সঞ্চিতা উগলে। ছবি: সংগৃহীত।
অকালে প্রয়াত সঞ্চিতা উগলে। ছোটপর্দার পাশাপাশি বড়পর্দাতেও কাজ করেছেন তিনি। ‘কুমকুম ভাগ্য’ ধারাবাহিকের মাধ্যমে ঘরে ঘরে পরিচিত মুখ হয়ে ওঠেন। সঞ্চিতার মৃত্যু নিয়ে ইতিমধ্যেই ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছে। পুলিশ সূত্রে খবর, অভিনেত্রী আত্মঘাতী হয়েছেন। এ বার সঞ্চিতার মৃত্যুতে তাঁর প্রাক্তন প্রেমিককে নিয়ে চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ্যে আনলেন অভিনেত্রীর বান্ধবী ইন্দ্রাক্ষী কাঞ্জিলাল। তাঁর অভিযোগ সঞ্চিতার ‘সাজন ঘর’ ধারাবাহিকের সহ-অভিনেতা উজ্জ্বল শর্মার বিরুদ্ধে। তিনি নাকি শুধুমাত্র সঞ্চিতার সহ-অভিনেতাই ছিলেন না, প্রাক্তন প্রেমিকও ছিলেন।
ইন্দ্রাক্ষীর অভিযোগ, উজ্জ্বল নাকি সঞ্চিতার উপর মানসিক অত্যাচার করতেন। শুধু তা-ই নয়, সঞ্চিতার থেকে নাকি টাকাও ধার নিয়েছিলেন উজ্জ্বল। সঞ্চিতা সেই টাকা ফেরত চাইলে, তাঁকে পাল্টা মারার হুমকি দেন বলেই অভিযোগ উজ্জ্বলের বিরুদ্ধে। এক সাক্ষাৎকারে ইন্দ্রাক্ষী বলেন, ‘‘উজ্জ্বল কথায় কথায় ওর (সঞ্চিতা) উপর চিৎকার করত। শুধু তা-ই নয়, ওর সঙ্গে প্রতিনিয়ত দুর্ব্যবহার করত। লোকের সামনে ছোট করত। এমনকি মেরে ফেলার হুমকি পর্যন্ত দিত। উজ্জ্বল গালিগালাজ করে ওকে মেসেজ পাঠাত। সেই কথোপকথনের ছবি আমার কাছে আছে।’’ সঞ্চিতা একাধিক বার শুটিং সেটে উজ্জ্বলের ব্যবহার নিয়ে অভিযোগ তুলেছেন বলে জানান তাঁর বান্ধবী। দাবি, বার বার এক জিনিসের পুনরাবৃত্তি হতে দেখে সেই সম্পর্ক থেকে বেরিয়ে যান সঞ্চিতা।
সঞ্চিতার বাবার অভিযোগের ভিত্তিতে ১৫ জুন অস্বাভাবিক মৃত্যুর মামলা দায়ের করা হয়েছে। এ দিকে, সঞ্চিতার সহ-অভিনেত্রী মেঘা শর্মা তাঁর ব্যক্তিগত জীবনের লড়াইয়ের কথা জানিয়েছেন। তিনি দাবি করেছেন, সঞ্চিতা জানুয়ারি মাস থেকে অবসাদের সঙ্গে লড়াই করছিলেন। এক সাক্ষাৎকারে মেঘা বলেন, “আমি গভীর ভাবে শোকাহত। কিছু বলার মতো অবস্থায় নেই। যত দূর শুনেছি, ও আত্মঘাতী হয়েছে।” তিনি আরও জানান, সঞ্চিতার কিছু শারীরিক সমস্যা ছিল এবং তিনি চিকিৎসাধীন ছিলেন। অন্য দিকে, সঞ্চিতার ভাই অবিনাশও দিদির মৃত্যুকে ঘিরে কিছু চাঞ্চল্যকর দাবি করেছেন। তাঁর বক্তব্য, সঞ্চিতা তাঁর শেষ ইনস্টাগ্রাম পোস্ট প্রয়াত অভিনেতা সুশান্ত সিংহ রাজপুতকে উৎসর্গ করেছিলেন। ২০২০ সালের ১৪ জুন সুশান্তের মৃত্যু হয়েছিল। অবিনাশের দাবি, সঞ্চিতাও একই তারিখ বেছে নিয়েছিলেন এবং সেই সময়ে তিনি বাড়িতে একাই ছিলেন।
অবিনাশ অভিযোগ করেছেন, বিনোদনজগতের চাপ, কাজের অভাব এবং ঊর্ধ্বতনদের কাছ থেকে বার বার অপমানের কারণেই নাকি সঞ্চিতা এমন চরম সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। এই মুহূর্তে অভিনেত্রীর মৃত্যুর তদন্ত চলছে।