বৃহস্পতিবার মনোজ আগরওয়ালের হাতে স্মারকলিপি জমা দেয় তৃণমূলের প্রতিনিধিদল। —নিজস্ব চিত্র।
ভোটের আগে রাজ্যে ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) প্রক্রিয়া নিয়ে গুরুতর অভিযোগ করল তৃণমূল। বৃহস্পতিবার এই সংক্রান্ত বিষয়ে তৃণমূলের এক প্রতিনিধিদল স্মারকলিপি জমা দেয় রাজ্যের মুখ্য নির্বাচন আধিকারিক মনোজ আগরওয়ালকে। সেখানে এসআইআর প্রক্রিয়া ঘিরে একাধিক অনিয়ম, অস্বচ্ছতা ও প্রশাসনিক ব্যর্থতার প্রসঙ্গ তুলে ধরা হয়েছে। তৃণমূলের প্রতিনিধিদলে ছিলেন রাজ্যের অর্থ প্রতিমন্ত্রী চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য, বাণিজ্যমন্ত্রী শশী পাঁজা এবং মথুরাপুরের তৃণমূল সাংসদ বাপি হালদার।
স্মারকলিপিতে তৃণমূলের অভিযোগ, বহু বৈধ ভোটারের নাম ভুল ভাবে ‘সন্দেহজনক’ বা ‘মৃত’ হিসাবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এর ফলে তাঁদের নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ পড়ছে। যা তাঁদের গণতান্ত্রিক অধিকার হরণের শামিল। পাশাপাশি, সম্পূর্ণ তালিকা প্রকাশে অস্বাভাবিক বিলম্ব এবং প্রয়োজনীয় তথ্যের ঘাটতির কথাও উল্লেখ করা হয়েছে তৃণমূলের তরফে। বাংলার শাসকদলের আরও অভিযোগ, যাঁদের নাম বাদ পড়েছে তাঁদের আপিল বা সংশোধনের কোনও স্পষ্ট ও সহজ ব্যবস্থা রাখা হয়নি। ফলে সাধারণ ভোটারেরা বিভ্রান্ত হচ্ছেন। তাঁদের ভোটাধিকার প্রয়োগ অনিশ্চিত হয়ে পড়ছে। তৃণমূলের মতে, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে নির্বাচন প্রক্রিয়ার উপর মানুষের আস্থা ক্ষুণ্ণ হতে পারে।
এ ছাড়া পুলিশ পর্যবেক্ষক নিয়োগ নিয়েও প্রশ্ন তুলেছে তৃণমূল। স্মারকলিপিতে দাবি করা হয়েছে, কিছু ক্ষেত্রে পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ উঠছে, যা নির্বাচনের নিরপেক্ষতা নিয়ে সন্দেহ তৈরি করছে। তাই এই বিষয়ে অবিলম্বে স্বচ্ছতা আনার দাবি জানানো হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে নির্বাচন কমিশনের কাছে একাধিক দাবি জানিয়েছে তৃণমূল। তার মধ্যে রয়েছে— ভোটার তালিকা সংশোধন প্রক্রিয়ায় সম্পূর্ণ স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা, বাদ পড়া ভোটারদের দ্রুত পুনর্বহাল, সম্পূর্ণ তালিকা প্রকাশে সময়সীমা নির্ধারণ এবং সাধারণ মানুষের জন্য সহজলভ্য আপিল করার ব্যবস্থা করা। রাজ্যের রাজনৈতিক মহলে এই স্মারকলিপি ঘিরে ইতিমধ্যেই জোর আলোচনা শুরু হয়েছে। ভোটের আগে ভোটার তালিকা নিয়ে এই বিতর্ক নতুন মাত্রা পেয়েছে বলেই মনে করছেন রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের একাংশ।