প্রেমদিবসে ভালবাসায় ডুবে দিব্যাণী মণ্ডল, দিব্যজ্যোতি দত্ত। ছবি: সংগৃহীত।
বলিউডে অ্যাকশনধর্মী ছবির ফাঁকেও প্রেমের ছবি হয়। যেমন, ‘সইয়ারা’। বাংলা ছবিতে বিশুদ্ধ প্রেমের গল্প কই? টলিউডে গল্প বলার ধারা যত বদলেছে, রোমান্টিক ছবি যেন ‘সোনার পাথরবাটি’! পরিচালক-প্রযোজকদের হা-হুতাশ, দেব-শুভশ্রীর মতো জুটি কই?
খবর, এ বছরের প্রেম দিবসে প্রযোজক রানা সরকার, পরিচালক অভিমন্যু মুখোপাধ্যায় সেই অভাব পূরণ করছেন। প্রথমবার প্রযোজক আর পরিচালক জুটি বাঁধছেন নতুন ছবি ‘রেড ফ্ল্যাগ: ভালবাসা বেশি’তে। ভরসা করেছেন ছোটপর্দার জনপ্রিয় দুই মুখ দিব্যজ্যোতি দত্ত আর দিব্যাণী মণ্ডলের উপরে।
ধারাবাহিক ‘অনুরাগের ছোঁয়া’র ‘সূর্য’ পরিচয় অতীত। দিব্যজ্যোতি সম্প্রতি রানার ‘লহ গৌরাঙ্গের নাম রে’ ছবিতে চৈতন্যদেবের ভূমিকায় অভিনয় করে দর্শকের মন জয় করেছেন। দিব্যাণীর ঝুলিতেও একের পর এক ছবি। তালিকায় ‘এম্পারর ভার্সেস শরৎচন্দ্র’, ‘গুনগুন করে মন মহুয়া’। প্রথম ছবির পরিচালক সৃজিত মুখোপাধ্যায়। দ্বিতীয়টি মহুয়া রায়চৌধুরীর জীবনীছবি। সেখানে তরুণী মহুয়ার ভূমিকায় দিব্যাণী।
দু’জনেই ছোটপর্দার জনপ্রিয় অভিনেতা। কিন্তু বড়পর্দায় আনকোরা। এঁদের নায়ক-নায়িকা বানিয়ে কেন এত বড় ঝুঁকি নিচ্ছেন প্রযোজক, পরিচালক? নায়ক-নায়িকার নামে ‘দিব্য’যোগ রয়েছে। বড়পর্দায় দু’জনকেই প্রথম এনেছেন সৃজিত। এই দুই ‘যোগ’-এর ভরসাতেই কি বাংলা ছবির বৈতরণী পারের চেষ্টা? প্রযোজক আর পরিচালকের কাছে প্রশ্ন ছিল আনন্দবাজার ডট কম-এর।
জবাব দিতে গিয়ে রানা এবং অভিমন্যু উভয়েই জানিয়েছেন, দেব-শুভশ্রীর পরে আর জুটি তৈরি হল না— এই হা-হুতাশ সবার। অথচ কেউ নতুন জুটি আনতে সাহস দেখান না। সেই জায়গা থেকেই তাঁদের এই চেষ্টা। রানা যেমন বললেন, “কাউকে না কাউকে তো ঝুঁকি নিতেই হবে! দেব বা জিৎকে আজকের জায়গায় পৌঁছে দিতে শ্রীকান্ত মোহতা, মহেন্দ্র সোনি, হরনাথ চক্রবর্তী, রাজ চক্রবর্তীর মতো প্রযোজক-পরিচালকেরা তৎপর হয়েছিলেন। তাই তো দেব বা জিৎ-কে নিয়ে এত মাতামাতি!” অভিমন্যুও তা-ই বলছেন। তাঁর কথায়, “অনেক দিন বাংলায় বিশুদ্ধ প্রেমের ছবি হয় না। আমার ছবিতে সেই যুগ ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করছি। আমরা ছেলেবেলায় যে ঘরানার ছবি দেখে বড় হয়েছি, সেই ছবি শহর থেকে শহরতলি হয়ে গ্রাম— সব জয়গায় রমরমিয়ে চলেছে। ব্যবসা নিয়ে কাউকে ভাবতে হয়নি।”
সেই ঘরানাকে ফিরিয়ে আনতে তাই ‘রেড ফ্ল্যাগ: ভালবাসা বেশি’কে পরিচালক প্রেম, অ্যাকশন, ইমোশন আর গানে সাজিয়ে তুলবেন। শুটিং শুরু হবে মে মাসে। এখন চিত্রনাট্যে শেষ পর্যায়ের ঘষামাজা চলছে। “ঘষামাজা চলছে নায়ক-নায়িকারও, যাতে ওঁদের বড়পর্দায় দেখে কেউ নিরাশ না হন”, বক্তব্য পরিচালকের। দিব্যাণীকে যেমন ছবিতে বাইক চালাতে, অ্যাকশন করতে দেখা যাবে। দিব্যজ্যোতি ফের মন দিয়েছেন শরীরচর্চায়। ছবিতে জানা গল্পকে এই প্রজন্মের মোড়কে মুড়ে উপহার দেবেন অভিমন্যু। জানালেন, গ্রামের ছেলে জয়। শহুরে কন্যে রঞ্জা। গ্রামে বেড়াতে এসে রঞ্জা ভালবেসে ফেলবে জয়কে। তার পর? “এই প্রজন্মের ‘বেঞ্চিং’, ‘ক্রাম্বিং’ পর্ব পেরিয়ে উভয়ে জড়িয়ে যাবে গভীর ভালবাসায়”, হাসতে হাসতে দাবি পরিচালকের। সব ঠিক থাকলে ছবি মুক্তি পাবে এ বছরের শীতে।
দিব্যজ্যোতি-দিব্যাণীকে পর্দায় আনছেন রানা সরকার, অভিমন্যু মুখোপাধ্যায়। ছবি: সংগৃহীত।
যাঁদের ঘিরে প্রযোজক, পরিচালকের এত স্বপ্ন, এত ভরসা, সেই নায়ক-নায়িকা কী বলছেন?
খুশি উপচে পড়েছে দিব্যজ্যোতি-দিব্যাণীর কণ্ঠে। ‘লহ গৌরাঙ্গের নাম রে’ ছবিতে দিব্যজ্যোতি অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ চরিত্র হলেও তাঁকে ঘিরে ছিলেন তাবড় তারকা। এ বার নিজ দায়িত্বে ছবি হিট করাতে হবে...। কথাশেষের আগেই নায়কের আশ্বাস, “ছবির জন্য যা করতে হয় করব। ভয় আমারও করছে। সেই ভয়কে চ্যালেঞ্জ হিসাবে দেখছি।” দিব্যাণী তুলনায় বুঝি ধীরস্থির। বললেন, “এক এক করে কাজ শেষ করছি। সৃজিত স্যরের ছবির কাজ হয়ে গিয়েছে। আগামী কাজ মহুয়ার তরুণীবেলায় অভিনয়। সেই পর্ব মিটিয়ে অভিমন্যু স্যরের ছবির জন্য নিজেকে প্রস্তুত করব। দিব্য দাদার সঙ্গে ভাল করে অভিনয় করতে হবে। নইলে আমাদের দেখতে দর্শক প্রেক্ষাগৃহে আসবেন কেন?”
সম্বোধনে ‘দিব্য দাদা’। এ দিকে ঠোঁটে ঠোঁটে ব্যারিকেড? প্রশ্ন শুনে হেসে ফেলেছেন নায়িকা। তার পরেই দিব্যাণীর চটপটে জবাব, “আগে নায়কের অনুমতি নিই, নাম ধরে ডাকতে পারব কি না। তার পর না হয় ‘দাদা’ ডাকা বন্ধ করব।”