প্রতীকী ছবি।
সপ্তাহের প্রথম দিন। এমনিতেই ব্যস্ততা তুঙ্গে। তার উপরে মঙ্গলবার থেকে লাগাতার কর্মবিরতির ডাক। তার আগের দিন, অর্থাৎ সোমবার টেলিপাড়ার ছবিটা কেমন? কারণ, স্টুডিয়োপাড়ায় একমাত্র ধারাবাহিকের শুটিংই প্রতি দিন হয়।
সেই খবর জানার আগে জেনে নেওয়া যাক কেন লাগাতার কর্মবিরতির পথে টলিউড?
২৯ মার্চ শুটিং করতে গিয়ে তালসারিতে অস্বাভাবিক মৃত্যু হয় অভিনেতা রাহুল অরুণোদয় বন্দ্যোপাধ্যায়ের। প্রযোজনা সংস্থা ‘ম্যাজিক মোমেন্টস’-এর ধারাবাহিক ‘ভোলেবাবা পার করেগা’র আউটডোর শুটিং করতে গিয়েই অকালপ্রয়াণ তাঁর। এই মৃত্যু নাড়িয়ে দিয়েছে বাংলা বিনোদনদুনিয়াকে। অভিনেতা থেকে কলাকুশলী— সকলের প্রশ্ন, যাঁরা প্রত্যহ কমবেশি ২৪ ঘণ্টা কাজ করে চলেছেন, তাঁদের নিরাপত্তা কোথায়? এই প্রশ্নের জবাব খুঁজতেই মঙ্গলবার থেকে টলিপাড়ায় কর্মবিরতির ডাক। আর্টিস্ট ফোরাম এবং ফেডারেশন একযোগে এই লাগাতার কর্মবিরতির ডাক দিয়েছে। পাশে ইম্পা এবং প্রযোজকেরাও। সকলের নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করতে ‘এসওপি’র প্রয়োজন অনুভব করছেন সকলেই। সেটি তৈরি না হওয়া পর্যন্ত কাজ বন্ধ থাকবে, এমনই সিদ্ধান্ত প্রত্যেকের।
এ বার প্রশ্ন, দর্শক যাতে নিয়মিত ধারাবাহিক দেখতে পায়, তার জন্য কতটা ‘ব্যাঙ্কিং’ আছে পরিচালকদের? বাড়তি পর্ব শুট করার চাপ রয়েছে অভিনেতাদের উপরে? খোঁজ নিয়েছিল আনন্দবাজার ডট কম।
এ প্রসঙ্গে প্রযোজক-পরিচালক সানি ঘোষ রায় জানিয়েছেন, স্নিগ্ধা বসু এবং তাঁর যৌথ প্রযোজনা সংস্থা অ্যাক্রোপলিস এন্টারটেনমেন্ট এই মুহূর্তে দুটো জনপ্রিয় ধারাবাহিক দেখাচ্ছে। সেগুলি ‘কুসুম’ এবং ‘মিলন হবে কত দিনে’। এ ছাড়াও, প্রযোজনা সংস্থাটি ‘সাত পাকে বাঁধা’ বলে একটি নতুন ধারাবাহিক আনতে চলেছে। তারও শুটিং চলছিল। তার জন্য এমনিতেই দুটো ধারাবাহিকের অভিনেতারা দুটো শিফ্টে কাজ করছেন। সানির কথায়, “নতুন করে তাঁদের উপর বাড়তি চাপ দেওয়ার প্রশ্নই নেই।” ‘ব্যাঙ্কিং’ প্রসঙ্গে সানির বক্তব্য, তিন দিনের বেশি বাড়তি পর্ব শুট করা নেই তাঁদের।
প্রায় একই কথা শোনা গেল স্নেহাশিস চক্রবর্তীর প্রযোজনা সংস্থা ব্লু’জ-এর তরফ থেকে। স্নেহাশিস এই মুহূর্তে কলকাতার বাইরে। তাঁর হয়ে কথা বলেছেন প্রযোজনা সংস্থার কাহিনিকার এবং প্রযোজকের অন্যতম ঘনিষ্ঠ রুণা সরকার। এই প্রযোজনা সংস্থার ঝুলিতে এই মুহূর্তে রয়েছে ‘পরশুরাম: আজকের নায়ক’, ‘প্রফেসর বিদ্যা ব্যানার্জি’ এবং ‘বেশ করেছি প্রেম করেছি’র মতো ধারাবাহিক। রুণার কথায়, “নিয়মিত পর্ব দেখাতে এমনিতেই আমাদের ডবল শিফ্টে কাজ হয়। অভিনেতা, কলাকুশলীরা প্রচণ্ড খাটেন। ফলে, নতুন করে তাঁদের উপরে কী কাজের বোঝা চাপাব?” এ-ও জানিয়েছেন, বড় জোর দিনদুয়েকের ‘ব্যাঙ্কিং’ আছে তাঁদের। সেই ‘ব্যাঙ্কিং’ ফুরোলে কী দেখবেন দর্শক, জানেন না তাঁরাও। রুণার মতে, “বাকিরা যা করবেন আমাদেরও সেই পথেই হাঁটতে হবে।”
ছোটপর্দার বড় পরিচালক রাজেন্দ্রপ্রসাদ দাস। তাঁর পরিচালনার গুণেই ‘করুণাময়ী রাণী রাসমণি’, ‘মিঠাই’, ‘ফুলকি’র মতো ধারাবাহিক বেরিয়েছে। এপ্রিলে সম্প্রচার হওয়ার কথা তাঁর নতুন ধারাবাহিক ‘কমলানিবাস’। কী বলছেন রাজেন্দ্রপ্রসাদ? পরিচালকের কথায়, “আমার হয়তো ব্যাঙ্কিংয়ের চাপ নেই। কিন্তু আগাম কিছু পর্ব শুট করে রাখার দায়িত্ব আমারও আছে। কিন্তু রাহুলের মৃত্যুকে কোনও ভাবেই অস্বীকার করা যায় না। ফলে, সকলে যা করছেন আমিও সেটাই করব।” কর্মবিরতি লাগাতার হলে ছোটপর্দার পরিস্থিতি কী দাঁড়াবে? জানেন না পরিচালক। তবে আশা রাখেন, মাথার উপরে যাঁরা আছেন, তাঁরা নিশ্চয়ই কিছু না কিছু পদক্ষেপ করবেন। উদাহরণ দিয়েছেন করোনাকালীন পরিস্থিতির। বলেছেন, “তখনও যখন ছোটপর্দা নিত্যনতুন কিছু না কিছু দেখিয়েছে, এ বারেও হয়তো তেমনই কিছু হবে।”
মঙ্গলবার থেকে লাগাতার কর্মবিরতির ডাক। তার আগের দিন কি যুদ্ধকালীন পরিস্থিতিতে শুটিং করতে হচ্ছে অভিনেতাদের?
প্রশ্নের জবাব মিলল ভাস্বর চট্টোপাধ্যায়, অহনা দত্তের থেকে। ভাস্বরকে দেখা যাচ্ছে ‘বেশ করেছি প্রেম করেছি’ ধারাবাহিকে। অহনা ব্যস্ত ধারাবাহিক ‘তারে ধরি ধরি মনে করি’ নিয়ে। উভয়েই বলেছেন, “সপ্তাহের প্রথম দিন এমনিতেই ব্যস্ত থাকি আমরা। আর এখন বাড়তি শুটিংয়ের চাপ রয়েছে। ফলে, সব মিলিয়ে একটু ব্যস্ততা তো বেড়েইছে।” তবে এই কাজের চাপে তাঁরা কেউই অসন্তুষ্ট নন। প্রত্যেকেই জানিয়েছেন, রাহুলের জন্য এই পদক্ষেপ করার প্রয়োজন ছিল।