চিংড়ি থেকে কী ভাইরাস ছড়াচ্ছে? ছবি: ফ্রিপিক।
চিংড়ি, কাঁকড়া কার না পছন্দ! চিংড়ির হরেক পদ প্রায় সব বাঙালি বাড়িতেই রাঁধা হয়। আর ঝাল ঝাল কাঁকড়া হলে তো কথাই নেই! তবে আম বাঙালি এখন খাদ্যের ব্যাপারেও বৈচিত্র এনেছে। ‘সি ফুড’ বলতে এখন কেবল চিংড়ি বা কাঁকড়াতে থেমে নেই। স্কুইড, অক্টোপাসও ধীরে ধীরে বাঙালির হেঁশেলে জায়গা করে নিচ্ছে। সেল্ড লবস্টার, ব্রাউন থেকে গোল্ডেন বাসুলি, সামুদ্রিক বিভিন্ন মাছও এখন রেস্তরাঁয় গিয়ে দিব্যি খাচ্ছে বাঙালি। কিন্তু এ সবের থেকেও কি ছড়াতে পারে ভাইরাস?
করোনার আতঙ্ক ভোলা যায়নি। তার মধ্যেই আরও এক ভাইরাস নয়ে আতঙ্ক শুরু হয়েছে। চিনের খামারগুলিতে ছড়িয়েছে ভাইরাসটি। শুধু চিন নয়, এশিয়ার কিছু দেশ, আমেরিকাতেও হানা দিয়েছে এই ভাইরাস। ছড়াচ্ছে চিংড়ি, কাঁকড়ার মতো সামুদ্রিক প্রাণী থেকে। এই ভাইরাসের বিষে ভয়াবহ চোখের রোগে আক্রান্ত হয়েছেন অনেকে।
চিংড়ি-কাঁকড়া খেলে সাবধান
‘নেচার মাইক্রোবায়োলজি’ বিজ্ঞান পত্রিকায় নতুন ভাইরাসটি নিয়ে লেখালেখি হয়েছে। ভাইরাসটি অনেকটা ‘কোভার্ট মর্টালিটি নোডাভাইরাস’ (সিএমএনভি)-এর মতো। এই ভাইরাস জলজ প্রাণীর শরীরে জন্মায়। নতুন ভাইরাসটির সঙ্গে সিএমএনভি-র চরিত্রগত বৈশিষ্ট্য রয়েছে। গবেষকেরা এর নাম দিয়েছেন ‘শ্রিম্প ভাইরাস’। এই ভাইরাস চিংড়ি বা কাঁকড়া অথবা সামুদ্রিক কিছু মাছ থেকে ছড়াতে পারে বলে দাবি করা হয়েছে। গবেষকদের অনুমান, সামুদ্রিক মাছ বা চিংড়ি ভাল করে পরিষ্কার না করলে বা উচ্চতাপে রান্না করে না খেলে এই ভাইরাস ছড়াতে পারে। আধকাঁচা বা কাঁচা মাছ, কম সেদ্ধ করে রান্না চিংড়ি বা কাঁকড়া থেকে ভাইরাসের সংক্রমণ ঘটতে পারে খুব দ্রুত।
দৃষ্টিশক্তি কেড়ে নিতে পারে শ্রিম্প ভাইরাস?
চিনে বহু মানুষ চোখের রোগে আক্রান্ত। পরীক্ষা করে দেখা গিয়েছে, চোখের সংক্রামক রোগের জন্য যে যে ভাইরাস দায়ী, সেগুলি নয়, বরং নতুন এক রকম ভাইরাসের কারণেই চোখের অসুখ শুরু হয়েছে। ওই ভাইরাস চিংড়ি বা কাঁকড়া থেকে ছড়িয়েছে বলেই মনে করছেন গবেষকেরা। ভাইরাসের সংক্রমণে চোখ ফুলে লাল হয়ে যাচ্ছে, অনবরত জল পড়ছে এবং ধীরে ধীরে দৃষ্টি ঝাপসা হয়ে আসছে। শ্রিম্প ভাইরাস থেকে চোখের যে রোগ হচ্ছে তার নাম দেওয়া হয়েছে ‘পারসিসট্যান্ট অক্যুলার হাইপারটেনশন’। এই রোগে চোখের উপর চাপ এত বাড়ছে, যা চোখের স্ট্রোকের কারণও হয়ে উঠছে। গবেষকেরা জানাচ্ছেন, ভাইরাস চিহ্নিত করে সঠিক সময়ে চোখের চিকিৎসা শুরু না হলে দৃষ্টিশক্তি চলে যাওয়ার আশঙ্কাও রয়েছে।
সামুদ্রিক যে কোনও খাবার খেলে সতর্ক থাকার পরামর্শ দিচ্ছেন গবেষকেরা। ভাল করে পরিষ্কার না করলে বা আধকাঁচা খেলে তা থেকে এমন ভাইরাস ছড়াতে পারে খুব দ্রুত। যদি বাজার থেকে বরফে রেখে দেওয়া বা ফ্রোজেন ‘সি ফুড’ কেনেন, তা হলে খেয়াল করুন সেগুলি সঠিক ভাবে সংরক্ষণ করা হয়েছিল কি না। হিমায়িত খাবার কিনলে তার মোড়ক ভাল করে দেখে নিন। মেয়াদ উত্তীর্ণ হয়ে গেলে সেটি কিনবেন না।