Bengali serial

মাত্র কয়েক মাসেই শেষ রানি ভবানীর কাহিনি, ছোটপর্দায় ‘পৌরাণিক’, ‘আধ্যাত্মিক’ গল্পের ধারা কি বদলে গেল?

কোভিডকালের আগে ছোটপর্দায় এই ধরনের কাহিনির আধিক্যই দেখা যেত। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে কি ধারাবাহিকে আধ্যাত্মিক, পৌরাণিক কাহিনির ভাটা পড়ল?

Advertisement

আনন্দবাজার ডট কম সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ২৯ জানুয়ারি ২০২৬ ১৮:৫১
Share:

কেন কম তৈরি হচ্ছে ‘পৌরাণিক’, ‘আধ্যাত্মিক’ ধারাবাহিক? ছবি: সংগৃহীত।

‘করুণাময়ী রাণী রাসমণি’, ‘সাধক বামাক্ষ্যাপা’, ‘বাবা লোকনাথ’, ‘রাজরাজেশ্বরী রাণী ভবানী’-সহ ছোটপর্দায় একাধিক আধ্যাত্মিক , পৌরাণিক কাহিনি দেখেছে দর্শক। বিশেষত কোভিডকালের আগে ছোটপর্দায় এই ধরনের কাহিনিই বেশি দেখা যেত। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে কি এ বার ধারাবাহিকে আধ্যাত্মিক, পৌরাণিক কাহিনির ভাটা পড়ল? কী বলছেন ধারাবাহিকের পরিচালক, প্রযোজকেরা?

Advertisement

ছোটপর্দায় বরাবরই এই ধরনের কাহিনি নিয়ে দর্শক মনে উৎসাহ দেখা গিয়েছে। একটা সময়ে টিআরপি তালিকায় শীর্ষস্থানে দেখা যেত ‘করুণাময়ী রাণী রাসমণি’ ধারাবাহিকের নাম। অভিনেতা সব্যসাচী চৌধুরীও দর্শকমনে নিজের জায়গা করেন ‘সাধক বামাক্ষ্যাপা’ ধারাবাহিকের মাধ্যমে। কিন্তু ইদানীং কেন এই ধরনের কাহিনি দেখা যাচ্ছে না ছোটপর্দায়? কয়েক মাস আগে সম্প্রচার শুরু হয় ‘রাজরাজেশ্বরী রাণী ভবানী’ ধারাবাহিকের। কিন্তু সেই কাহিনিও মাত্র ছ’মাসেই শেষ করে দেওয়া হয়েছে। প্রথমের দিকে টিআরপি নম্বর বেশি থাকলেও, শেষের দিকে তেমন ভাল নম্বর দেখা যায়নি।

সময়ের সঙ্গে ধারাবাহিকের ধারাও কি বদলে গেল? এ প্রসঙ্গে চিত্রনাট্যকার শিবাশিস বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে। এই ধরনের আধ্যাত্মিক, পৌরাণিক কাহিনির নেপথ্যে গল্প এবং তথ্য এই সব কিছুর গবেষণাও তিনি করে থাকেন। এ প্রসঙ্গে শিবাশিস বলেন, “কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার এখন অনেকটাই প্রতিপত্তি। আর পৌরাণিক কাহিনি ছোটপর্দায় ফুটিয়ে তুলতে গেলে অনেক বেশি গ্রাফিক্স লাগে। যে কারণে অন্যান্য ধারাবাহিকের থেকে এই কাহিনির বাজেটও অনেক বেশি প্রয়োজন হয়। এটাই মূল কারণ। লোকে দেখতে চায় না, ট্রেন্ড নেই বা গল্প নেই, বিষয়টা তা নয়। বেশি টাকা যদি বিনিয়োগ করা হয়, সেই লাভটাও তো তুলতে হবে। আর একটা সমস্যা দেখছি। লেখকের সংখ্যাও কমে যাচ্ছে। এই ধরনের গল্প তৈরি করতে হলে যে পরিশ্রমের দরকার ,সেটা করতেও রাজি হচ্ছেন না নতুন লেখকেরা।”

Advertisement

তবে পরিচালক রাজেন্দ্রপ্রসাদ দাসের কথায়, সময়ের সঙ্গে দর্শকের রুচি বদলায়। তিনি বলেন, “ফ্যাশনের ক্ষেত্রে আমরা এক ধরনের ট্রেন্ড দেখতে পাই। এখন তো বলা হয় পুরনো ট্রেন্ড ফিরে আসছে। তেমনই ধারা হিসাবে কিছু বলতে চাই না, গল্প সে ভাবেই ভাবা হয় যা দর্শকের গ্রহণযোগ্য হবে। আসলে দিনের শেষে আমাদের সবাইকেই লাভ, লোকসানের হিসাব কষতে হয়।”

পরিচালক রাজেন দীর্ঘদিন ‘করুণাময়ী রাণী রাসমণি’ ধারাবাহিকের পরিচালক হিসাবে কাজ করেছেন। চিত্রনাট্যকার লীনা গঙ্গোপাধ্যায়ও বহু বছর কাটিয়ে ফেলেছেন এই ইন্ডাস্ট্রিতে। এ প্রসঙ্গে তাঁর দাবি,“ছোটপর্দায় এমনই একটা ধারা দেখা যায়, যদি কোনও গল্প ছোটপর্দায় জনপ্রিয় হয়ে যায়, বাকিরাও সেই ধরনের গল্প তখন দেখানোর চেষ্টা করে। আবার সেই ধারার বদল ঘটে। তবে এ রকম কোনও নির্দিষ্ট নিয়ম বা ছক নেই যে, আর সেই ধরনের গল্প পর্দায় দেখানো যাবে না।”

তবে ‘রাজরাজেশ্বরী রাণী ভবানী’ শেষ হওয়ার পরে এখনও তেমন কোনও পৌরাণিক বা আধ্যাত্মিক কাহিনি দেখা যায়নি পর্দায়। আগামী দিনে কি আবার দেখা যেতে পারে এই ধরনের কাহিনি? তা অবশ্য ক্রমশ প্রকাশ্য।

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement