—নিজস্ব চিত্র।
ভোটের ফল বার হওয়ার পর থেকে বন্ধ হয়ে পড়ে থাকা বাঁকুড়ার ইন্দাসে তৃনমূলের ব্লক কার্যালয়ের তালা ভেঙে ঢুকে পড়লেন এলাকার মানুষ। দুপুরে সেই কার্যালয় থেকে বস্তা বস্তা শাড়ি উদ্ধার হয়েছে। কার্যালয়ের একটি অংশে অতিথিশালা রয়েছে। সেখান থেকে মিলেছে প্রচুর কন্ডোমের প্যাকেট। ওই নিয়ে শোরগোল এলাকায়। তৃণমূলের স্থানীয় ব্লক সভাপতি-সহ স্থানীয় নেতৃত্বের শাস্তির দাবি করেন তাঁরা।
গত ১৫ বছর ধরে তৃণমূলের ‘গড়’ হিসাবে পরিচিত ছিল বাঁকুড়ার জেলার ইন্দাস। ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে ইন্দাস বিধানসভা হাতছাড়া হলেও পঞ্চায়েত সমিতি থেকে শুরু করে প্রতিটি পঞ্চায়েতে ছিল ঘাসফুলের দাপট। সেই সময় তৃণমূলের ব্লক সভাপতি শেখ হামিদের উদ্যোগে ইন্দাস বাজারে গড়ে ওঠে ত্রিতল দলীয় কার্যালয়। কার্যালয়ের ভিতরেই ছিল তৃণমূলের নিজস্ব গেস্ট হাউস। গেস্ট হাউসের অন্দরসজ্জা থেকে আসবাব যে কোনও বিলাসবহুল হোটেলের ঘরকে প্রতিযোগিতার মুখে ফেলতে পারে। কিন্তু ৪ মে-র পর সেই কার্যালয়ের রাস্তা মাড়াতে দেখা যায়নি তৃণমূলের বড়, মেজো বা ছোট কোনও নেতাকেই।
রাজ্য জুড়ে একের পর এক তৃণমূল কার্যালয়ে ভাঙচুর চলছে, সেই তালিকা থেকে বাদ গেল না ইন্দাস ব্লকের বিশাল কার্যালয়ও। প্রথমে ভাঙা হয় গেটের তালা। তার পর কার্যালয়ের মূল দরজা ভেঙে ঢুকে পড়েন স্থানীয় লোকজন। ভিতর থেকে বস্তা বস্তা শাড়ি উদ্ধার করেন। যদিও খানিক ক্ষণের মধ্যে সেগুলো লুট হয়ে গিয়েছে।
ইন্দাসের তৃণমূল কার্যালয়। —নিজস্ব চিত্র।
অভিযোগ, বেশ কিছু কন্ডোমের প্যাকেটও পড়ে থাকতে দেখেন বিক্ষোভকারীরা। বিজেপির ইন্দাস-১ মণ্ডলের সভাপতি উত্তম সরকার বলেন, ‘‘তৃণমূলের ইন্দাস ব্লকের সভাপতি শেখ হামিদ-সহ নেতারা সাধারণ মানুষের টাকা লুট করে এই বিশাল প্রাসাদোপম দলীয় কার্যালয় তৈরি করেছিলেন। দলীয় কার্যালয়ে থাকা গেস্ট হাউসে তৃণমূলের নেতা-নেত্রীদের দিনের আমোদ-প্রমোদের ব্যবস্থা ছিল। পড়ে থাকা কন্ডোমের প্যকেট তারই প্রমাণ দেয়। এলাকার মানুষ অনেক দিন ধরে ক্ষোভ চেপে রেখেছিলেন এই নেতাদের বিরুদ্ধে। আজ তারই বহিঃপ্রকাশ ঘটেছে। যে তৃণমূল নেতারা মানুষের অর্থ লুট করে দলীয় কার্যালয়ের নামে প্রাসাদ তৈরি করেন বিলাসবহুল জীবন কাটাবেন বলে, তাঁদের কঠোর শাস্তির দাবি জানাচ্ছি আমরা।’’