কী হবে ‘কনে দেখা আলো’র ভবিষ্যৎ? ছবি: সংগৃহীত।
সকাল থেকে একে একে শিল্পীরা ঢুকতে থাকেন স্টুডিয়োয়। লাইট-ক্যামেরা কোন দিকে থাকবে, সেই নিয়েই চলতে থাকে আলোচনা। সকাল থেকে স্টুডিয়োপাড়ার এমনটাই চেনা ছবি। কিন্তু গত ২৪ ঘণ্টায় অনেক কিছুই বদলে গিয়েছে। লীনা গঙ্গোপাধ্যায় এবং শৈবাল বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রযোজনা সংস্থা ‘ম্যাজিক মোমেন্টস্’ এবং তাদের সঙ্গে সম্পর্কিত কোনও সংস্থার সঙ্গে আপাতত কাজ করবেন না শিল্পী বা টেকনিশিয়ানরা, এমনই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে দুটি ধারাবাহিক বন্ধ হওয়ার ঘোষণা হয়েছে। কী হবে ‘কনে দেখা আলো’ ধারাবাহিকের ভবিষ্যৎ?
প্রিন্স আনওয়ার শাহ রোডের ‘ভারতলক্ষ্মী পিকচার্স’-এ শুটিং হয় ‘কনে দেখা আলো’ ধারাবাহিকের। যার প্রযোজনা সংস্থার নাম ‘অরগ্যানিক্স’। এই সংস্থার কর্ণধার হলেন লেখিকা লীনার ছেলে অর্ক গঙ্গোপাধ্যায়। ফলে সেই প্রযোজনা সংস্থার ধারাবাহিকের শুটিং চলবে কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।
বুধবার রাতেও ‘কলটাইম’ দেওয়া হয়েছিল ধারাবাহিকের। ছবি: সংগৃহীত।
বুধবার সকালে স্টুডিয়োয় হাজির হয়েছিলেন ধারাবাহিকের সঙ্গে যুক্ত সবাই। বৃহস্পতিবার সকালে ঠিক কী অবস্থা? ধারাবাহিকের কার্যনির্বাহী প্রযোজকের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয় আনন্দবাজার ডট কম-এর তরফে। তিনি বললেন, “বৃহস্পতিবার সকালেও ‘কলটাইম’ দেওয়া হয়েছিল। সকাল ১১টায় সময় দেওয়া ছিল। কিন্তু কোনও শিল্পীই আসেননি। টেকনিশিয়ানও আসেননি। নির্দেশ কিছু এলে, সেটা তো মানতে হবে। তাই হয়তো আসেননি। গতকাল অর্থাৎ বুধবার থেকে ‘কনে দেখা আলো’ ধারাবাহিকের এক সেকেন্ডও শুটিং হয়নি। আমাকে চূড়ান্ত কিছু জানানো হয়নি। তাই বুঝতে পারছি না, এই পরিস্থিতিতে কী করণীয়!”
লীনার অন্য দুটি ধারাবাহিক ‘ভোলেবাবা পার করেগা’ এবং ‘চিরসখা’র সম্প্রচার আর হবে না, তা ইতিমধ্যেই জানিয়ে দেওয়া হয়েছে। কিন্তু, ‘কনে দেখা আলো’ নিয়ে চূড়ান্ত কিছু জানানো হয়নি চ্যানেল কর্তৃপক্ষের তরফে। ফলে কারও কাছে কোনও উত্তর নেই। সম্ভবত, বৃহস্পতিবার এই নিয়ে আর এক দফায় বৈঠক হবে টেকনিশিয়ান স্টুডিয়োয়।
বৃহস্পতিবার টেকনিশিয়ান স্টুডিয়োয় নাকি আবার হবে বৈঠক। ছবি: সংগৃহীত।
২৯ মার্চ রাহুল অরুণোদয় বন্দ্যোপাধ্যায়ের আকস্মিক মৃত্যুর পরে তোলপাড় টেলিদুনিয়া। তালসারিতে শুটিং করতে গিয়ে কী করে এই ঘটনা ঘটল? সিদ্ধান্ত হয়েছে, প্রশ্নের উত্তর যত দিন না পাওয়া যাচ্ছে, তত দিন কেউ কাজ করবেন না ‘ম্যাজিক মোমেন্টস্’ প্রযোজনা সংস্থার সঙ্গে। কারণ, এই সংস্থার প্রযোজিত ‘ভোলেবাবা পার করেগা’ ধারাবাহিকেই অভিনয় করছিলেন রাহুল। আইনি পরামর্শ নিয়ে প্রথমে আর্টিস্ট ফোরামের তরফে ওই প্রযোজনা সংস্থাকে চিঠি পাঠানো হয়। কিন্তু যথাযথ উত্তর না মেলায়, শিল্পী সংগঠনের সম্পাদক শান্তিলাল মুখোপাধ্যায় কলকাতার রিজেন্ট পার্ক থানায় এফআইআর করেন। সেই দিন রাতে ওই প্রযোজনা সংস্থার পাঁচ জনের বিরুদ্ধে এফআইআর করেন রাহুলের স্ত্রী প্রিয়াঙ্কা সরকারও। এখনও পর্যন্ত কোনও উত্তর পাওয়া যায়নি প্রযোজনা সংস্থার তরফে।