(বাঁ দিকে) অনিন্দ্য বসু, রাঘব চট্টোপাধ্যায় (ডান দিকে)। ছবি: সংগৃহীত।
স্বাধীন সঙ্গীতশিল্পী এবং মৌলিক গান শ্রোতাদের কাছে আরও বেশি করে পৌঁছে দেওয়ার জন্য নতুন উদ্যোগ। সঙ্গীতশিল্পী প্রবীর দাসের উদ্যোগে তৈরি হয়েছে ‘পারফরম্যান্স অফ বেঙ্গল’। যে সংগঠনের মুখপাত্র শিল্পী অনিন্দ্য বসু। লোকসঙ্গীত, মৌলিক গান এবং শিল্পীদের সুবিধা, গানের জগৎকে বিকশিত করার আর্জি জানিয়ে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীকে চিঠি দিলেন তাঁরা।
এই প্রেক্ষিতেই সাংবাদিক বৈঠকের আয়োজন করা হয়েছিল সংগঠনের তরফে। বিজেপি বিধায়ক রুদ্রনীল ঘোষের উপস্থিতিতেই মুখ্যমন্ত্রীকে নিজেদের আর্জি জানান শিল্পীরা। সংগঠনের সদস্য হিসাবে উপস্থিত ছিলেন রাঘব চট্টোপাধ্যায়, শিলাজিৎ মজুমদার, সিধু, পটা, দেব চৌধুরী।
সাংবাদিক বৈঠকে রাঘব চট্টোপাধ্যায়, শিলাজিৎ মজুমদার, রুদ্রনীল ঘোষ, অনিন্দ্য বসু-সহ অন্যান্য সদস্যেরা। —নিজস্ব চিত্র।
তাঁদের আর্জি, “স্বজনপোষণ বন্ধ হওয়া দরকার। বাংলা গানকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য সুস্থ এবং স্বচ্ছ পরিবেশ তৈরির প্রয়োজন। সঙ্গীত এবং বাদ্যযন্ত্রশিল্পীদের বার্ধক্যভাতা ও চিকিৎসায় সহায়তা করা প্রয়োজন।” শিল্পীদের প্রাপ্য সম্মান এবং সাম্মানিক নিয়েও আলোচনা হয়েছে এই দিন।
সিধু, রাঘব, শিলাজিৎদের দাবি লোকশিল্পী ,বাউল বা অন্য সঙ্গীতচর্চার সঙ্গে যুক্ত যাঁরা তাঁদের নিয়ে যেন আরও বেশি করে ভাবা হয়। তাঁদের পারিশ্রমিক এখনও তলানিতে, এই বিষয়ে ভাবারও আর্জি জানিয়েছেন তাঁরা।
রাঘব বলেন, “আমি সব ভাষাতেই গান গাই। আমার মনে হয় আমি যদি শো পাই, তা হলে নতুন ভাই-বোনেরা কেন পাবে না? সবসময় আমার একটা কথা মনে হয়েছে, বাংলায় এত ভাল গুণী শিল্পী রয়েছেন, কিন্তু তার পরেও কেন মুম্বইয়ের শিল্পীদের দিয়ে বাংলা গান গাওয়ানো হবে?” সংগঠনের মুখপাত্র অনিন্দ্যের দাবি, “বাংলা গান শোনানোর জন্য সংশ্লিষ্ট এফএম চ্যানেল তৈরি হওয়া উচিত।”
রুদ্রনীলের দাবি, তিনি হলেন বার্তাবাহক। তিনি মুখ্যমন্ত্রীকে এই আর্জির কথা জানাবেন। বিজেপি বিধায়ক বলেন, “গত ১৫ বছর ধরে যোগ্যতাকে দমন করা হয়েছে। ব্যক্তিপছন্দের ভিত্তিতে কাজ করা হয়েছে। সেই অনুযায়ী ফতোয়া জারি করা হয়েছে। কিন্তু যে ব্যবস্থা এত দিন ধরে চলে এসেছে, মানুষের সিদ্ধান্তে সেই সিস্টেমের পরাজয় হয়েছে।” বিজেপি বিধায়কের মতে এই আর্জিতে যদি লোকশিল্পীদের কীর্তন, শ্রীখোলবাদের অবস্থান সম্পর্কে উল্লেখ করা যায়, এই আর্জি তা হলে আরও মজবুত হয়।