Heatwave Alert

হিট স্ট্রোক না হার্ট অ্যাটাক? গরমে বাইরে বেরোলে হৃদ্‌রোগীদের যে লক্ষণগুলি দেখে সতর্ক হতে হবে?

দরদর করে ঘাম, শ্বাসকষ্ট হিট স্ট্রোক না-ও হতে পারে। হার্টের রোগীদের এই গরমে বাইরে বেরোলে সতর্ক থাকতেই হবে। কোন কোন লক্ষণ অবহেলা করলেই বিপদ?

Advertisement

আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক

শেষ আপডেট: ০৭ জুন ২০২৬ ১৩:৫৯
Share:

হার্টের রোগীরা গরমে কী কী লক্ষণ এড়িয়ে গেলে বিপদে পড়তে পারেন। গ্রাফিক: আনন্দবাজার ডট কম।

তাপমাত্রার পারদ চড়ছে। ভ্যাপসা গরম। সঙ্গে প্যাচপ্যাচে ঘাম। গরমে শরীর জলশূন্য হয়ে পড়ছে। এই সময়ে হিট স্ট্রোকের ঝুঁকি বাড়ে। কেবল দিনের বেলায় নয়, রাতেও হিটস্ট্রোকের আশঙ্কা প্রবল। বিশেষ করে যাঁরা জল কম খান, যাঁদের শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা দুর্বল অথবা হার্টের রোগ রয়েছে, তাঁদের ঝুঁকি বেশি। গরমের সময়ে বাইরে বেরোলে বিশেষ ভাবে সতর্ক থাকতে হবে হৃদ্‌রোগীদের। অতিরিক্ত ঘাম হওয়া অথবা শ্বাসকষ্ট সব ক্ষেত্রে হিট স্ট্রোকের লক্ষণ না-ও হতে পারে। চিকিৎসকেরা বলছেন, গরমের সময়ে হার্ট অ্যাটাকের আশঙ্কাও বাড়ে। তাই লক্ষণ এড়িয়ে গেলেই বড় বিপদ হতে পারে।

Advertisement

হৃদ্‌রোগীরা কোন কোন লক্ষণ দেখে সতর্ক হবেন?

অতিরিক্ত গরমে শরীরের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ করতে হৃৎপিণ্ড ও রক্তনালিকে অধিক পরিশ্রম করতে হয়। ত্বক দিয়ে তাপ বার করে দেওয়ার জন্য রক্তনালিগুলি প্রসারিত হয়, ফলে রক্ত সঞ্চালন স্বাভাবিক রাখতে হার্টকে অনেক দ্রুত এবং জোরে পাম্প করতে হয়। একই সঙ্গে অতিরিক্ত ঘাম হওয়ার কারণে শরীরে জলের পরিমাণ কমতে থাকে, যার ফলে রক্তচাপ আচমকা বেড়ে গিয়ে হৃৎস্পন্দন অনিয়মিত করে দিতে পারে। হার্ট অ্যাটাক হওয়ার আশঙ্কা বহুগুণে বেড়ে যায়। এই সময়ে কিছু লক্ষণ দেখা দিতে থাকে, যেগুলি খেয়াল করা খুব জরুরি।

Advertisement

১) শরীর থেকে দ্রুত জল ও লবণ বেরিয়ে যাওয়ার কারণে হার্টের উপর চাপ বাড়ে এবং ত্বক ফ্যাকাশে দেখায়।

২) দরদর করে ঘাম হতে থাকে, সঙ্গে মারাত্মক শ্বাসকষ্ট দেখা দেয়। রোগীর মনে হয় যে, দমবন্ধ হয়ে আসছে।

৩) জলশূন্যতার কারণে রক্তচাপের হেরফের হতে থাকে, ফলে মস্তিষ্কে ঠিকমতো রক্ত সঞ্চালিত হতে পারে না। হার্টের রোগীদের জন্য এই পরিস্থিতি অত্যন্ত বিপজ্জনক হতে পারে। মাথা ঘোরা, তীব্র মাথা যন্ত্রণা, জ্ঞান হারিয়ে ফেলার মতো লক্ষণ দেখা দিলে সতর্ক হতে হবে।

৪) বুক ধড়ফড় করা, অস্বাভাবিক দ্রুত হার্টবিট হওয়া হার্টের উপর অতিরিক্ত চাপের লক্ষণ।

৫) প্রচণ্ড ক্লান্তি বোধ করা, হাত-পায়ের পেশিতে টান ধরা, পা অবশ হয়ে আসা হৃদ্‌রোগের লক্ষণ হতে পারে। অনেক সময়ে পায়ের পেশিতে মরাত্মক টান ধরে রোগীর, ধীরে ধীরে পা অসাড় হতে শুরু করে। এমন লক্ষণ দেখা দিলে, সতর্ক হতে হবে।

৬) বুকে আচমকা যন্ত্রণা শুরু হওয়া, সেই সঙ্গে বমি ভাব, অ্যাসিড রিফ্লাক্সের মতো গলা-বুকে জ্বালাও হার্ট অ্যাটাকের লক্ষণ হতে পারে।

৭) রোগী যদি অসংলগ্ন কথাবার্তা বলতে থাকেন, তাঁর দৃষ্টি ঝাপসা হয়ে আসে, তা হলে দেরি না করে চিকিৎসকের কাছে যেতে হবে।

হিট স্ট্রোক ও হার্ট অ্যাটাকের লক্ষণে পার্থক্য আছে

হিট স্ট্রোক হলে শরীরের তাপমাত্রা শরীরের তাপমাত্রা ১০৩ বা ১০৪ ডিগ্রি ফারেনহাইটে পৌঁছে যাবে, শরীর প্রচণ্ড গরম হয়ে উঠবে, ঘাম হওয়া বন্ধ হয়ে যাবে।

হার্ট অ্যাটাক হলে দরদর করে ঘাম হবে, বুকের ঠিক মাঝখানে প্রচণ্ড চাপ অনুভব করবেন রোগী, ভারী কিছু চেপে বসার মতো ব্যথা হবে। বুকের এই অস্বস্তি বা ব্যথা চোয়াল, ঘাড়, পিঠ, হাত অবধি ছড়িয়ে পড়বে।

হিট স্ট্রোক ও হার্ট অ্যাটাক, দুই ক্ষেত্রেই বিভ্রান্তি, মাথা ঘোরা, মাথা ব্যথার উপসর্গ দেখা দেয়। তবে হার্ট অ্যাটাক হলে রোগীর শ্বাসকষ্ট শুরু হবে, দমবন্ধ হয়ে আসবে এবং দৃষ্টি ঝাপসা হতে শুরু করবে। সেই সঙ্গে হাত-পা অসাড় হতে শুরু করবে।

গরমে বাইরে বেরোলে হার্টের রোগীরা কী কী সাবধানতা নেবেন?

সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৪ টে পর্যন্ত, যখন রোদের তেজ সবচেয়ে বেশি থাকে, তখন বাইরে না বেরোনোই ভাল।

জল পর্যাপ্ত খেতে হবে। তবে হার্ট অ্যাটাক আগে যাঁদের হয়ে গিয়েছে এবং ওষুধ খেতে হয় নিয়মিত, তাঁরা কতটা জল খাবেন তা অবশ্যই চিকিৎসকের থেকে জেনে নেবেন।

বাইরে বেরোলে হালকা রঙের এবং ঢিলেঢালা সুতির পোশাক পরুন। রোদ থেকে বাঁচতে ছাতা, টুপি সঙ্গে রাখতে হবে।

ভরদুপুরে কোনও ভারী কাজ করবেন না, প্রতি দিনের হাঁটার অভ্যাস থাকলে তা একদম ভোরে অথবা সন্ধ্যার পর করুন। শরীরে অস্বস্তি হলে স্নান করে নিন। সম্ভব হলে এসি চালিয়ে রাখুন।

গরমে যদি বুকে ব্যথা, তীব্র শ্বাসকষ্ট বা অজ্ঞান হওয়ার মতো ঘটনা ঘটে, তবে রোগীকে দ্রুত কোনও ঠান্ডা ঘরে নিয়ে যান। জামাকাপড় আলগা করে দিন। ভেজা তোয়ালে দিয়ে মুখ ও ঘাড় মুছে দিন। যদি ৩০ মিনিটের মধ্যে অবস্থার উন্নতি না হয়, তবে এক মুহূর্ত সময় নষ্ট না করে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়াই ভাল।

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement