কলাকুশলীদের মুখোমুখি বিজেপি বিধায়ক রুদ্রনীল ঘোষ। নিজস্ব চিত্র।
বিজেপি বিধায়ক নন, টলিউডের কলাকুশলীদের কাছে রুদ্রনীল ঘোষ ‘ঘরের ছেলে’। তাঁদেরই আবদারে বুধবার বৈঠকে তিনি কলাকুশলীদের মুখোমুখি। ধৈর্য ধরে শুনলেন ২৬টি গিল্ড-এর ৩২ জন সদস্যের অভাব-অভিযোগ। আশ্বাস দিলেন, “আপনাদের সব বক্তব্য পৌঁছে দেব মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর কাছে। আমায় এই দায়িত্ব দিয়েই পাঠানো হয়েছে।”
আগের সরকার বিদায় নিতেই টলিপাড়ায় গুঞ্জন, ইন্ডাস্ট্রিতে দুর্নীতির আখড়া ফেডারেশন। আগামী দিনে এই সংগঠনের অস্তিত্ব না-ও থাকতে পারে। বুধবার সকালে টেকনিশিয়ান স্টুডিয়োয় সংবর্ধনা দেওয়া হয় টালিগঞ্জের জয়ী বিজেপি প্রার্থী পাপিয়া অধিকারীকে।ফেডারেশনের অফিস গঙ্গাজল দিয়ে শুদ্ধিকরণ করে তিনিও তেমনই আভাস দেন। আগামী দিনে ইন্ডাস্ট্রিকে রাজনীতি এবং দুর্নীতিমুক্ত রাখতে সত্যিই কি ফেডারেশন থাকবে না? রুদ্রনীলকে প্রশ্ন করেছিল আনন্দবাজার ডট কম।
জবাবে রুদ্রনীল বলেন, “সেই সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা আমি বা রূপা গঙ্গোপাধ্যায়, পাপিয়া অধিকারী, হিরণ চট্টোপাধ্যায়ের নেই। আমরা টলিউডের বর্তমান পরিস্থিতি, কলাকুশলীদের অভাব-অভিযোগ, চাহিদার কথা মুখ্যমন্ত্রীকে জানাব। তিনি সিদ্ধান্ত নেবেন।” এই প্রসঙ্গে অভিনেতা-রাজনীতিবিদ আরও জানান, দুর্নীতিমুক্ত ইন্ডাস্ট্রি দেখতে চায় নতুন সরকার। মুখ্যমন্ত্রীর কড়া নির্দেশ, টলিউডে যেন আগামী দিনে শুধুই কাজ হয়। সবাই যেন কাজ পান। ফেডারেশন, গিল্ড-সহ টলিউডের সমস্ত সংগঠনের প্রতিনিধি বাছা হবে সুষ্ঠু নির্বাচনের মাধ্যমে। ভোট দিয়ে প্রতিনিধিদের বাছবেন সদস্যরা। এ দিন এ কথা জানাতেও ভোলেননি রুদ্রনীল। আশ্বাস দিয়ে বলেন, “যা গিয়েছে তা যাক। আসুন, সবাই মিলে নতুন ভাবে বাঁচার স্বপ্ন দেখি।”
এ দিনের বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন পরিচালক সৃজিত মুখোপাধ্যায়, ইন্দ্রদীপ দাশগুপ্ত, জয়দীপ মুখোপাধ্যায়, সৃজিৎ রায়, পরমব্রত চট্টোপাধ্যায় প্রমুখ। প্রযোজকদের মধ্যে ছিলেন অশোক ধানুকা, নিসপাল সিংহ রানে, ফিরদৌসল হাসান, সুশান্ত দাস, সৌরভ দাস-সহ অনেকেই। 'বন্ধু' রুদ্রনীলকে স্বাগত জানিয়ে প্রত্যেকের অনুরোধ, আর যেন কারও কাজ বন্ধ না হয়। কাউকে যেন প্রকাশ্যে ক্ষমা চাইতে না হয়। ইন্ডাস্ট্রি বহিরাগতরা যেন আর কোনও সংগঠনের প্রতিনিধি নির্বাচিত না হন। কেউ যেন অত্যাচারিত না হন। পরমব্রত বলেন, “রাজনৈতিক আদর্শ প্রত্যেকের থাকবে। থাকবে ভিন্ন মত। কিন্তু কাজে যেন তার ছায়া না পড়ে। সবাই যেন মন দিয়ে সিনেমা, সিরিজ়, ছবি বানান।” বন্ধুর সুরে সুর মিলিয়ে রুদ্রনীলও বলেন, “রাজনৈতিক মত যার যার। কাজ সবার।”
যাঁদের অনুরোধে এই বিশেষ বৈঠক, সেই কলাকুশলীরা কী বললেন? রূপসজ্জাশিল্পী সিমরন পাল-সহ একাধিক কলাকুশলী এ দিন কান্নায় ভেঙে পড়েন। জানান, তাঁদের উপর ঘটে যাওয়া অত্যাচারের কথা। মতে এবং পথে না মিললে কী ভাবে দিনের পর দিন তাঁদের খুনের হুমকি দেওয়া হয়েছে, সে কথাও আজ প্রকাশ্যে বলে ‘বিচার’ চান প্রত্যেকে।