছ্বাস। ছবি: পিটিআই।
আইপিএল থেকে আনুষ্ঠানিক ভাবে ছিটকে গেল চেন্নাই। বৃহস্পতিবার অহমদাবাদে গুজরাতের কাছে তারা হারল ৮৯ রানে। তাতে কিছুটা সুবিধা হল কলকাতার। এ বার অপেক্ষা করতে হবে পঞ্জাবের হারের। প্রথমে ব্যাট করে ২২৯/৪ তুলেছিল গুজরাত। জবাবে ১৪০ রানে শেষ হয়ে যায় চেন্নাই। হারল ৭৯ রানে।
হারের ফলে গুজরাতের ১৮ পয়েন্ট। তাদের এ বার প্রথম দুইয়ে থাকার লড়াই বেঙ্গালুরুর সঙ্গে। চেন্নাই শেষ করল ১২ পয়েন্টে। অর্থাৎ এই প্রথম বার আইপিএলে একটি ম্যাচেও খেলতে দেখা গেল না মহেন্দ্র সিংহ ধোনিকে।
টসে জিতে প্রথমে বল করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল চেন্নাই। সেই সিদ্ধান্ত যে ভুল ছিল তা বোঝা যায় শুরু থেকেই। গুজরাতের ওপেনারেরা শুরু থেকেই দাপট দেখাতে থাকেন। সাই সুদর্শন এবং শুভমন গিল আইপিএলে বহু স্মরণীয় জুটি গড়েছেন। তার আরও একটি নিদর্শন দেখা গেল বৃহস্পতিবার। মুকেশ চৌধরি, স্পেন্সার জনসন, অংশুল কম্বোজ কোনও ছাপই ফেলতে পারছিলেন না।
মাত্র ২৩ বলে অর্ধশতরান করেন শুভমন। চলতি আইপিএলে এটি তাঁর টানা পঞ্চম অর্ধশতরান। কিছু ক্ষণ পর ৫০-এর গন্ডি পার করে ফেলেন সুদর্শনও। প্রথম উইকেটেই ১২৫ রানের জুটি হয়। সাতটি চার এবং তিনটি ছয়ের সাহায্যে ৩৭ বলে ৬৪ করে ফেরেন শুভমন। তিনে নামেন জস বাটলার। তিনিও শুরু থেকে চালাতে থাকেন। যোগ্য সঙ্গত দেন সুদর্শনও। শতরানের সুযোগ ছিল গুজরাতের ওপেনারের কাছে। তবে তা কাজে লাগাতে পারেননি। সাতটি চার এবং চারটি ছয় মেরে ৫৩ বলে ৮৪ করে ফিরে যান। মাত্র ৩৬ বলে ৮২ রানের জুটি হয় বাটলারের সঙ্গে। রাহুল তেওতিয়া প্রথম বলে ফিরে গেলেও গুজরাতকে ভাল স্কোরে পৌঁছে দেন বাটলার। তিনি পাঁচটি চার এবং চারটি ছয়ের সাহায্যে ২৭ বলে ৫৭ করে অপরাজিত থাকেন।
রান তাড়া করতে নেমে চেন্নাই ধাক্কা খায় প্রথম বলেই। মহম্মদ সিরাজের বলে ড্রাইভ করতে গিয়ে উইকেটকিপার বাটলারের হাতে ক্যাচ দেন সঞ্জু স্যামসন (০)। চলতি মরসুমে চেন্নাই সাফল্য পেয়েছে সঞ্জুর ব্যাট চললে। সেই সঞ্জুই প্রথম বলে ফিরে যাওয়ায় মনোবল ভেঙে যায় দলের। দ্বিতীয় ওভারে এসে সিরাজ তুলে নেন আরও দু’টি উইকেট। তুলে নেন রুতুরাজ গায়কোয়াড় (১৬) এবং উর্বিল পটেলকে (০)। ভাল শুরু করেও ফিরে যান ওপেনার ম্যাথু শর্ট (২৪)।
সেই সময়ে চেন্নাইয়ের দরকার ছিল একটি ভাল জুটি। দুর্ভাগ্যবশত সেটাও হয়নি। মাঝে চালিয়ে খেলে কিছুটা হলেও আশা জাগিয়েছিলেন শিবম দুবে। তত ক্ষণে অবশ্য চেন্নাইয়ের পাঁচটি উইকেট পড়ে গিয়েছে। চারটি করে চার এবং ছয় মারা শিবম বেশি ক্ষণ ক্রিজ়ে টিকতে পারেননি। ১৭ বলে ৪৭ করে ফিরে যান। এর পর শেষ ভরসা ডেওয়াল্ড ব্রেভিসও (৮) ফিরতে চেন্নাইয়ের সব আশা শেষ হয়ে যায়।