Biswajit Chatterjee On Anant Singh

বৃদ্ধ অনন্ত সিংহরূপী জিৎকে দেখে স্মৃতিমেদুর বিশ্বজিৎ! বিপ্লবী-প্রযোজক সম্পর্কে কী জানালেন?

অভিনেতা ভানু বন্দ্যোপাধ্যায়েরও কাছের মানুষ ছিলেন অনন্ত। তাঁর প্রযোজিত ‘যমালয়ে জীবন্ত মানুষ’ ছবিতে ভানুর বিপরীতে নায়িকা বেছেছিলেন বাসবী নন্দীকে।

Advertisement

আনন্দবাজার ডট কম সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ১০ জানুয়ারি ২০২৬ ০৯:২৮
Share:

(বাঁ দিকে) বিপ্লবী অনন্ত সিংহরূপী জিৎ, বিশ্বজিৎ চট্টোপাধ্যায় (ডান দিকে)। ছবি: সংগৃহীত।

‘মায়ামৃগ’ মুক্তি পেয়েছে। বিশ্বজিৎ চট্টোপাধ্যায় রাতারাতি ‘স্টার’। পর্দার পাশাপাশি মঞ্চেও অভিনয় করছেন। কলকাতায় তাঁর জামির লেনের বাড়িতে হঠাৎই এক আগন্তুক হাজির। তাঁর প্রযোজিত ছবিতে নায়ককে চান।

Advertisement

সেই আগন্তুক বিপ্লবী অনন্ত সিংহ। পরাধীন ভারতের প্রশাসনের কাছে তিনি আতঙ্ক। পরবর্তী কালে সেই বিপ্লবীই প্রযোজক!

এই বিপ্লবী-প্রযোজকের জীবন নিয়ে পথিকৃৎ বসুর আগামী ছবি ‘কেউ বলে বিপ্লবী কেউ বলে ডাকাত’। নামভূমিকায় জিৎ। সদ্য ছবির শুটিং শেষ হয়েছে। শুটিং-পরবর্তী কাজে ব্যস্ত অভিনেতা, পরিচালক, কলাকুশলীরা। সেই অবসরে বিপ্লবী-প্রযোজক সম্পর্কে আনন্দবাজার ডট কমকে সবিস্তার জানালেন বর্ষীয়ান অভিনেতা বিশ্বজিৎ।

Advertisement

জিৎ-কে তাঁর কেমন লেগেছে অনন্ত সিংহরূপে? সে কথাও জানাতে ভোলেননি।

কলকাতায় নিজের বাড়িতে প্রথম সাক্ষাতের কথা এখনও মনে আছে বিশ্বজিতের। লম্বা, টানটান চেহারা। পরনে সাদা শার্ট-পাঞ্জাবি। গোল মুখে চশমা। হাতে চামড়ার ব্যাগ। অনন্ত সিংহ নিজের পরিচয় দিয়ে জানিয়েছিলেন, তিনি একটি ছবি পরিচালনা করছেন। ‘মায়ামৃগ’ ছবির নায়িকা সন্ধ্যা রায়, পরিচালক চিত্ত বসু নতুন ছবিতে থাকবেন। হিট ছবির জুটিকে ফেরাতে চাইছেন তাঁর নতুন ছবি ‘ধূপছায়া’তে। “কথা বলব কী! আমি তো বিস্মিত ওঁকে দেখে। চট্টগ্রাম অস্ত্রাগার লুণ্ঠনে মাস্টারদা সূর্য সেনের অন্যতম সহকারী ছিলেন অনন্ত। ওঁর নামে বাঘে-গরুতে এক ঘাটে জল খেত।”

সঙ্গে সঙ্গে পায়ে হাত ছুঁইয়ে তাঁকে প্রণাম করেন অভিনেতা।

এ বার প্রশ্ন, একজন বিপ্লবী কী করে প্রযোজক হয়ে উঠলেন? অভিনেতা জানিয়েছেন, সে সময়ে মুম্বইয়ের নামী পরিচালক সত্যেন বসু। তাঁর বন্ধু ছিলেন অনন্ত সিংহ। পরিচালকের স্ত্রী রুবি সেনের গোপন যোগাযোগ ছিল বিপ্লবীদের সঙ্গে। তাঁর মাধ্যমেই বসু পরিবারের সঙ্গে আলাপ এই বিপ্লবীর। সত্যেনের অনেক ছবির নায়ক বিশ্বজিৎ। ফলে, খুব কম সময়ের মধ্যে বিপ্লবী-প্রযোজকের প্রিয় হয়ে উঠেছিলেন তিনি।

শুটিংয়ের সময় রোজ এসে বসতেন অনন্ত। খুঁটিয়ে দেখতেন তাঁর ছবির শুটিংয়ের কাজ।

বিপ্লবী কার্যকলাপের পাশাপাশি নাকি প্রয়োজনে ‘ডাকাতি’ও করেছেন অনন্ত সিংহ। এই ঐতিহাসিক তথ্য বিশ্বজিৎ নানা বইয়ে যেমন পড়েছেন, নিজের কানে শুনেছেন বিপ্লবী-প্রযোজকের থেকে। রোজ শুটিংয়ের ফাঁকে বা শেষে অনন্ত সিংহ আর অভিনেতা আড্ডা দিতেন। আড্ডায় নানা রোমহর্ষক কাহিনি শোনাতেন বিপ্লবী-প্রযোজক। শুধুই সত্যেন বসু নন, অভিনেতা ভানু বন্দ্যোপাধ্যায়ও কাছের মানুষ ছিলেন অনন্তের। তাঁর প্রযোজিত ‘যমালয়ে জীবন্ত মানুষ’ ছবিতে ভানুর বিপরীতে নায়িকা বেছেছিলেন বাসবী নন্দীকে।

সদ্য প্রকাশ্যে এসেছে অনন্ত সিংহের বৃদ্ধাবস্থার ‘লুক’। তাঁর মতোই সাদা ধুতি-পাঞ্জাবি, চশমায় শোভিত জিৎ!

সে কথা বলতেই উচ্ছ্বসিত বিশ্বজিৎ। বললেন, “স্বাধীনতা সংগ্রামীদের জীবনের প্রতি আমার বরাবরের কৌতূহল। তার উপরে যে মানুষকে নিজের চোখে দেখেছি, তাঁকে পর্দায় তুলে ধরা হচ্ছে শুনে ভাল লেগেছে। জিৎ ভাল অভিনেতা। আশা, তিনি নিখুঁত ভাবেই বিপ্লবীকে পর্দায় ফুটিয়ে তুলতে পারবেন।” তিনি জিতের প্রথম ছবি ‘সাথী’ দেখেছেন। সে প্রসঙ্গ উল্লেখ করে বর্ষীয়ান অভিনেতার দাবি, “হরনাথ চক্রবর্তী পরিচালিত ছবি দেখেই বলেছিলাম, জিৎ লম্বা রেসের ঘোড়া। আমার কথা প্রমাণিত।” তিনি জিৎ এবং ‘কেউ বলে বিপ্লবী কেউ বলে ডাকাত’ ছবির টিমকে আগাম শুভেচ্ছা জানিয়েছেন।

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement