(বাঁ দিকে) মাধুরী দীক্ষিত, (ডান ডিকে) সুরেশ ওয়াডকর। ছবি: সংগৃহীত।
বলিউড এক সময়ে মোহিত হয়েছিল তাঁর হাসির ছটায়। ঘায়েল হত একের পর এক পুরুষ অনুরাগীর হৃদয়। এ হেন সুন্দরী মাধুরী দীক্ষিতকে ফিরিয়ে দিতে পারেন এমন পুরুষ মেলা দুষ্কর। তবে শোনা যায়, আশির দশকের জনপ্রিয় গায়ক সুরেশ ওয়া়ডকর নাকি এমনই ‘অসম্ভব’ এক কাজ করেছিলেন। মাধুরীকে বিয়ে করতে নাকচ করেছিলেন তিনি! সেই নিয়ে আলোচনা নেহাত কম হয়নি। অবশেষে সেই বিতর্কে মুখ খুললেন গায়ক।
‘অবোধ’ সিনেমার মাধ্যমে বলিউডে আত্মপ্রকাশ করেন মাধুরী। সেই সময় তাঁর বয়স ১৭-র কাছাকাছি। তখন আশির দশক। নব্বইয়ের দশকের শুরু থেকেই একের পর হিট দিয়ে মাধুরী জনপ্রিয় অভিনেত্রী হিসাবে প্রতিষ্ঠিত হতে শুরু করেন। রক্ষণশীল মরাঠি পরিবারের মেয়ে মাধুরী, বাবা-মায়ের নাকি চিন্তা ছিল মেয়ের বিয়ে নিয়ে। শোনা যায়, গায়ক সুরেশ ওয়াডকরের কাছে মাধুরীকে বিয়ের জন্য প্রস্তাব পাঠান তাঁর বাবা-মা। বলিউডে সবে তখন কয়েকটা গান গেয়েছেন সুরেশ। তবে ১২ বছরের ছোট মাধুরীকে বিয়ে করতে তিনি মোটেই রাজি হননি।
মাধুরীর মতো নায়িকাকে বিয়ের প্রস্তাব ফিরিয়ে দেন গায়ক? কেন? গুঞ্জন, সুরেশের মনে হয়েছিল মাধুরী নাকি খুবই রোগা। সেই জন্যই নাকি অভিনেত্রীকে বিয়ে করতে রাজি হননি গায়ক। যদিও সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে তিনি জানান, এমন কোনও প্রস্তাব তাঁর কাছে কখনও আসেইনি। তা ছাড়া যে সময়ের কথা বলা হচ্ছে, সুরেশের জীবনে তখন নাকি তাঁর বর্তমান স্ত্রী পদ্মা এসে গিয়েছেন। তিনি ছিলেন গায়কের শিষ্যা। তাঁরই প্রেমে পড়েন গায়ক, পরে বিয়েও করেন।
এখানেই শেষ নয়। সুরেশের দাবি, এই গোটা ঘটনাই নাকি অভিনেত্রী অর্চনা পূরণ সিংহের রটানো। কোনও এক সময়ে, কোনও এক অনুষ্ঠানে অর্চনা নাকি এই গল্প শোনান। তার পর থেকেই এই প্রশ্নের উত্তর দিয়ে যাচ্ছেন নাকি তিনি। সুরেশের কথায়, ‘‘মাধুরী আমার খুব ভাল বন্ধু। এটা নিয়ে ভুলভাল কিছু বললে ও আমাকে ছেড়ে কথা বলবে না!’’
ইন্ডাস্ট্রির অনেক নায়কের সঙ্গে নানা সময়ে মাধুরীর প্রেমের গুঞ্জন শোনা গিয়েছিল। তার পর ১৯৯৯ সালের ১৭ অক্টোবর, আমেরিকার বাসিন্দা চিকিৎসক শ্রীরাম মাধব নেনের সঙ্গে সাত পাকে বাঁধা পড়েন মাধুরী। দুই সন্তানও রয়েছে তাঁদের। নেনের সঙ্গে সুখী দাম্পত্যজীবনের ছবি রয়েছে তাঁর সমাজমাধ্যমের পাতায়। তবে চিকিৎসকের স্ত্রী হওয়া খুব সহজ নয়। অভিনেত্রী এক সময়ে জানান, বিয়ের পরে সন্তানদের খেয়াল রাখা, স্কুলে নিয়ে যাওয়া— সবই একা হাতে সামলাতেন। মাধুরীর কথায়, ‘‘হয়তো একটা গুরুত্বপূর্ণ কিছু ঘটছে, নেনেকে দরকার। কিন্তু, সে তখন ব্যস্ত হাসপাতালে, রোগীর দেখাশোনা করছে। কখনও হয়তো আমি অসুস্থ। কিন্তু, সে হাসপাতালে রোগীর পরিচর্যায় ব্যস্ত।” যদিও মাধুরী তাঁর চিকিৎসক স্বামীর জন্য গর্বিত। যে ভাবে নেনে রোগীদের খেয়াল রাখেন, তাঁদের জন্য লড়াই করেন, তা মুগ্ধ করে মাধুরীকে। অন্য দিকে, স্ত্রীর কাজের সুবিধার জন্য আমেরিকা ছেড়ে মুম্বইয়ে থাকা শুরু করেন নেনে।