Shah Rukh Khan

বাংলাদেশি ক্রিকেটারকে নিয়ে কটাক্ষে বিদ্ধ শাহরুখ! টলিপাড়ার বাদশা-অনুরাগীদের কী প্রতিক্রিয়া?

আসন্ন আইপিএলে খেলানোর জন্য শাহরুখের দল কেকেআর-এ মুস্তাফিজুর রহমানকে নেওয়া নিয়ে তৈরি হয়েছে রাজনৈতিক চাপানউতোর। দেশের একটা অংশের মানুষের কটাক্ষে বিদ্ধ বলিউডের বাদশা। এই ঘটনায় কী বলছেন টলিপাড়ায় তাঁর অনুরাগীরা?

Advertisement

আনন্দবাজার ডট কম সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ০৩ জানুয়ারি ২০২৬ ১৯:১২
Share:

কী বলছেন টলিউডের শাহরুখ-অনুরাগীরা? গ্রাফিক: আনন্দবাজার ডট কম।

বাংলাদেশের জোরে বোলার মুস্তাফিজুর রহমানকে আইপিএলের জন্য কিনে বিতর্কে কলকাতা নাইট রাইডার্স-এর মালিক, অভিনেতা শাহরুখ খান। ‘দেশদ্রোহী’ তকমাও দিয়েছেন কেউ কেউ। এর আগে, কখনও মাদককাণ্ডে ছেলের গ্রেফতারি, কখনও ধর্মীয় অসহিষ্ণুতা নিয়ে মন্তব্য করা— প্রায়ই নানা কারণে কটাক্ষে বিদ্ধ হয়েছেন তিনি। কেকেআর মুস্তাফিজুরকে নিতেই তৈরি হয় রাজনৈতিক চাপানউতোর। বার বার কেন শাহরুখ কটাক্ষ ও আক্রমণের শিকার হচ্ছেন?

Advertisement

আনন্দবাজার ডট কম-এর তরফে যোগাযোগ করা হয়েছিল শাহরুখ-অনুরাগী ও ক্রিকেটপ্রেমী অভিনেতা রাহুল অরুণোদয় বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে। তাঁর মতে, “আমি মুস্তাফিজুরকে কেকেআর-এ খেলানো উচিত নয়, এই মর্মে একটা প্রতিবাদ দেখেছি। এতে আমার কোনও আপত্তি নেই। আমি কেকেআর-কে ভালবাসি, আমি শাহরুখকে ভালবাসি, আমি আমার শহরের নামের ফ্র্যাঞ্চাইজ়িটাকে ভালবাসি। সবই ঠিক আছে। কিন্তু, দীপু দাসের মৃতদেহের তুলনায় আমার এই ভালবাসা বেশি জরুরি নয়। বাংলাদেশে যে ঘৃণার বাতাবরণ তৈরি হচ্ছে, ওদেরও বোঝা উচিত যে, আমাদেরও কিছু ক্ষমতা আছে। শিল্পের স্বাধীনতা, শিল্পীর স্বাধীনতা মেনে নিয়েও আমি মনে করি, বর্তমানে দেশের যে অবস্থা, তাতে মুস্তাফিজুর রহমানকে না খেলানোটাই সঠিক সিদ্ধান্ত।”

উল্লেখ্য, শনিবার সকালেই দেশের সর্বোচ্চ ক্রিকেট নিয়ামক সংস্থা ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড (বিসিসিআই) কর্তৃপক্ষ কেকেআর-কে এক নির্দেশে জানিয়েছেন, মুস্তাফিজুরকে খেলানো যাবে না। তাঁকে ছেড়ে দিতে হবে। এই নির্দেশ মেনে নিয়েছে শাহরুখের কেকেআর। তবে এর পরেও শাহরুখের প্রতি কটাক্ষ চলছেই।

Advertisement

এ প্রসঙ্গে শাহরুখের পাশে অভিনেতা। ব্যক্তি আক্রমণ করে শাহরুখের বিশেষ কোনও ক্ষতি করা যাবে বলে মনে করেন না রাহুল। তাঁর কথায়, ‘‘শাহরুখকে কোন রাজনৈতিক নেতারা টার্গেট করছেন সেটা খুব ভালই বোঝা যাচ্ছে। তাঁরা তো কোনও অসামঞ্জস্য হলেই ধর্ম নিয়ে পড়েন। আগে যখন পাকিস্তানকে নিষিদ্ধ করা হয়েছিল, তখন পাক ক্রিকেটারদের কেন নিষিদ্ধ করা হচ্ছে, সেটা বলে সওয়াল করেছিলেন শাহরুখ। ফলে দর্শকের স্মৃতিতে সেটাও আছে। তবে শাহরুখ, সলমন খান, আমির খান আজ যে জায়গায় পৌঁছে গিয়েছেন, তাতে ওই নেতামন্ত্রীদের একটা কথায় ওঁদের খুব একটা কিছু এসে যাবে না।”

এ প্রসঙ্গে অভিনেত্রী শ্রীলেখা মিত্রের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, “ধর্ম এমন একটা নেশা, যাতে এখনও গোটা পৃথিবী আক্রান্ত। কেবল পুথিগত শিক্ষাই আসল শিক্ষা নয়, মনের প্রসারেরও প্রয়োজন। কিন্তু মনের প্রসার থেকে মুখ ফিরিয়ে যারা ধর্ম নিয়ে ভেদাভেদ করে, তারা আসলে বিবাদ চায়। তারা মারামারি, খুনোখুনি করতে ভালবাসে। আমরা সময়ের সঙ্গে এগোনোর বদলে পিছিয়ে যাচ্ছি। কেউ কিছু বললেই, ‘বাংলাদেশ চলে যান’, ‘পাকিস্তান চলে যান’ শুনতে হয়। আমাদের সংবিধান তো ধর্মের নিরিখে তৈরি হয়নি। এটা তো অন্যায়। সব মিলিয়ে খুব একটা ভাল সময়ের মধ্যে দিয়ে যাচ্ছি না আমরা।’’

সেইসঙ্গে তাঁর স্পষ্ট বক্তব্য, ‘‘বাংলাদেশকেও বুঝতে হবে যে তারা এই স্বেচ্ছাচারিতা করতে পারে না। চার দিকে কেন এই অস্থিরতা? কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাকে কেন সঠিক ভাবে ব্যবহার করছি না? সঠিক পথটা খুব সহজ, সেটা ধরছি না কেন?”

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement