রজোনিবৃত্তির মতো দশা কি হয় পুরুষেরও? গ্রাফিক: আনন্দবাজার ডট কম।
মেনোপজ় মহিলাদের হয়। বয়স পঞ্চাশের কাছাকাছি পৌঁছলে স্বাভাবিক উপায়েই ঋতুস্রাব বন্ধ হয়ে যায়। সে সঙ্গে মহিলাদের দুই হরমোন ইস্ট্রোজেন ও প্রোজেস্টেরনের পরিমাণ কমতে থাকে। নারীরা প্রজননের ক্ষমতা হারিয়ে ফেলেন। এই পর্বটিকে চিকিৎসাবিজ্ঞানে রজোনিবৃত্তি বলা হয়। পুরুষদের ক্ষেত্রে তেমনটা ঘটে না, তবে তাঁদেরও এক বিশেষ প্রকার শারীরিক অবস্থার মধ্যে দিয়ে যেতে হয় যাকে বলে অ্যান্ড্রোপজ়। এই পর্বে পুরুষের শুক্রাণুর মান ও সংখ্যা কমতে থাকে। পুরুষ হরমোন টেস্টোস্টেরন তার ক্ষমতা হারাতে থাকে। ফলে প্রজনন ক্ষমতা পুরোপুরি হারিয়ে না গেলেও, নানাবিধ শারীরিক সমস্যা দেখা দিতে থাকে।
অ্যান্ড্রোপজ় দশা কখন আসে?
পুরুষদের ক্ষেত্রে টেস্টোস্টেরনের স্তর সর্বাধিক থাকে ২০ বছর পর্যন্ত। এবং তার পর থেকে সেটি ধীরে ধীরে এক শতাংশ করে কমতে থাকে। দেশের ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অফ হেল্থ থেকে প্রকাশিত এক গবেষণাপত্রে বলা হয়েছে, টেস্টোস্টেরন কমতে থাকে চল্লিশের পর থেকে। সাধারণত দেখা যায়, পঞ্চাশ বছরের কাছাকাছি পৌঁছে পুরুষেরও অ্যান্ড্রোপজ় দশা শুরু হয়ে যায়। যদিও এই সময় যৌনক্রিয়ায় কিন্তু তাঁরা অনেকেই অপারগ হন না।
অ্যান্ড্রোপজ়-এর লক্ষণগুলি এক এক জনের ক্ষেত্রে এক এক রকম হতে পারে। তিন ধরনের লক্ষণ দেখা দেয়— ১) যৌনক্রিয়ার ইচ্ছা কমে যায় ২) ইরেকটাইল ডিসফাংশন হয় অনেকের ৩) ডায়াবিটিসে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা বাড়ে। আরও কিছু সমস্যা দেখা দিতে থাকে, যেমন ক্লান্তি বাড়ে। ভুলে যাওয়ার সমস্যা দেখা দিতে থাকে। এই সময়ে কর্টিসল হরমোনের ক্ষরণ বেড়ে যায়, ফলে মানসিক চাপের পাশাপাশি ডিমেনশিয়া বা স্মৃতিনাশের ঝুঁকি বাড়ে। রাতে ঠিকমতো ঘুম হয় না। ঘন ঘন মেজাজ বদলাতে থাকে।
টেস্টোস্টেরন কমলে হার্টের রোগও হতে পারে
মহিলাদের যেমন ইস্ট্রোজেন হরমোন সর্বেসর্বা। যে কোনও শারীরিক ক্রিয়াকলাপে তার ভূমিকা থাকে। পুরুষদেরও তেমন টেস্টোস্টেরন হরমোন। শরীরের গঠন থেকে শুরু করে পেশির শক্তি, প্রজনন ক্ষমতা এই হরমোনের উপরেই নির্ভরশীল। কাজেই পুরুষের অ্যান্ড্রোপজ় দশায় টেস্টোস্টেরন হরমোনের মাত্রা কমতে থাকলে শরীরও ভাঙতে থাকে ধীরে ধীরে। শরীরের নানা অংশের পেশি দুর্বল হয়ে পড়ে। হার্টের পেশির কার্যক্ষমতাও কমে যেতে পারে। সে ক্ষেত্রে অ্যান্ড্রোপজ় দশা দীর্ঘস্থায়ী হলে হার্টের রোগের ঝুঁকি বেড়ে যেতে পারে। সেই সঙ্গে শুক্রাণুর মানও কমতে থাকে।
অ্যান্ড্রোপজ় দশা সব পুরুষের জীবনেই আসে। তবে জীবনযাত্রার মান বদলে সে পর্বটিকে দ্রুত অতিক্রম করা যায়। চিকিৎসকেরা পরামর্শ দেন, চল্লিশের পর থেকে নিয়মিত শারীরচর্চা জরুরি। মদ্যপান ও ধূমপানের মাত্রা কমিয়ে দিতে হবে। যাঁরা স্থূলকায়, তাঁদের কমাতে হবে ওজন। তবে তার পরেও যদি সমস্যা থাকে, তবে তাঁদের ইঞ্জেকশন আকারে টেস্টোস্টেরন সাপ্লিমেন্ট দেওয়া হয়। পরিবারে হার্টের রোগের ইতিহাস থাকলে আরও বেশি সতর্ক হতে হবে। সময়ান্তরে হার্টের পরীক্ষা করিয়ে নেওয়াও জরুরি।