গ্রাফিক: আনন্দবাজার ডট কম।
দ্রুত রান্না করবেন বলে যে প্যাকেটবন্দি আদা-রসুন বাটা কিনে নিশ্চিন্তে মিশিয়ে দেন খাবারে, তাতেই মিলল ভেজাল। ক্ষতিকর রাসায়নিক তো বটেই, দেখা গেল আদা-রসুন বাটার জন্য যে কাঁচামাল ব্যবহার করা হচ্ছে, তা-ও অত্যন্ত নিম্নমানের।
হায়দরাবাদের সিটি পুলিশের টাস্ক ফোর্স খাদ্য সুরক্ষা অভিযান চালিয়েছিল শহরের এক বেসরকারি মশলা প্রস্তুতকারী সংস্থার কারখানায়। সেখান থেকে ৪০৩২ কেজি ভেজাল মেশানো বাটামশলা এবং ৬২১০ কেজি নিম্ন মানের কাঁচামাল বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। কারণ কোনওটাই খাবারের নিরাপত্তার আদর্শ মাত্রা ছুঁতে পারেনি।
নোংরা জলের উপর পড়ে রয়েছে রসুনের বস্তা। ছবি: এক্স (সাবেক টুইটার)
হায়দরাবাদ সিটি পুলিশ ওই অভিযানের ছবি পোস্ট করেছে সমাজমাধ্যমে। সেই সব ছবিতে দেখা যাচ্ছে নোংরা জলে ভর্তি মেঝের উপরে ছড়ানো রয়েছে আদা এবং রসুন। যে সব যন্ত্রে বাটা হচ্ছে বা বাটার পরে যেখানে সংরক্ষণ করা হচ্ছে, সেখানে পরিচ্ছন্নতার বালাই নেই কোনও। এ ছাড়া পুলিশ জানিয়েছে, ওই বাটা মশলায় নিরাপদ সীমার বেশি জ়ানথান গাম এবং ক্ষতিকর অ্যাসিটিক অ্যাসিডও মেশানো হচ্ছিল, যা স্বাস্থ্যের পক্ষে ক্ষতিকর। দু’টি উপাদানই, ফুসফুসের সমস্যা, হজমের সমস্যা বাড়িয়ে দিতে পারে। এমনকি, এর থেকে হতে পারে ডায়েরিয়াও।
পুলিশ ওই মশলা প্রস্তুতকারী সংস্থার মালিক ৫৫ বছর বয়সি হাসান আলি রূপানিকে গ্রেফতার করছে। সব মিলিয়ে বাজেয়াপ্ত করেছে ২২ লক্ষ টাকার জিনিস। তবে এই প্রথম দৈনন্দিন ব্যবহারের আদা-রসুন বাটায় এমন ভেজালের সন্ধান মিলল, তা নয়। এর কিছু দিন আগে তেলেঙ্গানারই মাল্লেপাল্লিতে ১০৯০ কেজি ভেজাল মেশানো আদা-রসুন বাটা এবং ৮৭৫ কেজি নিম্নমানের কাঁচামাল বাজেয়াপ্ত করা হয়েছিল।
আদা-রসুন বাটার কাজ চলছে মেশিনে (বাঁ দিকে)। সংরক্ষণ করা হচ্ছে প্লাস্টিকের ঢাকা হীন পাত্রে। ছবি: এক্স (সাবেক টুইটার)
এই ঘটনায় বেড়েছে উদ্বেগ। প্রশ্ন উঠেছে, তবে কি প্যাকেটবন্দি যে আদা-রসুন বাটা পাওয়া যায়, সর্বত্রই ওই ধরনের ভেজাল মেশানো হচ্ছে? সে প্রশ্নের উত্তর পেতে সময় লাগলেও একটি বিষয় স্পষ্ট— রসুনের খোসা ছাড়াতে যতই বিরক্তি লাগুক, পরিবারের সদস্য এবং নিজের স্বাস্থ্য নিরাপদে রাখতে হলে বাড়িতে নিজের হাতের বাটা মশলাতেই ভরসা রাখা যায় সবচেয়ে বেশি।