ভোট নিয়ে শিলাজিৎ মজুমদারের মতামত। গ্রাফিক: আনন্দবাজার ডট কম।
শিলাজিৎ: কী জানি! অত ভাবি না।
শিলাজিৎ: ধুর, ভোটই দিই না। সে দিন ভোট দিতে যাব, যে দিন জামাই আদর করে ভোট দেওয়াতে নিয়ে যাবে। আরে এই দিনটা তো জনগণের। ভোট-ষষ্ঠী বলে কথা! এমন দিনে যদি আমরা একটু যত্নআত্তি না পাই, তা হলে কেমন করে হবে? এই যেমন এসি গাড়ি করে নিয়ে যাবে, পাঁচতারা হোটেলকে বুথ বানাবে। ভাল করে খাওয়াবে দাওয়াবে, তবে না ভোট দিতে যাব! তার পর দেখা যাবে, দল দেখে ভোট দেব, না কি প্রার্থী দেখে। আর নয়তো ছাপ্পা ভোট ঠিক পড়ে যাবে!
শিলাজিৎ: খু-উ-ব ভাল হয় পরীক্ষা হলে। কিন্তু প্রার্থীর ক্ষেত্রে না করে পার্টির ক্ষেত্রে করলে ভাল হয়। যারা প্রার্থী দেবে, তাদেরই পরীক্ষা হোক আগে। দেশের উন্নতির জন্য টাকা কী ভাবে খরচ করছে, কতটা নিজেদের কাছে রাখছে, তাদের পরিকল্পনা সম্পর্কে জানা যাবে পরীক্ষার মাধ্যমে। আর প্রশিক্ষণ তো হয়ই, কিন্তু কেউ প্রশিক্ষিত হয় না। যে কাজ করতে চায়, সে প্রশিক্ষণ না পেয়েও করবে। যে চায় না, প্রশিক্ষণ পেয়েও করবে না। এটাই দুঃখের।
শিলাজিৎ: সবার আগে বিধায়কদের মাইনে বাড়াতাম। ভাবুন তো, কত অল্প টাকায় কত কাজ করতে হয় তাঁদের। কত কৈফিয়ত দিতে হয়। আহা রে! তবে রাজনীতিতে যাওয়াটা হল না আমার। ২০২৩-এ একটা দল আমাকে রাজনীতি বোঝাতে এসেছিল। জিজ্ঞাসা করেছিলাম, ‘‘রাজনীতি ভাল, না আমি যেটা করে খাচ্ছি, সেটা ভাল, বুঝিয়ে দিন।’’ (হেসে) যা বুঝিয়েছিল, তা স্বাধীনতা সংগ্রামের সময়ে হলে ঠিক ছিল। শেষমেশ বুঝলাম, এই ভাল আছি।
শিলাজিৎ: শ্রমিকেরা আগে দু’বেলা খাওয়ার টাকা পান, তার পর গান শুনতে আসবেন কি না দেখা যাবে।
শিলাজিৎ: বাপ রে! কঠিন প্রশ্ন, কঠিন কাজ। অনলাইনে ভোট দেওয়ার ব্যবস্থা করে দিলে কেমন হয়? তাতে দুর্নীতি কমতে পারে? সব কিছুই তো এখন অনলাইনেই হচ্ছে…
শিলাজিৎ: (হেসে) ভাল কম্পানিতে চাকরি পেলে কে না বদলাবে? মাইনে বেশি, সুবিধা বেশি, পিএফ, হেল্থ ইনশিওর্যান্স আছে হয়তো… এর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয় না কি!
শিলাজিৎ: না।
শিলাজিৎ: কোনওটাই তো কোনওটার বিরোধী নয়। তিনটিই প্রয়োজন। যে দল সব ক’টার কথা বলবে, সে-ই বুদ্ধিমান। মোদ্দা কথা হল, আমার দেশের রাজকোষে কী আছে বলো, সব ঠিক আছে তো? বাড়ছে তো? ওটিই আসল। সেটা ঠিক থাকলে সব আসবে। অন্ন, বস্ত্র, খাদ্য, স্বাস্থ্য, বাসস্থান— এগুলো আসবে।
শিলাজিৎ: উৎসাহ দেওয়ার জন্য ঠিক আছে। তার বাইরে এটার কোনও গুরুত্ব নেই।
শিলাজিৎ: না।
শিলাজিৎ: যে দলেরই হোক, শিল্পীরা রাজনীতিতে আসায় আমি কিন্তু অনেকটা আশাবাদী ছিলাম। ভেবেছিলাম যে, আর কিছু হোক না হোক, সমাজে শিল্পীদের সম্মান, তাঁদের চিন্তাধারা বা তাঁদের স্বার্থকে অনেকটা গুরত্ব দেওয়া হবে। আমার শিল্পীদের রাজনীতিতে আসা নিয়ে কোনও আপত্তি বা বিরূপ মনোভাব নেই। বরং মনে হয়েছিল, তার সুবিধা শিল্পীরা পাবেন। যত বেশি সংখ্যায় শিল্পী আসতেন, তত ভাল হত। হয়তো হবেও। কে জানে।
শিলাজিৎ: রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রাজনীতিবিদ ছিলেন না। কিন্তু হলে দুর্দান্ত হতেন। ওঁর থেকে শেখা উচিত, একটা শহর তৈরি করে কী ভাবে সাজাতে হয়, কী ভাবে চালাতে হয়, কী ভাবে শিক্ষাব্যবস্থা তৈরি করতে হয়। ঠিক যেমন তিনি শান্তিনিকেতন বানিয়েছেন।