নতুন ভাবে ফিরছে অভিনব বিশ্বাস? ছবি: ফেসবুক।
ধারাবাহিক ‘পরশুরাম: আজকের নায়ক’ রাতারাতি খ্যাতি এনে দিয়েছিল। ‘লাট্টু’ বললেই লোকে চিনে ফেলছিল তাকে। নানা কারণে সেই ধারাবাহিকে আর নেই শিশুশিল্পী অভিনব বিশ্বাস।
কী করছে ১০ বছরের ছোট্ট ছেলেটি? পুরোপুরি পড়াশোনায় মন দিয়েছে?
এই কৌতূহল নিয়ে আনন্দবাজার ডট কম যোগাযোগ করেছিল তার সঙ্গে। ফোনের ও পারে অভিনবের মা নবনীতা বিশ্বাসের গলা। তিনি জানালেন, অভিনবের স্কুলে ছুটি পড়েছে। তাই সে দাদু-ঠাকুরমার কাছে কয়েক দিনের জন্য বেড়াতে গিয়েছে। নবনীতাই জানালেন, জাতীয় স্তরের অভিনেতা নির্বাচক মুকেশ ছাবড়া কলকাতায় একটি কর্মশালার আয়োজন করেছিলেন। সেখানে যোগ দিয়েছিল অভিনব। তখনই শিশুশিল্পীকে ভাল লাগে মুকেশের। সম্প্রতি, তাঁর কাছে অডিশন দিয়েছে তাঁর ছেলে। মুকেশের ওকে খুব পছন্দ। পরীক্ষায় পাশ করলে বলিউডে অভিনয়ের সুযোগ পেতে পারে। তবে তাঁদের চূড়ান্ত কিছুই জানানো হয়নি।
টেলিপাড়ায় খবর, সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়ের জীবনীছবির অডিশন এখনও চলছে। সেখানেই পরীক্ষা দিয়েছে অভিনব।
অভিনবের মা-বাবা উভয়েই আইটি কর্মী। ছেলের জন্মের পর তাকে মানুষ করবেন বলে চাকরি ছেড়েছেন নবনীতা। শিশুশিল্পী এখন চতুর্থ শ্রেণির ছাত্র। সকালের স্কুলে পড়াশোনা করে। বাকি সময়ে সে অনেক কিছু শেখে। যেমন? অভিনবের মা জানালেন, সাঁতার শেখে তাঁর ছেলে। অভিনয়ে আরও তুখোড় হওয়ার জন্য তাকে নান্দীকার নাট্যসংস্থায় ভর্তি করেছেন নবনীতা। সেখানে নিয়ম করে যায় অভিনব। অভিনয় শেখার পাশাপাশি মঞ্চেও অভিনয় করছে সে।
কথায় কথায় শিশুশিল্পীর মা ফিরে দেখলেন অতীত। বললেন, “কোনও দিন ভাবিনি অভিনব অভিনয়ে আসবে। ‘রক্তবীজ’-এ ও প্রথম ডাক পায়। নায়ক আবীর চট্টোপাধ্যায়ের ছেলেবেলা করতে হত ওকে।” সেই সময়ে সামনের দাঁত পড়ে গিয়েছিল শিশুশিল্পীর। ফলে, অভিনব শেষ মুহূর্তে বাদ পড়ে। এর পর সে বিজ্ঞাপনী ছবি, ধারাবাহিকে সুযোগ পেতে থাকে। আর পড়াশোনা? “আমি আর অভিনবের বাবা বিজ্ঞান নিয়ে পড়াশোনা করেছি। নিজেরাই ছেলেকে পড়াই। সকালে স্কুল। তাই স্কুলের পরীক্ষা থেকে পড়াশোনা— সবটাই সকাল সকাল হয়ে যায়। ফলে, পড়াশোনা ও অভিনয় একই সঙ্গে সামলাতে সমস্যা হয় না ওর”, বললেন নবনীতা।