—প্রতিনিধিত্বমূলক ছবি।
উত্তরবঙ্গে চা শিল্পের পুনরুজ্জীবনে ‘অসম মডেল’ অনুসরণের কথা বললেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। বুধবার দুপুরে উত্তরকন্যায় মুখ্যমন্ত্রী উত্তরবঙ্গের পাঁচ জেলার প্রশাসনিক আধিকারিকদের নিয়ে বৈঠক করেন। সরকারি সূত্রে খবর, বৈঠকেই অসম মডেলের কথা বলেন মুখ্যমন্ত্রী। বৈঠকের পরে তা জানান দার্জিলিঙের সাংসদ রাজু বিস্তা। তবে চা শ্রমিকদের যৌথ মঞ্চের তরফে বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়েছে। তাদের দাবি, অসমের পরিবর্তে কেরল বা তামিলনাড়ু মডেল নয় কেন?
দার্জিলিঙের সাংসদ বলেন, ‘‘উত্তরবঙ্গে চা শ্রমিকদের পরিস্থিতি ঠিক হওয়া দরকার। মুখ্যমন্ত্রী টি বোর্ডের চেয়ারম্যান, আধিকারিক এবং প্রশাসনকে অসমের মডেল গিয়ে দেখতে বলেছেন। অসম মডেল এখানে কার্যকর করতে কী অসুবিধা, তা খতিয়ে দেখতে বলেছেন।’’
অসম বিজেপি-শাসিত রাজ্যে। সেখানেও প্রচুর চা বাগান রয়েছে। সেখানে শ্রমিকদের মজুরি উত্তরবঙ্গের বাগানের তুলনায় বেশি। তবে সেটাও শ্রমিকদের প্রাপ্য ন্যায্য মজুরি নয় বলে দাবি যৌথ মঞ্চের। মঞ্চের অন্যতম নেতা তথা সিপিএমের প্রাক্তন সাংসদ সমন পাঠক বলেন, ‘‘অসমের বরাক উপত্যকা এবং অন্যত্র চা বাগানে মজুরি বৈষম্য রয়েছে। অসমের চেয়ে কেরলে চা শ্রমিকেরা আরও ভাল মজুরি পান। তা অনুসরণ করা হবে না কেন? আমরা বলতে চাই ন্যূনতম মজুরি নির্ধারণের যে পদ্ধতি রয়েছে, তা মেনেই ঠিক করা হোক।’’
টি অ্যাসোসিয়েশন অব ইন্ডিয়ার মহাসচিব প্রবীর ভট্টাচার্য বলেন, ‘‘দক্ষিণ ভারতে সারা বছর চা উৎপাদন হয়। উত্তর-পূর্ব ভারতে মাত্র নয় মাস হয়। দক্ষিণ ভারতের মডেল কখনওই এখানে কার্যকর হবে না।’’ আর চা পরিচালকদের সংগঠনগুলির যৌথ মঞ্চ সিসিপিএ-র মুখ্য উপদেষ্টা অমিতাংশু চক্রবর্তী বলেন, ‘‘অসম সরকার চা শিল্পকে যে ছাড় দেয়, সেই ছাড় এখানেও আশা করছি।’’
উত্তরবঙ্গের চা বাগানে মজুরি সমস্যা দীর্ঘদিনের। বর্তমানে ২৫০ টাকা দৈনিক মজুরি পান শ্রমিকেরা। রাজ্যে তৃণমূল সরকার ক্ষমতায় আসার পরে ন্যূনতম মজুরি ঠিক করতে ‘মিনিমাম ওয়েজ অ্যাডভাইজরি বোর্ড’ করা হয়। যৌথ মঞ্চের দাবি, ২০১৫ সালের পর থেকে তাদের প্রায় ১৮ দফা বৈঠক হয়। কিন্তু সেই সমস্যার এখনও সুরাহা হয়নি। ২০১৮ সালে ন্যূনতম মজুরি ৬৬০ টাকা করার দাবি জানানো হয়েছিল।
তরাই ইন্ডিয়া প্ল্যান্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মহেন্দ্র বনশাল বলেন, ‘‘অসম মডেল বা অন্য কোনও মডেল অনুসরণে সমস্যা নেই। গুণগত মান, ভালো দর, দেশের বাজারে চা বিক্রি এবং চা রফতানি বাড়ানো দেখতে হবে।’’ সংগঠনের দাবি, অসমে টি বোর্ডের মাধ্যমে কিছু চালু হয়নি। সেখানকার সরকার তাদের মতো করে করছে।
বিজেপি সাংসদের দাবি, আগামী দিনে নতুন শ্রম আইন চালু হবে। কেন্দ্রের চা শ্রমিক যোজনা গত তিন বছর তৃণমূল সরকার চালু করেনি। তা ছাড়া চা বাগানের শ্রমিকদের জমির মালিকানা তথা পাট্টা দেওয়া হবে।
প্রতিদিন ২০০’রও বেশি এমন প্রিমিয়াম খবর
সঙ্গে আনন্দবাজার পত্রিকার ই -পেপার পড়ার সুযোগ
সময়মতো পড়ুন, ‘সেভ আর্টিকল-এ ক্লিক করে