Nanny Service

বন্ধ আয়া-রাজ,বিকল্প না পেয়েবিপাকে রোগীরা

শুধু জেলা হাসপাতাল নয়, প্রায় সমস্ত সরকারি হাসপাতালেই দিনের পর দিন আয়াদের দৌরাত্ম্য চলে আসছে।

সুস্মিত হালদার

শেষ আপডেট: ২১ মে ২০২৬ ২৩:৪৭
Share:

—প্রতিনিধিত্বমূলক ছবি।

আয়া ব্যবস্থা বন্ধ করে দিলেন নদিয়া জেলা হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। এতে হাসপাতালের ভিতরে অবৈধ অনুপ্রবেশ বন্ধ হলেও বিকল্প ব্যবস্থা না থাকায় দুর্ভোগে পড়তে হচ্ছে রোগীদের। হয়রান তাঁদের পরিজনেরা। বিশেষ করে রাতে সেই ভোগান্তি চরমে পৌঁছচ্ছে। কারণ অনেক রোগীরই রাতে সঙ্গে থাকার মতো আত্মীয়-পরিজন থাকে না। ফলে রোগীদের পরিবারের তরফে অন্তত রাতে আয়া রাখার দাবি উঠতে শুরু করেছে। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ তাতে নারাজ। তবে রোগীদের সমস্যা নিরসনে কোনও মধ্যপন্থা অবলম্বন করা যায় কি না তা নিয়ে তাঁরা চিন্তাভাবনা করছেন।

শুধু জেলা হাসপাতাল নয়, প্রায় সমস্ত সরকারি হাসপাতালেই দিনের পর দিন আয়াদের দৌরাত্ম্য চলে আসছে। বিভিন্ন সময়ে তাঁদের বিরদ্ধে রোগী ও তাঁদের বাড়ির লোকের সঙ্গে দুর্ব্যবহার, নানা ছুতোনাতায় অতিরিক্ত টাকা আদায়, ওষুধের দালালদের সঙ্গে যোগসাজসের অভিযোগ সামনে এসেছে। কোনও কোনও ক্ষেত্রে স্ট্রেচার বা হুইলচেয়ার টানার জন্যও মুমূর্ষু রোগীর পরিবারের কাছ থেকে টাকা আদায়ের অভিযোগ উঠেছে। এ সব কারণে অনেক ক্ষেত্রেই অপ্রস্তুত হতে হয়েছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে।

তবে এ-ও ঠিক যে হাসপাতালের চিকিৎসা পরিষেবার একটা বড় অংশ আয়াদের উপর নির্ভরশীল। কারণ রোগীকে অক্সিজেন দেওয়া থেকে শুরু করে ক্যাথিটার পরানোর মতো কাজগুলি সাধারণত তাঁরাই করেন, যা সাধারণত নার্স বা চতুর্থ শ্রেণির কর্মীদের করার কথা। তবে অনেক ক্ষেত্রে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ চেষ্টা করেও আয়ারাজ বন্ধ করতে পারেননি। নানা চাপের কাছে তাঁদের হার মানতে হয়েছে।

তবে সম্প্রতি স্বাস্থ্য ভবন থেকে হাসপাতালে ‘অবৈধ অনুপ্রবেশ’ পুরোপুরি বন্ধ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এর পরেই কর্তৃপক্ষ আয়াদের হাসপাতালে ঢোকা বন্ধ করে দিয়েছেন। হাসপাতালে রাতে রোগীর সঙ্গে থাকার জন্য তাঁর পরিবারের এক জনকে অনুমতি দেওয়া হয়। তার জন্য একটা কার্ডও দেওয়া হয়। সমস্যা হল, সব রোগীর পরিবারে রাতে থাকার মতো সদস্য থাকে না। তাঁদেরই পুরোপুরি আয়ার উপর নির্ভরশীল করতে হয়। এখন এঁদেরই সমস্যা হচ্ছে বেশি।

সম্প্রতি পড়ে গিয়ে কোমরের হাড় ভেঙেছে বছর পঁচাত্তরের এক প্রৌঢ়ার। রাতে থাকার মতো তাঁর পরিবারে তেমন কেউ নেই। প্রৌঢ়ার ছেলে সুদীপ দাস বলেন, “আমার বাচ্চাটা খুব ছোট। ফলে তাকে বাড়িতে রেখে আমার স্ত্রীর পক্ষে রাতে হাসপাতালে থাকা সম্ভব হচ্ছে না। তাই রাতে মায়ের কাছে কেউ থাকছে না। ফলে রাতে মায়ের খুবই অসুবি্ধা হচ্ছে।” ধুবুলিয়ার শ্যামল নন্দী বলেন, “আমার স্ত্রী পেটে যন্ত্রণা নিয়ে ভর্তি আছেন। আমি রাতে হাসপাতাল চত্বরে থাকলেও ওয়ার্ডে তাঁর কাছে থাকার মতো কেউ নেই।”

তবে বুধবার নদিয়া জেলা হাসপাতালের সুপার জয়ন্ত সরকার বলেন, “স্বাস্থ্য ভবন অবৈধ লোকজনের হাসপাতালের ভিতরে ঢোকা পুরোপুরি বন্ধ করার নির্দেশ দিয়েছে। পরবর্তী নির্দেশ না আসা পর্যন্ত আমাদের পক্ষে কিছু করা সম্ভব নয়।” তবে বিকল্প ব্যবস্থা করা যায় কি না তা নিয়ে ভাবনাচিন্তা চলছে বলেও তিনি জানান।

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন

এটি একটি প্রিমিয়াম খবর…

  • প্রতিদিন ২০০’রও বেশি এমন প্রিমিয়াম খবর

  • সঙ্গে আনন্দবাজার পত্রিকার ই -পেপার পড়ার সুযোগ

  • সময়মতো পড়ুন, ‘সেভ আর্টিকল-এ ক্লিক করে

সাবস্ক্রাইব করুন