Japanese Lifestyle Methods

মস্তিষ্ক হবে ধারালো, স্মৃতি লোপের আশঙ্কা কমবে, ৫ জাপানি প্রথা মেনে যাপন শুরু করুন

একাধিক চিকিৎসক এবং পর্যটক জাপানের প্রথা অনুসরণ করে জীবনযাপন করার পরামর্শ দেন। মস্তিষ্কের কর্মক্ষমতা বৃদ্ধির জন্য উপকারী হতে পারে এই সমস্ত পন্থা। রইল তারই ৫টির সন্ধান।

Advertisement

আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক

শেষ আপডেট: ১৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ১৯:২৬
Share:

জাপানি প্রথায় যাপন। ছবি: সংগৃহীত।

বয়স বাড়ে, অথচ বার্ধক্য নিয়ে দুশ্চিন্তা নেই। ব্যস্ততা আছে, অথচ তাড়া কম। এ জন্যই জাপানিদের আয়ু বেশি, এমনটাই দাবি করা হয়। জাপানিরা জীবনযাপনকে বাধ্যতামূলক হিসেবে দেখেন না, বরং প্রতিটি পদক্ষেপকে সুন্দর করে তোলার প্রয়াস থাকে তাঁদের। একাধিক চিকিৎসক এবং পর্যটক তাই জাপানের প্রথা অনুসরণ করে জীবনযাপন করার পরামর্শ দেন। মস্তিষ্কের কর্মক্ষমতা বৃদ্ধির জন্য উপকারী হতে পারে এই সমস্ত পন্থা। রইল তারই ৫টির সন্ধান।

Advertisement

১. ইকিগাই: বাঁচার উদ্দেশ্য সন্ধান করাকেই বলা হয় ইকিগাই। উদ্দেশ্যহীন বেঁচে থাকার প্রবণতাকে রোধ করার জন্য জাপানিরা এই পন্থার অবলম্বন করেন। প্রতি দিন সকালে ঘুম থেকে ওঠার নির্দিষ্ট কারণ খোঁজার কথা বলা হয়। নির্দিষ্ট কাজ মানে তা কেবল বাধ্যতামূলক কাজ বা অফিস-স্কুল-কলেজে যাওয়া নয়, বরং নিজের পছন্দের, আনন্দের কোনও কাজের কথা বলা হচ্ছে। সকালে উঠে মনে হতে হবে, আজকের দিনটি কাজে লাগাতে হবে। তবে তা বড় কিছু হতেই হবে, এমন নয়। গান করা, ছবি আঁকা, গাছের যত্ন নেওয়া, রান্না বা বই পড়ার মতো সাধারণ কাজও হতে পারে। এই উদ্দেশ্যবোধ মস্তিষ্ককে সচল রাখে, মনোযোগ বাড়ায়, আর মনও হালকা থাকে।

জাপানের যাপনের ৫ পন্থা। ছবি: সংগৃহীত

২. মস্তিষ্কের স্বাস্থ্যরক্ষায় খাওয়াদাওয়া: জাপানের খাবারে মাছ, শাকসব্জি, সয়াবিন, সামুদ্রিক প্রাণী আর নানা ধরনের চা থাকবেই। এই ধরনের খাবারে এমন উপাদান থাকে, যা মস্তিষ্কের কোষকে শক্তিশালী রাখে। খুব বেশি তেল-মশলা বা অতিরিক্ত মিষ্টি খেলে মাথা ভাল করে কাজ করে না, মনোযোগও কমে যায়। তাই খাবার যত সাদামাঠা হবে, ততই শরীর আর মস্তিষ্ক দুই ভাল থাকবে। জাপানিরা নিজেদের আঞ্চলিক খাবার খান। বাঙালিরা তাঁদের এলাকার খাদ্যাভ্যাস অনুযায়ী খাবার খাবেন। ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড, অ্যান্টি-অক্সিড্যান্ট বা অন্যান্য পুষ্টিগুণ সমৃদ্ধ খাবার বেশি করে খেতে হবে।

Advertisement

৩. হারা হাচি বু: পেট ৮০ শতাংশ ভরে গেলেই খাবার খাওয়া বন্ধ করে দিতে হবে। খেতে খেতে মাঝে এক বার থামতে হবে। নিজেকে প্রশ্ন করতে হবে, পেট কি ভরে গিয়েছে, না কি সামনে খাবার রয়েছে বলেই খেয়ে যাচ্ছি? ৮০ শতাংশ ভরে গেলেই খাওয়ায় রাশ টানতে হবে। তা ছাড়া খাবার খাওয়ার গতি কমিয়ে ফেলতে হবে। এতে শরীর থেকে লেপটিন নিঃসরণ করার জন্য পর্যাপ্ত সময় পাওয়া যায়। লেপটিন হল সেই হরমোন, পেট ভরে গেলে যেটি মস্তিষ্কে সঙ্কেত পাঠায়। ফলে মস্তিষ্ককে সক্রিয় রাখতে সাহায্য করে।

৪. মনোযোগ বৃদ্ধির অনুশীলন: ধ্যান, চা-পান, নীরবে প্রকৃতির মধ্যে হাঁটা- জাপানে এই অভ্যাসগুলি অনেকেরই জীবনের অংশ। কারণ মস্তিষ্ক যত বেশি চাপের মধ্যে থাকে, তত বেশি ভুল হয়, স্মৃতিও দুর্বল হয়। প্রতি দিন কিছুক্ষণ চুপচাপ নিশ্বাস নিলে মাথা হালকা থাকে। গাছপালা, জল, আকাশ, আলো-বাতাসের সংস্পর্শে থাকলে মস্তিষ্ক ঠান্ডা হয়। শান্ত মন মানেই মনোযোগ বেশি।

৫. নিয়মিত নতুন কিছু শেখা: শেখার কোনও শেষ নেই— এই মতেই বিশ্বাসী জাপানিরা। স্কুল-কলেজের গণ্ডি পেরিয়েও শিক্ষা গ্রহণ চলে তাঁদের। জাপানে বয়স বাড়লেও নতুন জিনিস শেখা বন্ধ হয় না। কেউ নতুন ভাষা শেখেন, কেউ ছবি আঁকেন, কেউ হাতের কাজ শেখেন। নতুন কিছু শেখা মানে মস্তিষ্ক নতুন ভাবে সক্রিয় হয়। এতে স্মৃতিশক্তি ভাল থাকে, চিন্তাভাবনাও ধারালো হয়।

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement