সাবিনা ইয়াসমিন। ছবি: এক্স।
রাজ্যে সরকার পরিবর্তনের পর মুখ্যমন্ত্রী হিসাবে শুভেন্দু অধিকারী দায়িত্ব নিতেই একাধিক পুরনো ও থমকে থাকা মামলার ফাইল নতুন করে খুলতে শুরু করেছে। আরজি কর কাণ্ডের ঘটনার তদন্তে নতুন সরকারের তৎপরতা এবং তিন জন ‘হেভিওয়েট’ আইপিএস আধিকারিককে নিলম্বিত (সাসপেন্ড) করার পর এ বার নতুন করে আশার আলো দেখছে কালীগঞ্জের নিহত নাবালিকা তমন্নার পরিবারও। সোমবার নদিয়ার কৃষ্ণনগরে জেলা পুলিশ সুপারের সঙ্গে দেখা করে ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানালেন তমন্নার মা তথা সিপিআইএম নেত্রী সাবিনা ইয়াসমিন।
উল্লেখ্য, ২০২৩ সালে কালীগঞ্জ উপনির্বাচনের সময় বোমা হামলায় প্রাণ হারায় ১০ বছরের তমান্না। তার মায়ের অভিযোগ, কালীগঞ্জ উপনির্বাচনে তৎকালীন শাসকদল তৃণমূলের জয়ের পর আয়োজিত বিজয় মিছিল থেকে পূর্ব পরিকল্পিত ভাবে তাঁর বাড়ি লক্ষ্য করে বোমা ছোড়েন সেই দলের সমর্থকেরা। সেই মর্মান্তিক ঘটনায় তমন্নার মৃত্যু ঘিরে তোলপাড় হয় রাজ্য রাজনীতি। তৎকালীন সরকারের বিরুদ্ধে তদন্ত ধামাচাপা দেওয়ার অভিযোগ তুলেছিলেন বিরোধীরা। সম্প্রতি নবান্ন থেকে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী স্পষ্ট জানিয়ে দেন, আরজি কর কাণ্ডে তৎকালীন রাজ্য সরকারের ভূমিকা, ফোন রেকর্ড এবং হোয়াট্সঅ্যাপ চ্যাট— সবই তদন্তের আওতায় আনা হবে। মুখ্যমন্ত্রীর এই কড়া বার্তা নতুন করে আশার আলো দেখছে তমন্নার পরিবারের সদস্যরা। আরজি কর কাণ্ডে নির্যাতিতার মা তথা পানিহাটির বিজেপি বিধায়ক, তমন্নার মায়ের পাশে দাঁড়িয়ে বিষয়টি মুখ্যমন্ত্রীর নজরে আনার আশ্বাস দিয়েছেন।
সোমবার কৃষ্ণনগর জেলা পুলিশ সুপারের দফতরে গিয়ে স্মারকলিপি জমা দেন তমন্নার মা সাবিনা ইয়াসমিন। তাঁর সঙ্গে ছিল সিপিএমের এক প্রতিনিধি দল, যার নেতৃত্বে ছিলেন দলের রাজ্য কমিটির সদস্য এসএম সাদি। পুলিশ সুপারের সঙ্গে দেখা করে বেরিয়ে এসে সাবিনা বর্তমান মুখ্যমন্ত্রীর ভূমিকার প্রশংসা করে বলেন, “রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী যেভাবে আরজি কর কাণ্ডে মামলা নিয়ে তৎপরতা দেখিয়েছেন, তাতে তমান্না খুনের ন্যায্য বিচার ও সঠিক তদন্তের ব্যাপারে আমাদের মনে নতুন আশা তৈরি হয়েছে। আরজি করের পাশাপাশি আমার মেয়ের ফাইলটাও খোলা হোক। সেই সময় সরকার পুলিশকে স্বাধীনভাবে কাজ করতে দেয়নি। বহু অভিযুক্ত এখনও বাইরে ঘুরে বেড়াচ্ছে, অনেকেই গ্রেফতার হয়নি। তাই প্রভাবমুক্ত ও নিরপেক্ষ তদন্তের জন্য পুলিশ সুপারের কাছে আবেদন জানালাম।”
একই সুর শোনা গিয়েছে সিপিআইএম নেতা এসএম সাদির গলাতেও। তিনি স্পষ্ট জানান, তৎকালীন শাসকদলের প্রথম সারির নেতাকর্মীরা এই খুনের সঙ্গে জড়িত থাকায় তখন রাজ্য সরকার গোটা ঘটনাটি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করেছিল এবং পুলিশকে সঠিক তদন্ত করতে দেওয়া হয়নি। পুলিশ সুপারের কাছে পুনরায় তদন্তের আর্জি জানানোর পর দ্রুত সুবিচার মিলবে বলে আশাবাদী তাঁরা।