সেলিম খানের ধর্মবিশ্বাস। ছবি: সংগৃহীত।
চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণ হয়, হাসপাতালে ভর্তি হন ৯০ বছরের চিত্রনাট্যকার সেলিম খান। তার আগে একটি বৈদ্যুতিন সংবাদমাধ্যমকে সাক্ষাৎকার দিয়েছিলেন সলমন খানের বাবা। সেখানেই তিনি জানান, দীর্ঘ বছর ধরে তিনি আর মসজিদে যান না। কেন যান না, সেই কারণও জানিয়েছেন তিনি।
হাসপাতাল থেকে ছাড়া না পেলেও স্থিতিশীল সেলিম। তার মধ্যেই তাঁর পুরনো সাক্ষাৎকার নতুন করে ছড়িয়ে পড়েছে। এমনিতেই তাঁর পরিবার সর্বধর্মসমন্বয়ের উদাহরণ। সেলিমের প্রথম স্ত্রী সলমা খান মরাঠী হিন্দু। দ্বিতীয় স্ত্রী হেলেন হচ্ছেন খ্রিস্টান। তাঁর দুই সন্তান আরবাজ় এবং সোহেল খানের প্রথম স্ত্রীরাও হিন্দু। বাড়িতে ইদ উদ্যাপনের পাশাপাশি গণেশপুজোও হয়। ফলে, ধর্ম নিয়ে তাঁর মধ্যে ছুতমার্গ থাকবে না, এটাই স্বাভাবিক।
তাই মসজিদে না যাওয়া নিয়ে সেলিমের মনে কোনও দ্বিধা নেই। সপক্ষে যুক্তি, “মসজিদের কিছু মানুষ ‘প্রকৃত মুসলিম’-এর সংজ্ঞা নির্ধারণের দায়িত্ব নিয়ে নিয়েছেন। এটা মানতে পারি না। তাই মসজিদে যাওয়া ছেড়ে দিয়েছি।” তাঁর এমন বক্তব্যের পিছনেও কারণ আছে। একবার নাকি তিনি মসজিদে নমাজ পড়ছিলেন। তখন নাকি এক মুসলিম ব্যক্তি উঠে গিয়ে তাঁকে নমাজ পড়ার সারিতে দাঁড়াতে বলেন! এ ভাবেই ওই ব্যক্তি সেলিম খানকে বোঝাতে চেষ্টা করেন, বর্ষীয়ান চিত্রনাট্যকার সঠিক ভাবে নমাজ পড়তে জানেন না! এর পর থেকেই মসজিদ যাওয়া বন্ধ করেন সেলিম খান। তাঁর যুক্তি, “আমার আর ঈশ্বরের মধ্যে কোনও তৃতীয় পক্ষ নেই। আমরা সরাসরি কথা বলি।”
এই প্রসঙ্গে তিনি উদাহরণ দেন কণ্ঠশিল্পী মোহম্মদ রফীর। প্রয়াত শিল্পী একাধিক ভজন গেয়েছেন। তার পরেও তিনি প্রকৃত মুসলিম। কারণ, তাঁর ভক্তিগীতিতে কোনও ভুল ছিল না। সেলিম খানের কথায়, “যদি মোহম্মদ রফীর গাওয়া ভজনে কোনও ভুল থাকত, তা হলে স্বয়ং ঈশ্বর তাঁকে শাস্তি দিতেন। তাঁর কণ্ঠ থেকে সুর কেড়ে নিতেন।”