Pushan Dasguta in Vijaynagarer Hire

পর্দায় এখন চেনামুখ, তারকাতনয় না হয়েও কেমন ছিল পূষনের যাত্রাপথ?

পূষনের প্রশ্ন, “তারকাসন্তান হলে কি বেশি কাজ পেতাম?” উত্তরও তিনিই দিলেন যে, পিছনে কেউ থাকলে হয়তো এই পর্যায়ে পৌঁছোতে আরও খানিকটা বেশি সময় লাগত।

Advertisement

অনির্বাণ মুখোপাধ্যায়

শেষ আপডেট: ২৯ মার্চ ২০২৬ ১৩:১৮
Share:

'বিজয়নগরের হীরে'-র লোকেশনে পূষন দাশগুপ্ত। ছবি: সংগৃহীত।

‘পাশের বাড়ির ছেলে’— এই খণ্ডবাক্যটি ইদানীং বহুকথিত হতে হতে খানিক ক্লিশেই হয়ে গিয়েছে বলে মনে হয়। তবু যখন রুপোলি পর্দায় কোনও নতুন মুখ দেখলে তার নেপথ্যকথা ছানবিন করতে ইচ্ছুক হয়ে ওঠেন দর্শকেরা, তখন এই বাক্যখণ্ডটি ব্যবহারের লোভ সামলাতে পারে না মিডিয়া। কথাটা পূষন দাশগুপ্ত সম্পর্কে খানিক সত্যও বটে। চন্দ্রাশিস রায় পরিচালিত সম্প্রতি মুক্তিপ্রাপ্ত ছবি ‘বিজয়নগরের হিরে’-তে জোজো চরিত্রে অভিনয় করে বেশ নজর কেড়েছেন বছর ২৭-এর পূষন। তবে তিনি ইন্ডাস্ট্রিতে নবাগত নন। এর আগেও কাজ করেছেন বেশ কয়েকটি ওয়েব সিরিজ় এবং সিনেমায়। নায়ক নয়, পার্শ্বচরিত্রেই তাঁকে দেখা গিয়েছে এ পর্যন্ত।

Advertisement

পূষনের বাবা পার্থ দাশগুপ্ত শিক্ষায় প্রযুক্তিবিদ হলেও কার্যত একজন মুক্ত জীবিকার মানুষ। কলাপ্রেমিক। মা পাপিয়াদেবী নৃত্যশিল্পী। উচ্চমাধ্যমিকের পরে যখন পূষন অভনয় নিয়েই নিজের কেরিয়ার গড়ার কথা বাড়িতে বলেন, বাবা-মায়ের তরফে কোনও আপত্তি আসেনি।

পূষন প্রেসিডেন্সি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক হন পারফর্মিং আর্টস নিয়ে। তবে অভিনয় শুরু মাত্র ৬ বছর বয়সে। মঞ্চে। ২০০৫ সালে ‘পঞ্চম বৈদিক’-এর ছোটদের নাটক লীলা মজুমদারের লেখা ‘লঙ্কাদহন পালা’য় খুদে রাক্ষসের ভূমিকায়। ২০১১ সাল পর্যন্ত সেই দলের সঙ্গেই অভিনয় করেছেন পূষন। ২০১২-এ ‘নান্দীকার’-এ যোগ দেন। মঞ্চাভিনয় যে তাঁকে অনেক কিছু শিখিয়েছে, তা বার বার মনে করালেন পূষন।

Advertisement

প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়ের পরামর্শ তাঁর পাথেয়, মনে করেন পূষন। ছবি: সংগৃহীত

পূষনের সঙ্গে বৃহত্তর দর্শকমণ্ডলীর পরিচয় ২০১৭-এ কোরক মুর্মুর পরিচালনায় ‘খ্যাপা’ নামের এক ওয়েব সিরিজ় মারফত। ‘খ্যাপা’য় শান্ত বাগ নামের একটি চরিত্রে অভিনয় করেছিলেন। খানিক কিম্ভুত সেই চরিত্র দর্শকের নজর টানে। ২০১৯-এ পূষন নিজের লুক বদলান। একমাথা বোঝাই ঝাঁকড়া চুলের শান্ত বাগ কেমন যেন একটা অন্তঃসলিলা জনপ্রিয়তা লাভ করে নেটমাধ্যমে। সেই সঙ্গে পূষনের কমিক টাইমিং ও একটা আপাত-ক্যালাস হাবভাব তাঁকে ‘খ্যাপা’র আকর্ষণবিন্দু করে তোলে।

বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াকালীনই বড় পর্দায় অভিনয়ের সুযোগ আসে। ‘কিশোরকুমার জুনিয়র’ এবং ‘জেনারেশন আমি’-তে অভিনয় করেন এবং এই সময়েই হইচই-এর ‘হস্টেল ডেজ়’ নামের এক সিরিজ় তাঁকে বৃহত্তর দর্শকের কাছে নিয়ে আসে। এর পরের বড় কাজ রাজ চক্রবর্তীর সিরিজ় ‘আবার প্রলয়’।

সাম্প্রতিক বড়পর্দার ছবি ‘বিজয়নগরের হীরে’-তে আবার এক গুরত্বপূর্ণ চরিত্রে নির্বাচিত হন পূষন। সুনীল গঙ্গোপাধযায়ের কাহিনি অবলম্বনে এ ছবিতে কাকাবাবু-সন্তু জুটির অন্যতম সাইডকিক জোজোর ভূমিকায় দেখা গেল পূষনকে। জোজো খানিক খ্যাপাটে চরিত্র। মাঝেমধ্যে কমিক রিলিফও বটে। কেমন ছিল বিজয়নগর তথা হাম্পিতে শুটিংয়ের অভিজ্ঞতা? পূষন জানালেন, এর আগে হাম্পি গিয়েছেন তিনি। কিন্তু এ বারের হাম্পি ‘ভ্রমণ’ ছিল একেবারেই লালাদা। প্রথমত, শুটিংয়ের দৌলতে এমন কিছু জায়গায় তাঁরা যেতে পেরেছিলেন, যেখানে সাধারণ নাগরিকে প্রবেশ নিয়ন্ত্রিত। দ্বিতীয়ত, প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায় নামের মানুষটির সাহচর্য এই ভ্রমণটিকে পূষনের কাছে স্মরণীয় করে রেখেছে। “একজন মানুষ কোন জাদুতে আশির দশকের শেষ থেকে আজ পর্যন্ত নিজেকে ‘রেলেভেন্ট’ রেখে গেলেন, সেটাই আমার কাছে সব থেকে বড় বিস্ময়,” বললেন পূষন।

তারকা-তনয় নন, গ্ল্যামারেও তেমন বিশ্বাস নেই পূষনের। ছবি: সংগৃহীত।

আজ এই বিশেষ জায়গাটিতে পৌঁছতে পেরোতে হয়েছে বেশ খানিকটা পথ। কিন্তু তথাকথিত তারকাসন্তান না হয়েও কী ভাবে এই পথচলা সম্ভব হল? প্রশ্ন করায় পূষনের পালটা প্রশ্ন, “স্টারকিড হলে কি বেশি কাজ পেতাম?” উত্তরও তিনিই দিলেন যে, পিছনে কেউ থাকলে হয়তো এই পর্যায়ে পৌঁছোতে আরও খানিকটা বেশি সময় লাগত। তবে একটা ব্যাপারে বেশ প্রত্যয়ী পূষন। তাঁর মতে পশ্চিমবঙ্গের ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রি মুম্বইয়ের মতো ‘অরগানাইজ়ড’ নয়। এখানে ‘কাস্টিং এজেন্সি’ বিষয়টাই অনুপস্থিত। তিনি নিজেও যে কাজ পেতে খুব তৎপর ছিলেন (বা এখনও আছেন), তা নয়। স্কুলের বন্ধু ঋতব্রত মুখোপাধ্যায়ের কথা বার বার বললেন পূষন। এই অভিনেতা বন্ধুটিই যাকে ‘ঠেলা দেওয়া’ বলে, সেই কাজটি করে গিয়েছেন। কোথায়, কোন কাজে অভিনেতার সন্ধান চলেছে, সেই খবর ঋতব্রতই এনে দিয়েছেন। জোর করে পাঠিয়েছেন কাস্টিংয়ের ইন্টারভিউয়ে। সে অর্থে পোর্টফোলিয়ো হাতে নিয়ে তেমন ঘুরতে হয়নি স্টুডিয়োপাড়ায়। পূষনের মতে, নিজের মহল্লাটা বেড়ে গিয়েছে গত কত কয়েক বছরে। এই মুহূর্তে তাঁর হাতে একাধিক কাজ। মঞ্চে অভিনয়ও করতে হচ্ছে নিয়মিত।

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement