Durgapuja 2025

‘অশুভ শক্তি’ বলে দাগিয়ে দিতে রাজি নই আমি, অসুরও আমার চোখে নায়ক: অঙ্কুশ

শুভ, অশুভ বলে আলাদা করে কিছু মানি না। সব কিছুই নির্ভর করে মানুষের দৃষ্টিভঙ্গির উপর। তাই পরস্পরের অনুভূতি উপলব্ধি করা খুব প্রয়োজন।

Advertisement

অঙ্কুশ হাজরা

শেষ আপডেট: ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৫ ১২:০৮
Share:

শুভ,অশুভ সবটাই দৃষ্টিভঙ্গির ব্যাপার। নিজস্ব চিত্র।

পুজোয় আমি ‘খলনায়ক’। তাই কি আমায় ‘অসুর’ নিয়ে বলতে বলা হল? এই কথাটাই অনেকক্ষণ ধরে ভেবে চলেছি। কারণ, বাস্তবে তো এমন কোনও কাজ আমি করিনি, যেটার সঙ্গে অসুরের মিল পাওয়া যায়। আসলে অসুর মানেই তো ধরে নেওয়া হয় খারাপ কিছু। কিন্তু জানেন তো, সবটাই আসলে দৃষ্টিভঙ্গি।

Advertisement

মা দুর্গা দুষ্টের দমন করেছিলেন। অর্থাৎ দেবী দুর্গা যেমন শক্তির প্রতীক, তেমনই অসুরের ক্ষেত্রেও আমরা ধরে নিই উনি অশুভ শক্তির প্রতীক। যদিও আমি অত পুরাণ জানি না। তাই এই বিষয়ে বেশি তত্ত্বকথা বলতে পারব না। তবে আমার সত্যিই মনে হয়, সবটাই যার যেমন দৃষ্টিভঙ্গি। যেমন, ‘রক্তবীজ ২’ ছবিতে আমার চরিত্রটি হল মুনির আলম। আমাকে দেখে দর্শকের স্বাভাবিক ভাবেই রাগ হবে। কিন্তু আমার ভাবনা থেকে ভাবার চেষ্টা করলে সবটাই ঘুরে যাবে।

তাই আমার চোখে অসুরও কিন্তু ‘নায়ক’। কোনও ভাবেই ‘অশুভ শক্তি’ বলে আমি কখনও দাগিয়ে দিতে রাজি নই। কয়েক বছর হল নিজের প্রযোজনা সংস্থা শুরু করেছি আমি। তার আগে অনেক প্রযোজনা সংস্থার সঙ্গে কাজ করেছি অভিনেতা হিসাবে। নিজের ব্যবসা শুরু করার অর্থ হল স্বাধীন ভাবে কাজ করতে চাই। আমি যে ধরনের গল্প দর্শককে বলতে চাই বা যে ধরনের চরিত্রে আমি অভিনয় করতে চাই, তার সঙ্গে প্রযোজকের ভাবনাচিন্তার মিল না-ই থাকতে পারে। সেখানে কি আমি বলব, সেই সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ভাল নয়?

Advertisement

আমি এমন প্রযোজকের পাল্লাতেও পড়েছি, যিনি ভেবেছেন ১০-১১ দিনে সিনেমা তৈরি করবেন। কোনও রকমে সেই ছবি প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি দিয়ে দেবেন। কিন্তু আমি তো তা চাই না। সে ক্ষেত্রে আমার দৃষ্টিভঙ্গি দিয়ে বিচার করলে সেই প্রযোজককে আমার ‘খারাপ’ বলে মনে হবে। কিন্তু আমি যদি তাঁর দিক থেকে ভাবি। উনি তো ইন্ডাস্ট্রিতে ব্যবসা করতে এসেছেন। লাভ করতে এসেছেন। শিল্পীসত্তা বা সৃজনশীলতা তিনি না-ই বুঝতে পারেন। তাই আমার মনে হয়, আমাদের কখনও কাউকে খারাপ বা ভাল বলে সম্বোধন করাই উচিত নয়। কে কোন পরিস্থিতিতে পড়ে খারাপ হতে বাধ্য হয়েছে, তা কারও জানা সম্ভব নয়।

তবে নিজের ক্ষমতা বা শক্তিকে সবসময় ইতিবাচক ভাবেই ব্যবহার করা উচিত। এই ক’টা বছরে মানুষ অঙ্কুশের এটুকুই উপলব্ধি হয়েছে।

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement