স্বাস্থ্যকর লুচি কী ভাবে বানাবেন? ছবি: এআই সহায়তায় তৈরি।
লুচির গন্ধে মন ভাল হয়ে যায়! ময়দা আর সাদা তেলের মিশেলে ফুলকো ফুলকো লুচির স্বাদ প্রাণ জুড়িয়ে দেয়! কিন্তু ডায়েট, বদহজমের মতো নানা কারণে লুচি খাওয়াই হয় না। অথচ এটিকে সহজেই স্বাস্থ্যকর খাবারে পরিণত করা যায়। তার জন্য মেনে চলতে হবে পুষ্টিবিদ অনন্যা ভৌমিকের পরামর্শ।
লুচি সম্পূর্ণ বাদ দেওয়ার প্রয়োজন নেই। বরং কিছু ছোট পরিবর্তনের মাধ্যমে এই প্রিয় খাবারটিকে তুলনামূলক ভাবে স্বাস্থ্যকর করে তোলা সম্ভব। স্বাদও খুব একটা কমে না, আবার পুষ্টিগুণও কিছুটা বাড়ে। তবে পুষ্টিবিদ বলছেন, ‘‘স্বাস্থ্যকর লুচি বানালেও কারও কারও ক্ষেত্রে নিষেধাজ্ঞা মানতে হবে। ক্ষতিকর কোলেস্টেরল বেশি যাঁদের, অথবা যাঁরা ফ্যাটি লিভার বা হৃদ্যন্ত্রের অসুখে ভুগছেন, অথবা যাঁরা ডায়েট করছেন, তাঁদের জন্য কিন্তু ছাঁকা তেলে ভাজা খাবার মোটেও স্বাস্থ্যকর নয়। যতই আপনি স্বাস্থ্যকর খাবার হিসেবে রাঁধুন, সমস্যা রয়ে যাচ্ছে অন্যত্র।’’ তবে এর বাইরে যাঁরা স্বাস্থ্যকর লুচি খেতে চান, তাঁদের জন্য কয়েকটি টোটকা রয়েছে পুষ্টিবিদের।
কী ভাবে খাবেন লুচি? ছবি: সংগৃহীত
স্বাস্থ্যকর লুচি বানানোর স্বাস্থ্যকর পন্থা
১. ময়দা ছাড়া লুচি আর লুচি থাকে না! তাই ময়দা পুরোপুরি বাদ দেওয়া যাবে না। অল্প পরিমাণ ময়দার সঙ্গে মেশাতে হবে মিলেট, ওট্স ইত্যাদির আটা। তার পর মাখতে হবে।
২. অনেকে ময়দা মাখার সময়ে শুধু জল ব্যবহার করেন। তার বদলে সামান্য টক দই ব্যবহার করলে লুচি নরম হয় এবং কিছুটা অতিরিক্ত পুষ্টিও পাওয়া যায়।
৩. লুচির ময়দার সঙ্গে অল্প পরিমাণে ভাজা মুগডাল বা ছোলার ডালের গুঁড়ো মেশালে প্রোটিনের পরিমাণ কিছুটা বাড়ে। স্বাদেও খুব বেশি পরিবর্তন হয় না।
৪. তেল যথেষ্ট গরম না হলে লুচি বেশি তেল শুষে নেয়। আবার অতিরিক্ত গরম তেলও খাবারের গুণমান নষ্ট করতে পারে। সঠিক তাপমাত্রায় ভাজা হলে লুচি তুলনামূলক কম তেল শোষণ করে।
ময়দা মাখার কৌশল শিখুন। ছবি: সংগৃহীত
৫. একই তেল বার বার গরম করে ব্যবহার করলে ট্রান্স ফ্যাট তৈরি হতে পারে। তাই সম্ভব হলে ব্যবহৃত তেল না দিয়ে নতুন করে লুচি ভাজুন।
৬. লুচির সঙ্গে সব সময় ভারী, তেল-মশলাযুক্ত তরকারি খাওয়ার প্রয়োজন নেই। আলুর তরকারির পাশাপাশি ছোলার ডাল, মটরশুঁটির ঘুগনি বা নানা সব্জি দিয়ে তৈরি হালকা পদও বেছে নেওয়া যেতে পারে। এতে খাবারের সামগ্রিক পুষ্টিমান বাড়ে।
৭. লুচি যতই প্রিয় হোক, একসঙ্গে অনেকগুলি খেয়ে ফেললে শরীর খারাপ হওয়ার ঝুঁকি বাড়ে বেশি। ধীরে ধীরে এবং পরিমিত পরিমাণে খেলে অতিরিক্ত ক্যালোরি গ্রহণ করতে হবে না, হজমের সমস্যাও হবে না।
৮. কড়াই থেকে যে পাত্রে লুচি তুলে রাখছেন, তাতে যেন মোটা টিস্যু পেপার থাকে। যাতে লুচি থেকে অতিরিক্ত তেল শুষে নিতে পারে।
৯. কোন তেল ব্যবহার করছেন, তা গুরুত্বপূর্ণ। যে তেল আঁচে বসালে তাড়াতাড়ি ধোঁয়া ওঠে, অর্থাৎ স্মোক পয়েন্ট বেশি, তেমন তেলে লুচি ভাজা উচিত। যেমন, সর্ষের তেল, সূর্যমুখীর তেল, রাইস ব্র্যান অয়েল, অ্যাভোকাডো অয়েল, চিনাবাদামের তেল ইত্যাদি।