Rhea Chakraborty

সুশান্তের মৃত্যুর পরে হাজতবাসের তিক্ত স্মৃতি এখনও তাজা! এ বার রিয়া কোন প্রতিশোধের কথা জানালেন?

একটা সময়ে ‘ডাইনি’ অপবাদ দেওয়া হয়। বলা হয় রিয়া নাকি ‘কালো জাদু’ জানেন। এ বার নাকি সে সবের প্রতিশোধ নেবেন রিয়া!

Advertisement

আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক

শেষ আপডেট: ২৬ জুন ২০২৬ ২১:৫৯
Share:

রিয়ার অভিজ্ঞতা। ছবি: সংগৃহীত।

সুশান্ত সিংহ রাজপুতের মৃত্যুর পরে কাঠগড়ায় দাঁড় করানো হয়েছিল রিয়া চক্রবর্তীকে। তার পরে মাদকযোগে এক মাস কারাবাসেও ছিলেন তিনি। পরে অবশ্য আদালত থেকে অব্যাহতি পেয়েছিলেন সমস্ত অভিযোগ থেকে। কিন্তু হাজতবাসের তিক্ত স্মৃতি এখনও তাড়া করে বেড়ায় অভিনেত্রীকে। শান্ত হয়ে বাঁচতে ভুলে গিয়েছেন রিয়া। তাঁর চরিত্র নিয়ে নিরন্তর কাঁটাছেড়া হয়েছে। একটা সময়ে ‘ডাইনি’ অপবাদও দেওয়া হয়। বলা হয় রিয়া নাকি ‘কালো জাদু’ জানেন। এ বার নাকি সে সবের প্রতিশোধ নেবেন এই কন্যে!

Advertisement

২০২০ সালের ১৪ জুন মৃত্যু হয় সুশান্তের। তার ছ’দিন আগেই রিয়ার সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক ভেঙেছিল। অভিনেত্রীর বিরুদ্ধে আত্মহত্যায় প্ররোচনা, সুশান্তের টাকা নয়ছয়ের অভিযোগ ওঠে। মাদকযোগেও নাম জড়িয়েছিল তাঁর। এক মাস সংশোধনাগারে ছিলেন তিনি। মানসিক ভাবে তখন কী পরিস্থিতি হয়েছিল, তা নিয়ে আগেও বহু বার মুখ খুলেছেন রিয়া।

সম্প্রতি চ্যাট শো ‘ডাবল ডেট’-এ ভাই শৌভিক চক্রবর্তীকে নিয়ে নেহা ধুপিয়া এবং অঙ্গদ বেদীর অনুষ্ঠানে যান রিয়া। সেখানেই নিজের এই মানসিক যন্ত্রণার কথা জানান রিয়া। সুশান্তের রহস্যজনক মৃত্যুর পরে কীভাবে দেশজুড়ে তাঁর চরিত্র নিয়ে নিরন্তর কাটাছেঁড়া চলেছিল, কীভাবেই বা ‘ডাইনি অপবাদে’ জেলে যেতে হয় সেটাই জানান। রিয়া বলেন, “এরকম একটা বিষয় থেকে পুরোপুরি বেরিয়ে আসা সম্ভব নয়। এটা এমন এক ট্রমা যে, মনের সঙ্গে শরীরেও তার প্রভাব পড়ে। এই ক্ষত সারিয়ে তোলা সোজা নয়। সত্যি বলতে আমাদের ‘পোস্ট ট্রমাটিক স্ট্রেস ডিসঅর্ডার’ হয়ে গিয়েছে। কেউ বাড়িতে বেল বাজালেও এক একসময়ে আতঙ্ক হয়। আপনি থেরাপি নিয়ে পরিস্থিতির মোকাবিলা করতে পারেন। কিন্তু আমাদের বিষয়টা যেহেতু গোটা দেশের চর্চার বিষয় হয়ে উঠেছিল, তাই এটা মনে গেঁথে গিয়েছে।’’

Advertisement

এই ঘটনার পর অভিনয়ের সঙ্গে দূরত্ব বাড়ে তাঁর। কয়েক বছর বড় কিংবা ছোট পর্দা কোথাও দেখা যায়নি রিয়াকে। তার পর নিজস্ব পোশাক সংস্থা খোলেন। সেই সংস্থার নাম রাখতে চেয়েছিলেন ‘চুড়েল কা বদলা’। বাংলায় যার তর্জমা করলে দাঁড়ায় ‘ডাইনির প্রতিশোধ’। এ হেন নাম নির্বাচনের ক্ষেত্রে রিয়ার যুক্তি, “আসলে সমাজ তখন আমাকে যেমন অপবাদ দিয়েছিল, তার প্রেক্ষিতেই এমন ভাবনা। এমনকী আমি তো মজার সব টি-শার্ট তৈরির কথাও ভেবেছিলাম। তবে সবাই আমাকে এত নেতিবাচক হতে বারণ করত। আমি তো ‘ব্ল্যাক শিপ’ লেখা ব্রেসলেটও তৈরি করিয়েছিলাম, কারণ সে সময়ে আমাদের নিজেদের ঠিক তেমনই মনে হতো। সমাজের চোখে আমরা যেন ‘ব্ল্যাক শিপ’, একেবারে অপ্রয়োজনীয় হয়ে উঠেছিলাম।’’ রিয়া অবশ্য জানিয়েছেন, এমন কঠিন পরিস্থিতিতে তাঁকে মানসিক ভাবে শান্ত থাকতে সাহায্য করেছিল হনুমান চালিশা।

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement