সলমনের সমস্ত প্রস্তাব ফিরিয়ে দেন রাজেশ! গ্রাফিক: আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক।
মুম্বইয়ের কার্টার রোডে একসময় বলিউডের একাধিক তারকার বাস ছিল। এখানেই ছিল অভিনেতা রাজেশ খন্নার বাংলোও। নাম ‘আশীর্বাদ’। এক ব্যবসায়ীর থেকে বাড়িটি কেনেন পঞ্চাশের দশকের জনপ্রিয় অভিনেতা ভরত ভূষণ। তার পরে সেটি কেনেন রাজেন্দ্র কুমার। অবশেষে সত্তরের দশকে ওই বাড়িটি কেনেন রাজেশ। সেই বাড়ি কেনার ইচ্ছা প্রকাশ করেন সলমন খান। কিন্তু, সে প্রস্তাব নাকচ করেন রাজেশ।
এই বাড়িতে প্রবেশ করার পরেই নাকি বলিউডের প্রথম ‘সুপারস্টার’-এর তকমা পান রাজেশ। সেই সময় পর পর ১৭টি সিনেমা হিট করে রাজেশের। তিনিই নিজের বাংলোর নাম রেখেছিলেন ‘আশীর্বাদ’। সাধারণ মানুষের কাছে বাংলোটি অন্যতম আকর্ষণে পরিণত হয়েছিল সেই সময়ে। ‘আশীর্বাদ’-এর বাইরে সব সময় অনুরাগীদের ভিড় লেগে থাকত। রাজেশকে ঘিরে মহিলা অনুরাগীদের যে উন্মাদনা, তা ছিল চোখে পড়ার মতো। সত্তর থেকে আশির দশকের মধ্যে সর্বোচ্চ উপার্জনকারী বলি অভিনেতাদের তালিকায় শীর্ষে ছিলেন রাজেশ।
কিন্তু সত্তরের দশকের শেষের দিক থেকে বক্সঅফিসে ব্যর্থ হতে শুরু করে রাজেশের সিনেমা। দেনায় জর্জরিত হন। রাজেশের পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছোয় যে, তাঁর সঙ্গে কোনও পরিচালকই কাজ করতে রাজি হচ্ছিলেন না। স্ত্রী-সন্তানদের ছেড়ে ফাঁকা বাংলোয় থাকতে ভাল লাগত না রাজেশের। লিঙ্কিং রোডের অফিসেই বেশি সময় কাটাতে শুরু করেন অভিনেতা। তখনই ওই বাড়ির কেনার প্রস্তাব পাঠান সলমন। মাধ্যম হিসাবে যান চিত্রনাট্যকার রুমি জাফরি।
রুমি গিয়ে রাজেশকে জানান, ওই বাড়ির সেই সময়ের বাজারমূল্য দিয়ে কিনতে চান সলমন। এমনকি রাজেশের সমস্ত ঋণ শোধ করে দেওয়ারও প্রস্তাব দেন তিনি। সেই সঙ্গে, রাজেশের প্রযোজনা সংস্থার হয়ে বিনামূল্যে একটি ছবিতে কাজ করারও প্রস্তাব দেন। এমন প্রস্তাব শুনে রেগে যান রাজেশ। চিত্রনাট্যকারকে তীব্র ভর্ৎসনা করে বলেন, ‘‘তুমি কি আমাকে পথে নামাতে চাইছ? তোমাকে আপনজন ভাবতাম, তুমিও এ কাজ করছ?’’
শেষমেশ নিজের বাড়ি সলমনকে বিক্রি করতে রাজি হননি অভিনেতা। মৃত্যুর আগে পর্যন্ত ওই বাংলোতেই ছিলেন রাজেশ। শারীরিক অসুস্থতার কারণে ২০১২ সালে মৃত্যু হয় রাজেশের। ২০১৪ সালে বাংলোটি ৯০ কোটি টাকায় এক শিল্পপতির কাছে বিক্রি হয়ে যায়। ২০১৬ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে বহুতল নির্মাণের জন্য ওই বাংলো ভেঙে ফেলা হয়।