Rahul Arunoday Banerjee Death

জল থেকে উদ্ধারের পরেও প্রাণ ছিল রাহুলের, দাবি ইউনিটের সঙ্গীদের! ঠিক কী ঘটেছিল তালসারিতে শুটিংয়ের পরে

সকাল থেকে শুটিংয়েই ব্যস্ত ছিলেন রাহুল এবং তাঁর সহকর্মীরা। তার পর বিকেলের দিকে শুটিং শেষ হয়। ঠিক কী ঘটেছিল তার পর?

Advertisement

আনন্দবাজার ডট কম সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ২৯ মার্চ ২০২৬ ২০:৪৬
Share:

তালসারিতে শুটিংয়ের পর জলে নেমেছিলেন রাহুল? ছবি: সংগৃহীত।

আকস্মিক প্রয়াণ অভিনেতা রাহুল অরুণোদয় বন্দ্যোপাধ্যায়ের। শুটিং করতে গিয়েছিলেন পশ্চিমবঙ্গ-ওড়িশা সীমান্তের তালসারি সমুদ্রসৈকতে। রবিবার সকাল থেকে ‘ভোলে বাবা পার করেগা’ নামে একটি ধারাবাহিকের শুটিং চলছিল। শোনা যাচ্ছে, শুটিং শেষে বিকেলের দিকে দুর্ঘটনা হয়। শুটিং ইউনিটের লোকজনের সামনেই সমুদ্রে তলিয়ে যান টলিপাড়ার জনপ্রিয় অভিনেতা।

Advertisement

ঠিক কী ঘটেছিল? জানা গিয়েছে, সকাল থেকে শুটিংয়ে ব্যস্ত ছিলেন রাহুল এবং তাঁর সহকর্মীরা। বিকেলের দিকে শুটিং শেষ হয়। শুটিং ইউনিটের একটি সূত্রে খবর, তার পর একাই জলে নামেন রাহুল। রাহুলের সহ-অভিনেত্রী শ্বেতা মিশ্রও ছিলেন অকুস্থলে। তবে তিনি সৈকতেই দাঁড়িয়েছিলেন।

যে সৈকতে শুটিং করছিলেন রাহুল। ছবি: সংগৃহীত

জলের তলায় নাকি রাহুলের পা আটকে যায় বালিতে। আর তখনই ঢেউ এসে আছড়ে পড়ে। রাহুল সেই ঢেউ সামলাতে না পেরে ডুবে যেতে থাকেন। বিপদ বুঝতে পেরে শ্বেতা ‘রাহুলদা ডুবে যাচ্ছে’ বলে চিৎকার করে সকলকে একজোট করার চেষ্টা করেন। ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী তথা অভিনেতা দিগন্ত বাগচীর কথায়, “হয় ও সাঁতার জানত না, বা কোনও ভাবে আটকে পড়েছিল। হঠাৎ টেকনিশিয়নরা চিৎকার করতে করতে বলেন, ‘রাহুলদা ডুবে যাচ্ছে’। যখন উদ্ধার করা হয়, তখনও বেঁচে ছিলেন রাহুল।’’ অন্য দিকে, রাহুলের গাড়িরচালক বলেন, ‘‘রাহুলদা সমুদ্রের দিকে এগিয়ে যাচ্ছিলেন। আমি বার বার বারণ করছিলাম। শোনেনি আমার কথা।’’

Advertisement

জল থেকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার জন্য দ্রুত গাড়িতে তোলা হয় রাহুলকে। তালসারির সৈকত থেকে ১০-১২ কিলোমিটার দূরে দিঘা মহকুমা হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। কিন্তু সন্ধে ৬টা ১০ মিনিটে চিকিৎসকেরা জানান, আগেই মারা গিয়েছেন রাহুল।

ধারাবাহিকের শুটিংয়ের ফাঁকে রাহুল। ছবি: সংগৃহীত।

অভিনেতাকে হাসপাতালে যাওয়ার সময় ওই ধারাবাহিকের প্রোডাকশন ম্যানেজার চন্দ্রশেখর চক্রবর্তী সঙ্গে ছিলেন। তিনি বলেন, ‘‘তখন শুটিং প্যাকআপ হয়ে গিয়েছিল। ৫টা-সাড়ে ৫টা বাজে (সন্ধ্যা) তখন। ঘড়ি দেখার সময় ছিল না তখন আর। শিল্পীদের ছেড়ে দিচ্ছিলাম এক এক করে। অম্বরীশদা (ভট্টাচার্য), ভাস্করদার (বন্দ্য়োপাধ্যায়) গাড়ি ছেড়ে দিয়েছে। তখনই ফোন আসে আমার কাছে। সঙ্গে সঙ্গে সৈকতে পৌঁছোই আমি।’’ চন্দ্রশেখর আরও বলেন, ‘‘ওকে গাড়িতে তোলার পর আমি সামনে উঠলাম। লাল কাপড় নাড়াতে নাড়াতে হাসপাতাল পৌঁছোই। শহরে ঢোকার পর থেকেই যানজটের জন্য দেরি হয়ে যায়। রাস্তায় যেতে যেতে রাহুলের বুকে হাত বোলাচ্ছিল আমাদেরই টেকনিশিয়ানরা। যদি বাঁচানো যায়, সেই আশায়। প্রচণ্ড হাঁপাচ্ছিল রাহুল।’’ তিনি জানান, হাসপাতালে যাওয়ার পথেই সম্ভবত হৃদ্‌রোগে আক্রান্ত হন রাহুল। ওই ২০-২২ মিনিটের মধ্যেই মারা যান তিনি।

চন্দ্রশেখর আরও জানান, সোমবার কাঁথি হাসপাতালে রাহুলের দেহের ময়নাতদন্ত হবে। আপাতত রাহুলের গাড়িচালক হাসপাতালেই আছেন। রাহুলের স্ত্রী প্রিয়াঙ্কা সরকারকে ফোন করে খবর দেওয়া হয়েছে। এখন দিঘার মর্গে রয়েছে অভিনেতা-লেখক রাহুলের দেহ।

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement