আশা ভোসলে। — ফাইল চিত্র।
ছোটবেলা থেকেই আমি আশা ভোঁসলের বিরাট ভক্ত। সেই সঙ্গে আরডি-রও। আর তাই ‘শরারা শরারা’-র রেকর্ডিং ওঁর সঙ্গে করতে পারা, ওঁকে দিয়ে গান গাওয়ানো আমার কাছে ছিল স্বপ্নের মতো। আমার সঙ্গে জিতেরও তাই। আমরা তখন একদম নতুন ছেলে, আগে তেমন কিছুই করিনি। কিন্তু খুব উৎসাহ দিয়ে, অনেক গল্প করে, সময় নিয়ে উনি ‘ডাব’ করেছিলেন স্পেকট্রাল হার্মোনি স্টুডিয়োয়। তখন তো এখনকার মতো ছবি তোলার ব্যাপার ছিল না। এখন অনেকে জানতে চায়, সেই ডাবিংয়ের কোনও ছবি আছে কি না। তাঁদের দেখাতে পারি না। কিন্তু ছবি না থাক, তখনকার প্রতিটি মুহূর্ত এই পঁচিশ বছর পরেও মনে আছে।
ওই ডাবিংয়ের পর অনেক দিন দেখা হয়নি ওঁর সঙ্গে। তার পর ‘যব উই মেট’ ছবি রিলিজ় হল। ছবিও ভাল চলছে, অ্যালবামও হিট করেছে। হঠাৎই একটা সারপ্রাইজ় কল পেলাম আশাজির কাছ থেকে। এখানে বলে রাখি, ওই ছবিতে ‘নাগারা নাগারা’ গানটি আমার নিজেরই ভাল লাগত না। পরিচালক ইমতিয়াজকে বার বার বলছিলাম, গানটা বদলাও। কিন্তু আশাজি ফোন করে বললেন, তিন দিন ধরে উনি নাগাড়ে ওই অ্যালবামটি শুনছেন আর ‘নাগারা নাগারা’ নাকি ওঁর সব চেয়ে ভাল লেগেছে! আমাকে অভিনন্দন জানাতে ফোন করেছেন! আমার তো হাতে চাঁদ পাওয়ার মতো অবস্থা। আশা ভোঁসলে ফোন করে আমায় অভিনন্দনজানাচ্ছেন! ইমতিয়াজকে তখনই ফোন করে বললাম, আমি কথা ফিরিয়ে নিচ্ছি। আশাজি বলেছেন ‘নাগারা নাগারা’ ওঁর ভাল লেগেছে। আমার জীবন ধন্য।
তার পর দেখা হয়েছে অনেক বার। অনেক শো-তে, এমনকি ফ্লাইটেও। এক বার ফ্লাইটে সিডনিতে যাচ্ছিলাম কয়েক বছর আগে। আমাদের শো, ওঁরও। যাওয়ার পথে ওঁর সঙ্গে অনেক গল্প করলাম। ওই সফরটা বিশেষ করে মনে আছে দু’টো কারণে। আমাদের শো তো যেমন হওয়ার হল। কিন্তু আশাজি ৮৪ বছর বয়সেও যে তুমুল ‘এনার্জি’ নিয়ে গান গাইলেন, আমরা হাঁ করে দেখলাম। ওঁর শো-এর টুকরো অংশ ‘ভাইরাল’ হল। অনেক নতুন গান গাইলেন। ওঁর নিজের নয়, এমন গানও গাইলেন। ওই পারফরম্যান্স মনে থাকার আর একটা কারণ, সেই আমার ওঁর সঙ্গে শেষ দেখা। সেটাই স্মৃতিতে ধরে রাখতে চাই চিরদিন।
(অনুলিখন: অগ্নি রায়)
প্রতিদিন ২০০’রও বেশি এমন প্রিমিয়াম খবর
সঙ্গে আনন্দবাজার পত্রিকার ই -পেপার পড়ার সুযোগ
সময়মতো পড়ুন, ‘সেভ আর্টিকল-এ ক্লিক করে