Tanuka On Bengali Industry

আমার কোনও গল্প নেই, যেন অন্যের গল্পের অংশ! অভিনয়জীবনে অতৃপ্তি থেকেই কি আক্ষেপ তনুকার?

নিজের অবস্থান নিয়ে খুশি তিনি। সত্যিই কি অন্তর থেকে খুশি? মঞ্চ থেকে পর্দা— দীর্ঘ সময় পেরিয়ে চাওয়া-পাওয়ার ঝুলি উপুড় অভিনেত্রীর।

Advertisement

আনন্দবাজার ডট কম সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ১৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ১৭:৪৮
Share:

তনুকা চট্টোপাধ্যায়। ছবি: ফেসবুক।

তখন তিনি অর্থনীতিতে স্নাতকের ছাত্রী। বয়স বড়জোর ২১-২২। উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ ছেড়ে অভিনয়দুনিয়ায় তনুকা চট্টোপাধ্যায়। প্রথমে মঞ্চ। তার পরে ছোটপর্দার জনপ্রিয় অভিনেত্রী। ‘গাঁটছড়া’, ‘গুড্ডি’, ‘কথা’র মতো বেশ কিছু জনপ্রিয় ধারাবাহিক তাঁর ঝুলিতে।

Advertisement

হঠাৎই তনুকার সমাজমাধ্যমে একটি শব্দবন্ধ, ‘ইন্ডাস্ট্রি?’ সঙ্গে ভয়ের ‘ইমোজি’। কিছু ঘটেছে অভিনেত্রীর সঙ্গে? অভিনেত্রী নীরব। বদলে মন্তব্যবাক্সে বানভাসি। নানা মুনির নানা মত। প্রকৃত ঘটনা কী? আনন্দবাজার ডট কম যোগাযোগ করেছিল তাঁর সঙ্গে। তনুকা বললেন, “আমি ভাল আছি। একের পর এক ধারাবাহিকে অভিনয় করছি। দর্শক প্রশংসা করছেন। ভাল লাগছে।” একটু থেমে যোগ করেছেন, “কিন্তু চারপাশে মাঝেমধ্যে এমন অনেক কিছুই চোখে পড়ে, যা দেখে মনটা খারাপ হয়ে যায়। তখনই দীর্ঘশ্বাস পড়ে। বেরিয়ে আসে টুকরো কথা।” যদিও এর বেশি কিছু বলতে নারাজ তিনি।

তবে কথায় কথায় তনুকা ফিরে দেখেছেন অতীত। “ইকনমিক্স নিয়ে না প়়ড়ে ক্যামেরার সামনে আসি। মা-বাবা, বাড়ির বড়রা রাগের চোটে সাত দিন কথা বলেননি!” তনুকার প্রথম প্রেম মঞ্চ। সেখানে নিজেকে প্রমাণের পরে ছোটপর্দায়, ছায়াছবিতে। “জানেন, সেই সময়ের চরিত্রগুলোয় অভিনয়ের সুযোগ ছিল। মঞ্চে এখনও আছে। মূলত ছোটপর্দায় বেশি অভিনয় করেছি। তখনকার চিত্রনাট্যে প্রত্যেকটি চরিত্রের আলাদা মাত্রা থাকত।” সেই সময় চলে গিয়েছে, প্রতি মুহূর্তে যেন সেটাই অনুভব করছেন তিনি। তনুকার চরিত্রায়ণেও তাই বদল এসেছে। অভিনেত্রী মা-কাকিমা-মাসিমা কিংবা ঠাকুরমায়ের চরিত্রে মানিয়ে নিয়েছেন। হাসতে হাসতে বলেছেন, “আমার নিজের কোনও গল্প নেই। আমি যেন অন্যের গল্পের অংশমাত্র!” অতীত মনে পড়লে তনুকার মনে তাই প্রশ্ন জাগে, “আমার কি কিছুই পাওনা নেই? ইন্ডাস্ট্রির থেকে কিছুই কি ‘ডিজ়ার্ভ’ করি না?”

Advertisement

এই ‘বদলে যাওয়া’ ইন্ডাস্ট্রিই কি দুঃখের কারণ? অস্বীকার করেননি তনুকা। জানিয়েছেন, বদল অস্বাভাবিক নয়। তাঁর মধ্যেও অনেক বদল এসেছে। তিনিই তো আগের মতো নেই। কিন্তু তাঁর সময়ে সংবেদনশীলতা, সহনশীলতার ঘাটতি ছিল না। “আমাদের সময়ের সমাজ বেশি অনুভূতিপ্রবণ ছিল। এই প্রজন্ম শুধুই নিজেরটুকুই বোঝে।” তার জন্য অবশ্য তনুকা দোষ দিচ্ছেন না এই প্রজন্মকে। তিনি বুঝেছেন, এখনকার ছেলেমেয়েরা জন্মে থেকে এমনই পরিবেশে বড় হয়েছে।

তবে তনুকা যে এই প্রজন্মের থেকে ভালবাসাও পান, সে কথা জানাতেও ভোলেননি।

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement