West Bengal Election 2026

‘নন্দীগ্রাম নয়’, বোঝাতে আঁতুড় ঘর ঘিরছে তৃণমূল

প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক কাজে ব্যস্ততার কারণে ভবানীপুরের বিধায়ক হিসেবে কেন্দ্রের কাজকর্ম পর্যালোচনায় সময় নির্দিষ্ট আছে তৃণমূল নেত্রীর। এবং বিভিন্ন সরকারি প্রকল্প বা এই কেন্দ্রের নাগরিকদের প্রয়োজনীয় কাজকর্ম দেখভালে দীর্ঘ দিন বিশেষ নজর রাখতেন দলের রাজ্য সভাপতি বক্সীই।

রবিশঙ্কর দত্ত

শেষ আপডেট: ১৯ মার্চ ২০২৬ ০৭:২৭
Share:

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। — ফাইল চিত্র।

দলের আঁতুড় ঘর ভবানীপুর লোহার প্রাচীরে ঘিরে রাখতে তৈরি হচ্ছে তৃণমূল কংগ্রেস!

ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধনে (এসআইআর) প্রায় ৪৭ হাজার ভোটার কমেছে ভবানীপুর বিধানসভা কেন্দ্রে। তাতে তৃণমূলের প্রতিষ্ঠাত্রীর জনসমর্থন কমবে না বলে মনে করলেও পূর্ণ শক্তিতে নামছেন দলীয় নেতৃত্ব। এই কেন্দ্রের নির্বাচন সংক্রান্ত যাবতীয় কাজ দেখভালের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে এই কেন্দ্রেরই বাসিন্দা তৃণমূলের রাজ্য সভাপতি সুব্রত বক্সী এবং মন্ত্রী ফিরহাদ (ববি) হাকিমকে। মর্যাদার মুকুট অক্ষত রাখতে এই কেন্দ্রের ৮ পুর-প্রতিনিধি ও সাংগঠনিক ভারপ্রাপ্তদের সঙ্গে বৈঠকে বসছেন তাঁরা।

প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক কাজে ব্যস্ততার কারণে ভবানীপুরের বিধায়ক হিসেবে কেন্দ্রের কাজকর্ম পর্যালোচনায় সময় নির্দিষ্ট আছে তৃণমূল নেত্রীর। এবং বিভিন্ন সরকারি প্রকল্প বা এই কেন্দ্রের নাগরিকদের প্রয়োজনীয় কাজকর্ম দেখভালে দীর্ঘ দিন বিশেষ নজর রাখতেন দলের রাজ্য সভাপতি বক্সীই। ভবানীপুরের বাসিন্দা বক্সীর সেখানকার দফতরেই কেন্দ্রের মানুষ বিভিন্ন সমস্যা নিয়ে যাতায়াত করতেন। পরবর্তীতে সেই দায়িত্ব নিয়েছেন ফিরহাদ। নির্বাচনী সংগঠন পরিচালনায় দলের পুর-প্রতিনিধিরা থাকলেও নিজের কেন্দ্র সম্পর্কে দলনেত্রীর ভয়েই চোখ-কান বেশি খোলা রাখেন চেতলার বাসিন্দা মন্ত্রীও! মুখে স্বীকার না-করলেও এখানে বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী প্রার্থী হচ্ছেন জানার পরে সেই গোটা ব্যবস্থার আগাপাশতলা ঝাড়াবাছা শুরু করছে তৃণমূল। নজর রাখছে দলের ভোট-কুশলী সংস্থাও।

ভবানাপুরের ৮টি ওয়ার্ডই তৃণমূলের দখলে। এর মধ্যে ৬৩, ৭০, ৭১, ৭২, ৭৩ ওয়ার্ডের প্রস্তুতি দেখছেন বক্সী এবং ৭৪, ৭৭ ও ৮২-তে ফিরহাদ। সেখানকার ৭৩ নম্বরে ভ্রাতৃবধু কাজরী বন্দ্যোপাধ্যায় তো বটেই, অন্য পুর-প্রতিনিধিরাও কার্যত মুখ্যমন্ত্রীর ‘ঘরের লোক’। এই অবস্থায় দলের বুথ স্তরের সংগঠনকে আরও শক্তপোক্ত করে তুলতে এসআইআর-পর্ব থেকেই তৎপরতা শুরু করেছে তৃণমূল। প্রার্থী হিসেবে মমতা নিজেই দু’বার দলের বুথ লেভল এজেন্টদের (বিএলএ) সঙ্গে বৈঠক করেছেন। দীর্ঘ দিন ভোটের রাজনীতির অভিজ্ঞতা থেকে খুঁটিনাটি করণীয় বুঝিয়ে দিয়েছেন তিনিই। এসআইআর-পর্বে বক্সী, ফিরহাদ ছাড়াও এলাকার পুর-প্রতিনিধি ও ওয়ার্ডের দায়িত্বে থাকা গুরুত্বপূর্ণ নেতা-কর্মীদের সঙ্গে যোগাযোগে ছিলেন মমতা নিজেই। প্রকাশ্যে বিশেষ আমল না-দিলেও শুভেন্দু প্রার্থী হওয়ায় গোটা ব্যবস্থাকে ‘নিশ্ছিদ্র’ রাখতে ইতিমধ্যেই দলের নেতাদের সঙ্গে কথা হয়েছে তাঁর।

ভবানীপুরে বক্সীর জায়গায় ২০১১ সালে মমতা উপনির্বাচনে জিতেছিলেন। ক্ষমতায় আসার সময় দলের পক্ষে তীব্র হাওয়া বাদ দিলে ২০১৬ সালে কংগ্রেস ও বামেদের জোটের সামনে এখানে মমতার ভোট ছিল ৪৮%-এর মতো। পরের নির্বাচনে তৃণমূল নেত্রী নন্দীগ্রামে প্রার্থী হওয়ায় এখানে লড়েছিলেন শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়। সেই ২০২১ সালের নির্বাচনে ১০%-এর বেশি ভোট বেড়েছিল তৃণমূলের। নন্দীগ্রামে পরাজিত হওয়ায় মাস কয়েকের মধ্যে উপনির্বাচনে মমতার ভোট ছুঁয়েছিল প্রায় ৭২%! ছোট কেন্দ্র ভবানীপুরে এসআইআর-এ বড় সংখ্যক নাম বাদ যাওয়ায় গোড়া থেকেই সতর্ক তৃণমূল। তবে প্রস্তুতিতে নন্দীগ্রাম ও শুভেন্দু যে মাথায় আছে, তার ইঙ্গিত দিয়েই দলের এক নেতার মন্তব্য, ‘‘এটা রুটিন প্রস্তুতি। রাজ্যের সব আসনে যা হয়, এখানেও তা-ই হচ্ছে। প্রার্থী ঘরের মেয়ে। তবে নন্দীগ্রামের মতো চুরি ঠেকাতেও এ বার নজর থাকবে!’’

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন

এটি একটি প্রিমিয়াম খবর…

  • প্রতিদিন ২০০’রও বেশি এমন প্রিমিয়াম খবর

  • সঙ্গে আনন্দবাজার পত্রিকার ই -পেপার পড়ার সুযোগ

  • সময়মতো পড়ুন, ‘সেভ আর্টিকল-এ ক্লিক করে

সাবস্ক্রাইব করুন