—প্রতিনিধিত্বমূলক চিত্র।
এমন লড়াই, উত্তেজনা রাজারহাট-নিউ টাউনের কোনও নির্বাচনে শেষ কবে দেখা গিয়েছে, হলফ করে বলতে পারছেন না কেউ।
সোমবার, ভোট-গণনার দিন রাতের দিকে প্রথমে জানা যায়, ওই বিধানসভা কেন্দ্রে জয়ী হয়েছেন বিজেপি প্রার্থী পীযূষ কানোরিয়া। দলীয় কর্মীরা উচ্ছ্বাসে ফেটে পড়েন। সে সময়েই পুনর্গণনার দাবি তোলেন তৃণমূল প্রার্থী তাপস চট্টোপাধ্যায়। পুনর্গণনার পরে তৃণমূল দাবি করে, তাদের প্রার্থীই জয়ী হয়েছেন, কিন্তু তাঁকে শংসাপত্র দেওয়া হচ্ছে না।
এ বার ফের পুনর্গণনার দাবি তোলেন বিজেপি প্রার্থী। সোমবার গভীর রাত পর্যন্ত চলা এই পরিস্থিতির অবসান হল মঙ্গলবার বেলায়। এ দিন ফের ওই কেন্দ্রের পুনর্গণনা হলেও সেখানে অবশ্য তৃণমূলের তরফে প্রার্থী এবং এজেন্টের দেখা মেলেনি। পুনর্গণনার শেষে বিজেপি প্রার্থীকেই ৩১৬ ভোটে জয়ী বলে ঘোষণা করা হয়। যদিও পরাজিত তাপসের দাবি, তাঁকে জোর করে হারানো হয়েছে। এ বিষয়ে আদালতের দ্বারস্থ হওয়ার কথাও তাঁরা ভাবছেন। পাল্টা বিজেপি প্রার্থীর দাবি, অনেক চেষ্টা সত্ত্বেও তাঁকে আটকানো যায়নি।
তবে তৃণমূলের অভিযোগ, ওই কেন্দ্রে ভোট-গণনার উত্তেজনাকেও ছাড়িয়ে গিয়েছে সোমবার থেকে শুরু হওয়া হিংসার ঘটনা। এ দিন বিকেল থেকে উত্তর দমদম, দমদম, রাজারহাট-গোপালপুর, রাজারহাট-নিউ টাউন এবং বিধাননগর বিধানসভা এলাকায় একের পর এক ভোট-পরবর্তী হিংসার ঘটনা ঘটেছে। অভিযোগ, তৃণমূলের একাধিক কার্যালয় ভাঙচুর, দখল, দলীয় কর্মীদের বাড়ি ভাঙচুর ও লুট করা হয়েছে। তৃণমূলে একাধিক কর্মী-সমর্থক আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন বলে অভিযোগ। বাদ যাননি মহিলারাও। এমনকি, হামলা হয়েছে পুরপ্রতিনিধিদের বাড়িতেও।
যদিও বিজেপির রাজ্য নেতৃত্ব এই বিষয়ে কড়া অবস্থান নেওয়ার দাবি করে জানিয়েছেন, কোনও ভাবেই হিংসা বরদাস্ত করা হবে না। এমন ঘটনা ঘটলে রং না দেখে পুলিশকে পদক্ষেপ করতে বলা হয়েছে বলেও জানিয়েছেন বিজেপি রাজ্য নেতৃত্ব।
বিধাননগর কমিশনারেট এলাকার দত্তাবাদ, সুকান্তনগর, কেষ্টপুর, ঘোষপাড়া, খালপাড়, রাজারহাট, নিউ টাউনের একাধিক জায়গায় সোমবার বিকেল থেকেই লুট, ভাঙচুর, উচ্ছেদের অভিযোগ উঠেছে। এমনকি, তাঁদের কাছে টাকা দাবি করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ তৃণমূল কর্মীদের একাংশের। বিধাননগর পুলিশের তরফে অবশ্য দাবি, ধরপাকড় চলছে। বিধাননগর কেন্দ্রের জয়ী বিজেপি প্রার্থী শারদ্বত মুখোপাধ্যায় জানান, অবিলম্বে এই ধরনের হিংসার ঘটনা বন্ধ করতে বলা হয়েছে।
প্রতিদিন ২০০’রও বেশি এমন প্রিমিয়াম খবর
সঙ্গে আনন্দবাজার পত্রিকার ই -পেপার পড়ার সুযোগ
সময়মতো পড়ুন, ‘সেভ আর্টিকল-এ ক্লিক করে