Fatty Liver

লিভারের চর্বি গলবে, নির্মূল হবে ফ্যাটি লিভার, খুব চেনা এক ভিটামিনই তা পারবে, কী সেটি?

ফ্যাটি লিভার নিয়ে ভুগছেন অনেকেই। লিভারের সাধারণ রোগ আর ফ্যাটি লিভার এক নয়। যকৃতের আনাচ কানাচে পরতে পরতে চর্বি জমতে শুরু করলে তার ফল হয়ে পারে ভয়াবহ। লিভারে জমা চর্বি ক্যানসারের কারণও হয়ে উঠতে পারে।

Advertisement

আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক

শেষ আপডেট: ২৯ মার্চ ২০২৬ ১১:৫৪
Share:

কোন ভিটামিনে জব্দ হবে ফ্যাটি লিভার? গ্রাফিক: আনন্দবাজার ডট কম।

পেট-কোমরে মেদ জমলে তা বাইরে থেকে বোঝা যায়। কিন্তু শরীরের ভিতরে লিভারে মেদ জমলে তা বোঝার কি আর সাধ্য আছে? যকৃতের আনাচ কানাচে পরতে পরতে মেদ জমে বিপদ বাড়তে থাকে অজান্তেই। অথচ তা ঠাহর করতে পারেন না বেশির ভাগ মানুষই। সে কারণেই আর পাঁচটা সাধারণ রোগের চেয়ে ফ্যাটি লিভারের অসুখকে বিপজ্জনকই বলা হয়। লিভারে জমা নাছোড়বান্দা চর্বি গলানো সহজ নয়। তা কমতেও চায় না। ওষুধেও না। জীবনধারার সঙ্গে সম্পর্কিত রোগটির নিরাময় হতে পারে জীবনযাত্রার পরিবর্তনেই। আর তা করতে পারেন ক’জনে? তাই ফ্যাটি লিভার সারানো চাট্টিখানি কথা নয়। রোগটি নিয়ে তাই আলোচনা চলতেই থাকে। ফ্যাটি লিভার কিসে সারবে, এ নিয়ে ইন্টারনেটে খোঁজাখুঁজিও চলে। কেউ জোর দেন ডায়েটে, কেউ আবার ব্যায়ামে। তবে কোরিয়ার ন্যাশনাল রিসার্চ ফাউন্ডেশন এবং কোরিয়া রিসার্চ ইনস্টিটিউট অফ বায়োসায়েন্স অ্যন্ড বায়োটেকনোলজির গবেষকেরা ফ্যাটি লিভার নির্মূল করতে বেছে নিয়েছেন এক বিশেষ ভিটামিনকেই।

Advertisement

ভিটামিনই জব্দ করবে লিভারের জটিল অসুখকে। আর সে ভিটামিন খুব চেনা। সেটি হল ভিটামিন বি৩ বা নিয়াসিন। রোজের কিছু খাবার থেকেই তা পাওয়া সম্ভব। লিভারের অসুখ সারাতে যে সব ওষুধ তৈরি হচ্ছে, তার মধ্যেও ভিটামিন বি৩-কে রাখার কথা ভাবছেন বিজ্ঞানীরা। আর এ ব্যাপারে একমত আমেরিকার স্ট্যানফোর্ড ইউনিভার্সিটির গবেষকেরাও। তাঁরাও পরীক্ষা করে দেখেছেন, লিভারে মেদ জমার কারণ এক বিশেষ জিন। আর সে জিনকে কব্জা করতে পারে একমাত্র নিয়াসিনই।

সবই জিনের খেলা

Advertisement

লিভারের যাবতীয় ক্রিয়াকলাপ নিয়ন্ত্রণ করে যে সব জিন তাদের উপর খবরদারি করে ‘এমআইআর-৯৩’ । একধরনের আরএনএ (রাইবোনিউক্লিক অ্যাসিড) যার কাজই হল লিভারে প্রদাহ তৈরি করা। এই উপাদানটির মাত্রা যদি বেড়ে যায়, তা হলে বিপাকক্রিয়ার হার কমে যাবে। লিভারে মেদ জমবে। ‘এমআইআর-৯৩’ উপাদানটিকে তাই দমিয়ে রাখতে পারলেই লিভারের রোগ হবে না, এমনই ধারণা বিজ্ঞানীদের। আর সে কাজটি করতে পারবে ভিটামিন বি৩ বা নিয়াসিন।

ফ্যাটি লিভারের প্রায় ১৫০ রকম ওষুধ নিয়ে পরীক্ষা করে বিজ্ঞানীরা দেখেছেন, যার মধ্যে নিয়াসিন বেশি পরিমাণে আছে, সেটিই ওই ‘এমআইআর-৯৩’-কে কব্জা করতে পারে। বদলে আরও এক জিন ‘এসআইআরটি১’-কে সক্রিয় করে তোলে যেটি লিভারে মেদ জমতে দেয় না। এই জিনটি আবার বিপাকক্রিয়ার হার বৃদ্ধিতেও সাহায্য করে।

ভিটামিন বি৩ রোজের খাবারে রাখতে পারলে লিভার ভাল থাকবে, এমনই পরামর্শ দিচ্ছেন গবেষকেরা। আর তা আসবে নানা রকম দানাশস্য, ফল, বাদাম ও বীজ, দুধ, চিকেন এবং ডিম থেকে। সাপ্লিমেন্টের বদলে খাওয়াদাওয়ায় বদল আনতে পারলে লিভার ভাল থাকবে বলেই মত তাঁদের।

ঠিক কোন সময় থেকে লিভারে মেদের পাহাড় জমতে শুরু করেছে, তা ঠাওর করতে পারেন না বেশির ভাগই। আর ব্যস্ত সময়ে স্বাস্থ্য পরীক্ষা করানোর কথা কত জনেরই বা মাথায় থাকে। তাই ফ্যাটি লিভার নামক রোগটি বেশ জাঁকিয়েই বসেছে। সাম্প্রতিক সমীক্ষাতেও ভয় ধরানোর মতো রিপোর্টই পাওয়া গিয়েছে। দেশের কমবয়সিরাই নাকি সবেচেয়ে বেশি ভুগছেন লিভারের এই রোগে।

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement