এখন অনেক বেশি আত্মবিশ্বাসী রুবিনা। ছবি: সংগৃহীত।
তাঁকে নাকি দেখতে ‘বুড়ি বুড়ি’ লাগে! তিনি নাকি চোখেমুখে ছুরি-কাঁচি চালিয়েছেন! অভিনেত্রী রুবিনা দিলায়ক দীর্ঘদিন ধরেই এমন নানা কটাক্ষের সঙ্গে পরিচিত। এ বার এই ট্রোলিং প্রসঙ্গে মুখ খুললেন তিনি। অভিনেত্রীর দাবি, সমাজমাধ্যমের অনেকেরই অনুমান যে, তিনি ‘বোটক্স’ বা ‘ফেসলিফট’-এর মতো কৃত্রিম প্রক্রিয়ার সাহায্যে ‘যৌবন’ ধরে রেখেছেন। একসময়ে এ সব মন্তব্য তাঁকে প্রভাবিত করত বলেও স্বীকার করেন তিনি।
সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে রুবিনা বলেন, বছরের পর বছর তাঁকে শরীর, চেহারা, এমনকি মুখের গঠন নিয়েও নানা সমালোচনার মুখে পড়তে হয়েছে। তবে তিনি জানান, আগে এ সব মন্তব্য তাঁকে খুব কষ্ট দিত। তবে এখন তিনি ধীরে ধীরে নেতিবাচকতাকে এড়িয়ে যেতে শিখেছেন।
রুবিনার কথায়, “আমি প্রচুর কটাক্ষ শুনেছি। লোকে বলত, ‘বুড়ি হয়ে গিয়েছে। অদ্ভুত দেখতে লাগছে। মনে হচ্ছে বোটক্স করিয়েছে। শরীরে, মুখে নিশ্চয়ই কিছু সার্জারি করিয়েছে। আজব দেখতে লাগছে।’ এই সব শুনেছি। একটা জিনিস বুঝতে পেরেছি যে, লোকে কী ভাবল তা আমার নিয়ন্ত্রণে নেই। বরং সেই সমস্ত কথায় কী প্রতিক্রিয়া দেব, সেটা আমার হাতে রয়েছে।”
রুবিনা আরও যোগ করেন, একসময়ে এমন মন্তব্য তাঁর মধ্যে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করত। গভীর আঘাত করত। তবে সময়ের সঙ্গে তিনি বুঝতে পেরেছেন যে, এ সবে গুরুত্ব দিলে তাঁর ক্ষতি। দুর্বল ভেবে কটাক্ষকারীরা আরও আঘাত করতে থাকবে। তাই এই সব কথায় আর গুরুত্ব দেন না রুবিনা। তিনি বলেন, “আগে প্রচণ্ড কষ্ট হত। নিজের উপরে প্রভাব পড়ত। পরে বুঝলাম, আমার অনুভূতির চাবি ওদের হাতে দিলে আমাকে আরও কোণঠাসা করে দেবে। তাই এগুলোর সঙ্গে মোকাবিলার সবচেয়ে ভাল উপায় হল, নিজেকে বোঝানো যে, আমার যা আছে তা অন্যদের নেই— আর যা অন্যদের নেই, তা নিয়ে তারা কথা বলতেই থাকবে।” তিনি আরও বলেন, “প্রত্যেক মেয়ে, প্রত্যেক মহিলা চান তাঁদের একটি নির্দিষ্ট রকমের দেখতে লাগুক। দুর্ভাগ্যজনক যে, মোটা ঠোঁট, চোরা গাল (শার্প জ লাইন) বা টিকলো নাক না হলে তোমাকে দেখতে খারাপ, এই চিন্তাভাবনাটা এখন স্বাভাবিক হয়ে উঠেছে। এতে সকলকে কিন্তু একই রকমের দেখতে লাগে। এতে ঈশ্বরের সৃষ্টির অভিনবত্ব কোথায়?” প্রত্যেকটা মানুষকে ঈশ্বর আলাদা ভাবে গড়েছেন, এবং তাঁর সৃষ্টিকে সম্মান জানানোই মানুষের কর্তব্য— মত রুবিনার।