কল্যাণী এমসে শমীক ভট্টাচার্য। বুধবার। নিজস্ব চিত্র
রাজ্যে পালাবদলের পরে একের পর এক পঞ্চায়েতে রাজনৈতিক সমীকরণ বদলের জল্পনার মধ্যেই দলীয় কর্মী-নেতাদের কড়া বার্তা দিলেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য। স্পষ্ট জানিয়ে দিলেন, নির্বাচিত পঞ্চায়েত বা বোর্ড ভাঙিয়ে ক্ষমতা দখলের রাজনীতিতে বিজেপি বিশ্বাস করে না। কেউ সেই পথে হাঁটলে, তিনি যত বড় নেতা বা বিধায়কই হোন না কেন, দলীয় শৃঙ্খলাভঙ্গের অভিযোগে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
বুধবার কল্যাণী এমস হাসপাতালে অত্যাধুনিক লেজার ইউনিটের উদ্বোধনে আসেন শমীক। পরে হাসপাতালের বাইরে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন তিনি। রাজ্যের বিভিন্ন এলাকায় তৃণমূল পরিচালিত পঞ্চায়েতের প্রধানদের ইস্তফা এবং রাজনৈতিক পুনর্বিন্যাসের জল্পনার প্রেক্ষিতে তাঁর বক্তব্য বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল।
শমীকের কথায়, “যাঁরা এই সব করছেন, তাঁরা চার ঘণ্টার বিজেপি। যা দেখা যাচ্ছে, তার অনেকটাই তৃণমূল কংগ্রেসের অভ্যন্তরীণ গোষ্ঠীদ্বন্দ্বের ফল। বিজেপি নীতিগত ভাবে কোনও নির্বাচিত সরকার বা নির্বাচিত বডিকে ফেলে দেওয়ার পক্ষে নয়। এই পথ আমাদের নয়।” এর পরই আরও কড়া সুরে তিনি বলেন, “অতি উৎসাহী কিছু লোক ময়দানে নেমে পড়েছেন। সে যত বড় পার্টি নেতা হোক বা বিধায়কও যদি হয়, যে পঞ্চায়েত বদল করে দিচ্ছে তাকেও দলীয় শৃঙ্খলার সামনে পড়তে হবে। তার উপরেও শৃঙ্খলাভঙ্গের খাড়া নেমে আসবে।”
একই সঙ্গে, রাজ্যের স্বাস্থ্য ও শিক্ষা পরিকাঠামো নিয়ে পূর্বতন সরকারের সমালোচনা করে শমীক বলেন, ‘‘নির্বাচনের আগে আধুনিক স্বাস্থ্যব্যবস্থা ও শিক্ষার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল বিজেপি। সেই লক্ষ্যেই ধাপে ধাপে কাজ শুরু হয়েছে।’’ তাঁর দাবি, “রাজ্যের হাসপাতালগুলোর অবস্থা খারাপ। সরকারকে একটু সময় দিন। এক বছর সময় দিন, সব পাল্টে যাবে।”
এ দিন উত্তরবঙ্গে নতুন এমস তৈরির কথাও ঘোষণা করেন বিজেপি সভাপতি। তাঁর দাবি, রাজ্যে দ্বিতীয় এমস হবে উত্তরবঙ্গে। উত্তর-পূর্ব ভারতের প্রবেশদ্বার হিসেবে ওই অঞ্চলের স্বাস্থ্য পরিকাঠামো উন্নয়নে এই প্রকল্প গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেবে বলেও মত তাঁর। পাশাপাশি অনাবাসী ভারতীয়দেরও পশ্চিমবঙ্গে বিনিয়োগের আহ্বান জানান শমীক। বলেন, “দেশের বাইরে বহু জায়গায় তাঁরা নিজেদের মেধা প্রতিষ্ঠা করেছেন। নির্দিষ্ট শিল্পক্ষেত্রে সাফল্য এনেছেন। তাঁরা আসুন, পশ্চিমবঙ্গ একটি বিনিয়োগ বান্ধব পরিবেশ উপহার দেবে।”
এ দিন কল্যাণী এমসে যে লেজার ইউনিটের উদ্বোধন করা হয়, হাসপাতাল সূত্রের দাবি, শরীরের বিভিন্ন জটিল ক্ষত নিরাময়ে এই প্রযুক্তি বিশেষ কার্যকর। অত্যাধুনিক যন্ত্রের সাহায্যে ক্ষত সারানোর এই ব্যবস্থা চালু হওয়ায় রোগীরা আরও উন্নত পরিষেবা পাবেন বলে আশা করা হচ্ছে। উদ্বোধনের পরে শমীক বলেন, “উচ্চমানের আধুনিক পরিষেবা দেওয়ার ক্ষেত্রেই এমসের পরিচিতি। এই লেজার ইউনিট চালু হওয়ায় রোগীরা আরও বেশিসুবিধা পাবেন।”
প্রতিদিন ২০০’রও বেশি এমন প্রিমিয়াম খবর
সঙ্গে আনন্দবাজার পত্রিকার ই -পেপার পড়ার সুযোগ
সময়মতো পড়ুন, ‘সেভ আর্টিকল-এ ক্লিক করে