কেন অবসাদে আমির খান? ছবি: সংগৃহীত।
এমনিতেই তাঁর ব্যক্তিজীবন নিয়ে আলোচনার অন্ত নেই। ষাটে ফের প্রেমে পড়ায় সমাজের নীতিপুলিশদের রক্তচক্ষু সহ্য করতে হয়েছে তাঁকে। তবু নিজের সিদ্ধান্তে অনড় আমির। নতুন প্রেমিকা গৌরী স্প্র্যাটকে নিয়ে সুখে রয়েছেন। আমিরের আগের দুটি বিবাহিত সম্পর্ক থেকে তিন ছেলে-মেয়ে। এ দিকে প্রেমিকা গৌরীর প্রথম বিয়ের এক ছেলে রয়েছে। রীতিমতো ভরা সংসার তাঁর। তবু মানসিক শান্তি নেই। অবসাদে রয়েছেন আমির।
গত কয়েক বছর ধরে কর্মজীবনে একের পর এক ব্যর্থতা দেখছেন আমির। অভিনয় বা প্রযোজনা, কোনটাওতেই দর্শকের সঙ্গে যোগ স্থাপন করতে সক্ষম হচ্ছেন না আমির। ১ মে আমিরের ছেলে জুনেইদ খানের ছবি ‘এক দিন’ মুক্তি পায়। ছবিতে জুনেইদের সঙ্গে অভিনয় করেছেন দক্ষিণের জনপ্রিয় অভিনেত্রী সাই পল্লবী। তাঁর অভিনয়ের উচ্ছ্বসিত প্রশংসা করেন আমির। কিন্তু পর্দায় তাঁদের রসায়ন মন ছুঁতে পারেনি দর্শকদের। মাত্র দু’সপ্তাহের মধ্যে হল থেকে বিদায় নেয় এই ছবি। যদিও নিজের ছবির ব্যর্থতার পর ভেবেছিলেন ছেলে জুনেইদের ছবিতে তাঁর উপস্থিতি ভাল ফল করবে। কিন্তু সেখানেও সেই ব্যর্থতাই।
আমির জানান, তাঁর কাছে এ যেন সন্তান হারানোর বেদনা। কারণ প্রতিটি ছবিকে সন্তানের মতো দেখেন তিনি। ছবি ব্যর্থ হওয়ার পিছনে নিজেকেই দায়ী করছেন। আমিরের কথায়, ‘‘যখন আমার কোনও সিনেমা চলে না, আমি দু’-তিন মাসের জন্য হতাশায় চলে যাই। একটি সিনেমা সন্তানের মতো। যখন এটি চলে না বা মানুষ যখন প্রত্যাখ্যান করে, তখন সেটা খুবই বেদনাদায়ক। আমার মনে হয়, ক্ষতি মেনে নিয়ে শোকের মধ্যে থাকাটা জরুরি। সিনেমা না চললে, সেটা সন্তান হারানোর মতো। আমি মনে করি সেই সময়ে কাঁদা উচিত, সময় দেওয়া উচিত, যাতে এই কষ্টটা মন থেকে বেরিয়ে যায় এবং আপনাকে এগিয়ে যেতে সাহায্য করে।’’
পাশপাশি আমির জানান, কিছু সিনেমার প্রথম ঝলক দেখেই তিনি বুঝে যান, সেটি আদৌ দর্শক পছন্দ করবেন কি না! তবে জুনেইদের ছবিটা তাঁর ভাল লেগেছিল। তিনি ভেবেছিলেন, দর্শক ভালবাসা দেবেন ছবিটিকে। কিন্তু আমিরের সেই আশাপূরণ হয়নি।