আরতির ডায়েট কেমন? ছবি: সংগৃহীত।
বিয়ের ছবিতে রোগা দেখাচ্ছে, না কি মোটা? বিয়ের অনুষ্ঠানের থেকে বেশি দুশ্চিন্তা ছবি নিয়েই থাকে কনেদের। বিশেষ করে বলিউড তারকারা এই প্রবণতায় ইন্ধন দিয়েছেন। কনেদের মনের ভিতরে ঠিক কী চলে, তাঁরা কী ভাবে নিজেদের প্রস্তুত করেন, তারই উদাহরণ হয়ে উঠলেন মুম্বইয়ের টেলি অভিনেত্রী আরতি সিংহ। সিনেমা বা ধারাবাহিকের পর্দায় কেমন দেখাচ্ছে, তার চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে বিয়ের ছবি ও ভিডিয়ো। এই ধারণা থেকেই বিয়ের আগে চেহারায় বড়সড় বদল এনেছিলেন আরতি। সে কথাই প্রকাশ করলেন সাম্প্রতিক সাক্ষাৎকারে।
বিয়ের আগে দ্রুত ওজন কমাতে কী না করা হয়! তারই এক চমকপ্রদ উদাহরণ তৈরি করেছেন আরতি। টানা ২৫ দিন ধরে রাতে শুধু লাউ খেয়ে থেকেছেন তিনি। আর তাতেই নাকি মাত্র ২৫ দিনে ৫ কিলো ওজন কমিয়ে ফেলেছেন তিনি! যদিও চটজলদি এ ভাবে ওজন কমানো আদৌ স্বাস্থ্যকর কি না, তা নিয়ে বিস্তর তর্ক রয়েছে। কিন্তু লাউয়ের উপকারিতাও অঢেল। ফলে ভাল-মন্দ, দুই দিকই রয়েছে এর। আরতি কী ভাবে লাউ-নির্ভর ডায়েট মেনে চলেছেন, তা জানা যাক বিস্তারিত।
প্রতি দিন নৈশভোজে আরতির পাতে শুধু লাউ থাকত। ছবি: ইনস্টাগ্রাম
অভিনেত্রীর কথায়, প্রতি দিন নৈশভোজে তাঁর পাতে শুধু লাউ থাকত। উপরন্তু, তাতে থাকত না কোনও ভারী মশলা। শুধু সামান্য নুন (রক সল্ট) আর ধনেপাতা দিয়ে সেদ্ধ করা। ব্যাস, আর কিছু নয়। সব কিছু প্রেশার কুকারে ভরে সেদ্ধ করে তার পর ভাল করে ঘেঁটে নিতেন। আরতির কথায়, ‘‘বিয়ে এক বারই করব, তাই ছবিতে রোগা দেখাতেই হত নিজেকে। আর সে কারণেই এই ডায়েট করেছি।’’ কিন্তু আপনি কি এই ডায়েট করে বিয়ের প্রস্তুতি নিতে পারবেন?
লাউ এমনিতেই কম ক্যালোরিযুক্ত একটি খাবার। তা মূলত জল ও ফাইবারে ভরপুর। তাই অনেকেই এই সব্জিকে ওজন কমানোর ডায়েটে রাখেন। কিন্তু এখানেই লুকিয়ে রয়েছে সমস্যার মূল। পুষ্টিবিদদের মতে, একটানা একই ধরনের কম ক্যালোরির খাবার খেলে ওজন কমবে স্বাভাবিক ভাবেই। কিন্তু সেটা স্বাস্থ্যকর বা দীর্ঘস্থায়ী হবে না।
কেন এই ধরনের ডায়েট স্বাস্থ্যকর নয়?
১. এই ধরনের ডায়েটে শরীরের প্রয়োজনীয় পুষ্টির ঘাটতি তৈরি হয়। প্রোটিনের পরিমাণ কম থাকে, স্বাস্থ্যকর ফ্যাট পাওয়া যায় না, ভিটামিন ও খনিজের অভাব দেখা দিতে পারে।
২. দ্রুত ওজন কমে যাওয়ার কারণ, শরীরে জলের ভাগ কমে যায়। কার্বোহাইড্রেট কম খেলে শরীর জল ধরে রাখতে পারে না। ফলে ওজন কমে যায়। কিন্তু ওজন কমলেও চর্বি না-ও কমতে পারে। পাশাপাশি, জল এবং পেশির ক্ষয়ের ফলে শরীর দুর্বল হয়ে যায় হঠাৎ করে।
৩. তা ছাড়া রোজ একঘেয়ে ডায়েট দীর্ঘ দিন চললে শরীরের উপর চাপ বাড়ে। ক্লান্তি ও দুর্বলতা, রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে যাওয়া, আয়রন ও ভিটামিন বি ১২-এর ঘাটতি দেখা দেওয়া, মাংসপেশি দুর্বল হয়ে পড়া, এমনকি বিপাকক্রিয়াও ধীর হয়ে যেতে পারে, ফলে পরে ওজন কমানো আরও কঠিন হয়ে ওঠে।
৪. এই ধরনের ডায়েটের সবচেয়ে বড় সমস্যা হল, এটি দীর্ঘ মেয়াদে টেকে না। একই খাবার বার বার খেতে খেতে বিরক্তি আসে। খাবারের প্রতি আকর্ষণ কমে যায়। হঠাৎ করে স্বাভাবিক খাদ্যাভ্যাসে ফিরলে অতিরিক্ত খাওয়ার প্রবণতা তৈরি হয়। ফলে আবার দ্রুত ওজন বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে।
তা হলে কী ভাবে ওজন কমালে তা স্বাস্থ্যকর হবে?
স্বাস্থ্যকর উপায়ে ওজন কমানোর জন্য দরকার ভারসাম্যপূর্ণ খাদ্যাভ্যাস। তার জন্য দানাশস্য, প্রোটিন, ফাইবার, স্বাস্থ্যকর ফ্যাট, বিভিন্ন সব্জি, কার্বোহাইড্রেট ভরা খাবার খেতে হবে। এর সঙ্গে নিয়মিত শরীরচর্চাও জরুরি। প্রতি সপ্তাহে সর্বোচ্চ ১ কেজি ওজন কমানোই নিরাপদ এবং সেটিকেই দীর্ঘস্থায়ী লক্ষ্য হিসেবে ধরা হয়।