Friday release in February

কোনও ছবির শুটে পিঠ পুড়ল অভিনেতার, কোনও ছবির বিরুদ্ধে ‘গুপি শুট’-এর অভিযোগ! প্রেমের সপ্তাহে প্রেক্ষাগৃহে কে কে?

প্রেম, আবেশ, যৌনতা, অধিকারবোধ, খুন, রহস্য— যে কোনও স্বাদই খুঁজে পেতে পারেন দর্শক। কী কী ছবি মুক্তি পাচ্ছে ১৩ ফেব্রুয়ারি?

Advertisement

আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক

শেষ আপডেট: ১৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ০৮:৫৮
Share:

হিংসা থেকে অধিকারবোধ, কোন কোন ছবি দেখবেন? ছবি: সংগৃহীত।

প্রেমের সপ্তাহে মুক্তি পাচ্ছে একগুচ্ছ ছবি। প্রেক্ষাগৃহে যুগলদের ভিড় বাড়ার আশায় ছবির নির্মাতারা। প্রেম, আবেশ, যৌনতা, অধিকারবোধ, খুন, রহস্য— যে কোনও স্বাদই খুঁজে পেতে পারেন দর্শক। কী কী ছবি মুক্তি পাচ্ছে ১৩ ফেব্রুয়ারি?

Advertisement

১) ও রোমিয়ো: বহু প্রতীক্ষিত ছবিগুলির মধ্যে অন্যতম বিশাল ভরদ্বাজের এই ছবি। ঝলকমুক্তির পর থেকেই বিতর্কে জড়িয়েছিল এই ছবি। হুসেন উস্তরার জীবন দেখানো হবে এই ছবিতে। কিন্তু হুসেন উস্তরার কন্যা প্রথম থেকেই দাবি করে এসেছেন, ছবি তৈরির সময় তাঁদের অনুমতি নেওয়া হয়নি। তাঁর অভিযোগ, তাঁর বাবাকে এই ছবিতে নেতিবাচক ভঙ্গিতে তুলে ধরা হয়েছে। নির্মাতাদের পক্ষ থেকে স্পষ্ট করা হয়েছে, ছবিটি ‘মাফিয়া কুইন্‌স অফ মুম্বই’ নামে একটি বইয়ের উপর ভিত্তি করে তৈরি। বইটি হুসেন জ়ৈদির লেখা। তিনি বইটি লেখার আগে অবশ্যই অনুমতি নিয়েছিলেন, এমনই দাবি পরিচালকের। ছবিতে শাহিদের সঙ্গে তৃপ্তি ডিমরী ও দিশা পটানীর রসায়ন দেখার জন্য অপেক্ষায় দর্শক। রক্তারক্তির দৃশ্য থাকলেও প্রেমের মাসের জন্য এই ছবি যথাযথ।

২) মন মানে না: নিখাদ প্রেমের ছবি কি দর্শক আর দেখেন না? সেই প্রশ্নের উত্তর দেবে বাংলা এই ছবি। বলিউডে নতুন জুটি অহান পাণ্ডে ও অনীত পদ্দা মুগ্ধ করেছিল ‘সইয়ারা’ ছবিতে। এ বার ‘মন মানে না’ ছবিতেও একেবারে আনকোরা এক জুটি দেখবে দর্শক— ঋত্বিক ভৌমিক ও হিয়া চট্টোপাধ্যায়। রয়েছেন সৌম্য মুখোপাধ্যায়ও। পরিচালক রাহুল মুখোপাধ্যায়। একসময় একই নামের একটি ছবি হয়েছিল টলিপাড়ায়। অভিনয় করেছিলেন দেব ও কোয়েল মল্লিক। ছবির প্রচারেও নতুন জুটিকে উৎসাহ দিতে পৌঁছে গিয়েছিলেন দেব। পাশাপাশি গুঞ্জন, বাস্তবেও নাকি প্রেমে পড়েছেন পর্দার জুটি ঋত্বিক ও হিয়া।

Advertisement

৩) তু ইয়া ম্যায়: এই ছবিতেও একেবারে আনকোরা জুটি। আদর্শ গৌরব ও শানায়া কপূর জুটি বেঁধেছেন এই ছবিতে। দুই নেটপ্রভাবীর জীবনকে ঘিরে তৈরি এই ছবি। সমাজমাধ্যমের জন্য তারা একটি ‘কোল্যাব’ করে অর্থাৎ দুই নেটপ্রভাবী একত্রিত হয়ে একটি কাজ করে। জলাশয়ের মধ্যে শুটিং চলাকালীন তারা কুমিরের খপ্পরে পড়ে। নিমেষে বদলে যায় পরিস্থিতি। প্রেম, বন্ধুত্ব থেকে রহস্য, সব মিলবে এই ছবিতে। একসঙ্গে কাজ করে বাস্তবেও আদর্শ ও শানায়ার মধ্যে বন্ধুত্ব গাঢ় হয়েছে বলে শোনা যায়। শুটিংয়েও নানা রকমের অভিজ্ঞতা হয়েছে তাঁদের। আদর্শ জানান, ছবিতে দেখে মনে হবে, গ্রীষ্মে শুটিং হয়েছে। কিন্তু বাস্তবে জলাশয়ের জল কনকনে ঠান্ডা ছিল। তাঁদের যথেষ্ট বেগ পেতে হয় সেই শুটিংয়ে।

৪) ক্রাইম ১০১: যুগল মানেই প্রেমের ছবি দেখতে হবে, এমন নয়। যাঁরা আদ্যোপান্ত ক্রাইম থ্রিলার দেখতে পছন্দ করেন, তাঁদের জন্য এই ছবি আদর্শ। লস অ্যাঞ্জেলেসের হাইওয়ে ১০১-এ একের পর এক গয়না চুরির রহস্য নিয়ে এই ছবি। পুলিশ যখন চোরকে ধরতে হিমশিম খাচ্ছে, তখন এক অভিজ্ঞ গোয়েন্দা এই চুরির রহস্য উদ্‌ঘাটন করতে সক্ষম হয়। অভিনয় করেছেন ক্রিস হেমসওয়ার্থ, মার্ক রাফালো ও হ্যালি বেরি। প্রথমে ছবিটির শুটিং হওয়ার কথা ছিল অস্ট্রেলিয়া ও দক্ষিণ আফ্রিকায়। তাতে খরচও কম হত। কিন্তু ছবির পরিচালক স্থির করেন লস অ্যাঞ্জেলেসেই শুটিং করবেন। রিয়্যাল লোকেশন-এ শুটিং না হলে নাকি ছবির মূল ভাব ফুটিয়ে তোলা যাবে না।

৫) উদারিং হাইট্স: এমিলি ব্রন্টের লেখা উপন্যাস থেকে তৈরি এই ছবি। অদম্য প্রেম, অধিকারবোধ, প্রতিশোধের ক্লাসিক স্বাদ মিলবে এই ছবিতে। প্রেমিক যুগলদের জন্য এই ছবি আদর্শ। এমারেল্ড ফেনেল পরিচালিত এই ছবি তৈরির সময়ে ক্যামেরার নেপথ্যে ঘটে বেশ কিছু উল্লেখযোগ্য ঘটনা। তা ছাড়া শ্যুটিংয়ের প্রথম সপ্তাহেই অভিনেতা জ্যাকব এলর্ডি একটি দুর্ঘটনার শিকার হয়েছিলেন। একটি গরম পিতলের হাতলে ধাক্কা লেগে তাঁর পিঠের অনেকটা অংশ পুড়ে যায়। এমনকি, তাঁকে হাসপাতালে পর্যন্ত ভর্তি করাতে হয়েছিল।

৬) অদম্য: রঞ্জন ঘোষাল পরিচালিত এই ছবি নিবেদন করেছেন অপর্ণা সেন। তথাকথিত তারকাখচিত ছবি নয় এটি। প্রত্যন্ত অঞ্চলে গিয়ে এই ছবির শুটিং করেছেন পরিচালক। সাক্ষাৎকারে রঞ্জন বলেছিলেন, “প্রান্তজনদের নিয়ে লেখা। তাঁরাই যদি সেই ছবি দেখতে না পারলেন, তা হলে কী হল?” পরিচালক তাই সদ্য ছবি নিয়ে ঘুরে এসেছেন সুন্দরবনের কাকদ্বীপে। ছবির ঝলক ও গান নিয়ে একই ভাবে প্রথম থেকে পরিচালক কড়া নেড়েছেন শহুরে দর্শকের দরজায়। সঙ্গী ছিলেন ছবির নতুন নায়ক আরিয়ুন ঘোষ। ছবির বিরুদ্ধে ‘গুপি শুটিং’-এর অভিযোগও ছিল। সেই প্রসঙ্গে রঞ্জন বলেছিলেন, “‘অদম্য’ কিন্তু ‘গুপি ছবি’র ঠাকুরদা। ছবিতে হাতেগোনা অভিনেতা। কোনও লাইট বা বড় ক্যামেরা ব্যবহার করিনি। ফলে, ট্রলি, রূপসজ্জাশিল্পী— কিছুই প্রয়োজন পড়েনি। চার মাস আরিয়ুন-সহ আমরা ছ’জন সুন্দরবনের কাকদ্বীপে ছিলাম। সেখানেই শুটিং হয়েছে।”

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement